পরবর্তী মহামারী নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করতে বাদুড়ের গুহায় অনুসন্ধান চালাতে হয় ভাইরাস শিকারিদের। এরই অংশ হিসেবে তাদের একটি দল চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমের ইউনান প্রদেশের চুনাপাথরের গুহাগুলোতে সন্ধান করে। ২০১৩ সালের অনুসন্ধানে চীনের গুহা থেকে এমনই একটি ভাইরাস পাওয়া গিয়েছিল, যা কভিড-১৯-এর পূর্বপুরুষ ছিল বলে ধারণা করা হয়।

অনুসন্ধানে ভাইরাস শিকারিদের বিশেষ সতর্কতা বজায় রাখতে হয়। গুহায় প্রবেশের আগে তারা প্রত্যেকে ত্বকের প্রতিটা ইঞ্চি ঢাকতে হ্যাজমাট স্যুট, ফেস মাস্ক ও ঘন গ্লাভস পরেন এবং গুহার প্রবেশদ্বারে জাল দিয়ে রাখেন। তারপর হেডলাইট সজ্জিত হয়ে গুহায় প্রবেশ করে তারা সন্ধ্যা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করেন। সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে কয়েক হাজার বাদুড় খাবারের সন্ধানে গুহা থেকে বের হয় এবং জালে আটকা পড়ে। এরপর তারা জালগুলো গুছিয়ে নেন এবং সতর্কভাবে হালকা অ্যানেসথেটিক দিয়ে বাদুড়গুলোকে ঘুম পাড়িয়ে দেন।

নতুন ভাইরাস ও মহামারী শনাক্তকরণ বিশেষজ্ঞ আমেরিকান এনজিও ইকোহেলথ অ্যালায়েন্সের সভাপতিত্ব করা পিটার দাশাক বলেন, আমরা বাদুড়ের মুখ থেকে লালা ও বিষ্ঠা সংগ্রহ করি।

ভাইরাস শিকারি দাশাক গত ১০ বছরে ২০টিরও বেশি দেশে ভ্রমণ করেছেন এবং বাদুড়ের গুহাগুলোতে অনুসন্ধান করে পরবর্তী বড় মহামারী প্রতিরোধের চেষ্টা করেছেন। বিশেষভাবে নতুন করোনাভাইরাস। দাশাকের মতো ভাইরাস শিকারিরা সব পরিচিত প্রাণীর ভাইরাসগুলোর তথ্য একটি মুক্ত গ্রন্থাগারে সরবরাহ করেন। এটা থেকে বিজ্ঞানীরা অনুমান করতে পারেন কভিড-১৯-এর মতো নতুন কোনো মহামারী মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, আমরা দেড় হাজারের বেশি বাদুড় থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছিলাম, যা থেকে প্রায় ৫০০টি নতুন করোনাভাইরাস শনাক্ত করা যায়। এর মধ্যে একটি ২০১৩ সালে চীনের একটি গুহায় পাওয়া গিয়েছিল, যা কভিড-১৯-এর সম্ভাব্য পূর্বপুরুষ ছিল।

সিএনএন