এমন একটি মারাত্মক সংক্রমণের কথা কল্পনা করুন, যা কিনা আপনাকে ব্যথার জন্য প্রতিরোধী করে তোলে। যখন আপনি বুঝতে পারবেন সংক্রমিত হয়েছেন, ততক্ষণে দেখা যাবে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ততদিনে আপনি এটি অনেক জায়গায় ছড়িয়ে দিয়েছেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বলছে, এ কারণে সার্স-কোভ-২ মানুষের মাঝে বিস্তৃতভাবে সংক্রমিত হচ্ছে। অনেকে এ রোগটি ছড়াচ্ছে না জেনেই।
আমার গবেষণা দল নির্দিষ্ট সেলুলার প্রোটিনের সঙ্গে ব্যথার সংযুক্তিকে উন্মোচন করার বিষয়ে কাজ করেছে—এটি একটি মিথস্ক্রিয়া, যা করোনাভাইরাস দ্বারা ব্যাহত হয়েছে। আমাদের সেই গবেষণাটি এখন পিয়ার রিভিউ করা হয়েছে এবং ‘পেইন’
নামক জার্নালে প্রকাশিত হবে।
একজন বিজ্ঞানী হিসেবে আমি গবেষণা করি কীভাবে কোষের প্রোটিন ব্যথাকে জাগ্রত করে তা নিয়ে, যা কিনা মস্তিষ্কের মাধ্যমে শরীরে চালিত হয়। যখন এসব প্রোটিন সক্রিয় থাকে, স্নায়ুকোষগুলোর পরস্পরের সঙ্গে সংকেত আদান-প্রদান করে। এ আলাপন সংঘটিত হয় দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার বধিরকরণ স্তরে। তাই কী কারণে স্নায়ুকোষের উত্তেজনা বদলে যায়, তা গবেষণা করে আমরা কীভাবে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা শরীরে বাসা বাঁধে তা বুঝতে পারি। এটি আমাদের এমন উপায়ের নকশা করার অনুমতিও দেয়, যার ফলে আমরা কোষের এ আলাপটিকে বন্ধ করে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাকে থামাতে পারি।
আপনারা অবাক হবেন কীভাবে ল্যাবে সার্স-কোভ-২ এবং ব্যথার মাঝে সম্পর্ক প্রমাণের বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছিল। আমরা অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম প্রিপ্রিন্ট সার্ভারে প্রকাশিত দুটি প্রাথমিক রিপোর্ট দ্বারা। যেখানে দেখা গিয়েছিল সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের পৃষ্ঠের স্পাইক প্রোটিন নিউরোপিলিন-১ নামক প্রোটনের সঙ্গে আবদ্ধ। এর অর্থ ভাইরাস এ প্রোটিন ব্যবহার করতে পারে স্নায়ুকোষকে আক্রমণ করার জন্য। পাশাপাশি এসিই২ প্রোটিনের মাধ্যমেও তা করতে পারে।
মহামারী শুরুর ছয় মাস আগে আমি এবং আমার সহকর্মীরা কাজ করছিলাম ব্যথার দৃষ্টিকোণ থেকে নিউরোপিলিন-১-এর ভূমিকা নিয়ে। কারণ এটি এসিই২ রিসিপ্টরের মতো স্পাইককে কোষে প্রবেশের অনুমতি দেয়। আমরা ভাবলাম এ বিকল্প পথটিও যদি ব্যথার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। স্বাভাবিক অবস্থায় নিউরোপিলিন-১ প্রোটিন রক্তনালির বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং নিউরনের বৃদ্ধি ও টিকে থাকাকেও। যা-ই হোক, যখন নিউরোপিলিন-১ আবদ্ধ হয় ভাসকুলার এনডোথেলিয়াল গ্রোথ ফ্যাক্টর এ (ভিইজিএফ-এ)-এর সঙ্গে, এটি ব্যথার সংকেতকে চালিত করে। এ সংকেত স্পাইনাল কর্ডের মাধ্যমে মেরুদণ্ডের উচ্চ সেন্টারে সংক্রমিত হয়, যার ফলে আমাদের মাঝে ব্যথার সৃষ্টি হয়।
এদিকে আমার ল্যাবের ভিট্রো গবেষণায় স্নায়ুকোষ ব্যবহার করে দেখা গেছে, যখন স্পাইক প্রোটিন নিউরোপিলিন-১-এর সঙ্গে আবদ্ধ হয় তখন ব্যথার সংকেত হ্রাস পায়। যা বলছে, জীবন্ত প্রাণীদের মাঝেও এ ব্যথা হ্রাসকারী প্রভাব থাকতে পারে।
লেখক: ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনোর ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক
দ্য প্রিন্ট থেকে সংক্ষেপে অনূদিত





