দীর্ঘদিন লকডাউন শেষে অনেক দেশে আর্থসামাজিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। লকডাউন শিথিলের পর সংক্রমণ কিছুটা বাড়লেও অর্থনৈতিক ধস মোকাবেলায় দেশগুলো সবকিছু খোলা রাখতে বাধ্য হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজেই নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আপনি যদি বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে চান, তাহলে আপনি কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদে যোগাযোগ করতে পারবেন।

বিষয়টি নিয়ে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের জনস্বাস্থ্য গবেষক ডা. আবরার কারান বলেন, আমি সবাইকে বলব, সবকিছু খুলে দেয়ার মানে এই নয় যে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভাইরাস এখনো আছে এবং প্রতিটি সামাজিক মিথস্ক্রিয়া ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়া এবং ছড়িয়ে দেয়ার একটি সুযোগ।

তিনি বলেন, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া শুরু করার ক্ষেত্রে ইনডোরের চেয়ে আউটডোর কম ঝুঁকিপূর্ণ। আর ছয় ফুট দূরত্ব মেনে চলা ঝুঁকি হ্রাস করার মূল চাবিকাঠি। যদিও ভাইরাসটি ছয় ফুটেরও বেশি দূরে সংক্রমণ করতে পারে, তবে বাড়ির বাইরে হলে ড্রপলেটগুলো বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়ে ঝুঁকি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর বাইরে বায়ু প্রবাহিত হলে ড্রপলেটগুলো সম্ভবত আরো ছড়িয়ে যায়।

এছাড়া উচ্চস্বরে কথা বলা ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করেন ডা. কারান। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনে শারীরিক যোগাযোগ না করেও গির্জার ধর্মীয় সংগীত গায়কদের মধ্যে সংক্রমণ এ সন্দেহকে দৃঢ় করে।

আপনি যদি বন্ধুদের বাড়িতে দাওয়াত করতে চান, তবে ঝুঁকি সম্ভবত বাড়িয়ে তুলবেন। কারণ বদ্ধ স্থানে ড্রপলেটগুলো কিছু সময় বাতাসে ভেসে বেড়াতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার পাশাপাশি আপনি আপনার বন্ধুদেরও ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছেন। তার পরও যদি আপনার কোনো বন্ধুকে বাড়ির ভেতরে নিয়ে আসেন, তাহলে পরবর্তী সময়ে তার স্পর্শ করা জিনিসগুলোকে জীবাণুমুক্ত করতে ভুলবেন না।

বিবিসি