কভিড-১৯-এর বিভিন্ন মারাত্মক লক্ষণের মধ্যে কিছু আছে অদ্ভুত ধরনের স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া। এগুলো কিছুটা রহস্যময়ও। কভিড-১৯ আক্রান্তদের ক্ষেত্রে প্রথম যে অদ্ভুত লক্ষণটির কথা জানা যায় সেটি হলো হঠাৎই ঘ্রাণ ও স্বাদের অনুভূতি হারিয়ে যাওয়া। সঙ্গে আছে স্ট্রোক, মস্তিষ্কের ফুলে যাওয়া (এনসেফ্যালাইটিস)।
কভিড-১৯ আক্রান্ত অনেক রোগী বেশকিছু মানসিক-স্নায়বিক লক্ষণে ভুগছেন, যেমন—বিভ্রান্তি, প্রলাপ বকা, ঝিমঝিম ভাব এবং মনোযোগ দিতে না পারা। গত বেশ কয়েক মাস ধরে চিকিৎসক-বিজ্ঞানীরা কভিড-১৯ রোগটিকে বুঝতে চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি দুজন নিউরোলজিস্ট মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে কীভাবে কভিড ব্যাহত করছে সে বিষয়ে একটি গবেষণা পর্যবেক্ষণ চালিয়েছেন। একে ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাম বা সংক্ষেপে ইইজি বলা হয়। এতে মানুষের খুলিতে ইলেকট্রোড ব্যবহার করে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের ইলেকট্রিক্যাল কর্মকাণ্ড রেকর্ড করা হয়।
আলোচ্য গবেষণায় গবেষকরা ৮৪টি পিয়ার রিভিউড এবং অন্যান্য গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফলকে বিশ্লেষণ করেছেন। এতে ইইজি ওয়েবফর্ম ডাটা ছিল।
কভিড-১৯ রোগীদের ইইজি থেকে তাদের মস্তিষ্কের কর্মকাণ্ডে অস্বাভাবিকতা পাওয়া গেছে। সবচেয়ে সাধারণ যে অস্বাভাবিকতা পাওয়া গেছে সেটি হলো মস্তিষ্কের ওয়েভ ধীর হয়ে যাওয়া, মানে মস্তিষ্কের কাজে শ্লথভাব। এটি ঘটে সম্ভবত বিস্তৃত প্রদাহের কারণে। কভিডের প্রতিক্রিয়ায় হূিপণ্ড ও ফুসফুস দুর্বল হয়ে গেলে মস্তিষ্কে হয়তো রক্তপ্রবাহ কমে যায় আর তাতেই মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ধীর হয়ে যায়।
মস্কিষ্কের যেসব অস্বাভাবিকতা পাওয়া গেছে তার এক-তৃতীয়াংশই ফ্রন্টাল লোবে। মস্তিষ্কের এ অংশেই চিন্তা করার কাজ সম্পন্ন হয়—যুক্তি দিয়ে ভাবা কিংবা সিদ্ধান্ত নেয়া। এছাড়া এ ফ্রন্টাল লোব আমাদের আবেগ, ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া, শেখার ক্ষমতা ও মনোযোগও পরিচালিত হয় ফ্রন্টাল লোব থেকে।
গবেষণার লেখক ও হাস্টনের বেলর কলেজ অব মেডিসিনের নিউরোলজিস্ট জুলফি হানিফ বলেন, ‘এ গবেষণার ফলাফল বলছে আরো বিস্তৃত পরিসরে কভিড আক্রান্ত রোগীদের ইইজি করানো প্রয়োজন। এছাড়া মস্তিষ্কের ইমেজিং যেমন এমআরআই বা সিটি স্ক্যানও করা প্রয়োজন। এতে আমরা রোগীর ফ্রন্টাল লোবের পরিস্থিতিটি বুঝতে পারব।’
বর্তমান গবেষণা এটা এখনো জানাতে পারেনি যে আক্রান্তদের কত শতাংশ মস্তিষ্কের সমস্যায় ভুগছেন। কারণ এতে সীমিতসংখ্যক রোগীরই ইইজি করানো হয়েছে। আর গবেষণায় শুধু ইইজি করানোদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে গবেষণাটি প্রমাণসহ দেখাচ্ছে যে করোনাভাইরাস মানুষের স্নায়বিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে। জুলফি হানিফ বলেন, ‘আরো গবেষণা প্রয়োজন। গবেষণা বলছে এক্ষেত্রে আমাদের আরো মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন। ইইজিতে মনে হচ্ছে কভিড-১৯ আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ফ্রন্টাল লোবের অস্বাভাবিকতা অনেক রোগীর মধ্যেই আছে।
সিজার: ইউরোপিয়ান জার্নাল অব এপিলেপসি





