‘বাঁচার শূন্য সম্ভাবনা’—চিকিৎসকদের এমন ঘোষণার পর মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়ে থাকা স্বামীকে শেষবারের মতো দেখার অনুমতি পান এক নারী।
কিন্তু শেষবার নয়, আরো বহুবার তিনি স্বামীকে দেখতে পারবেন।
কভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিজয়ী হয়েছেন ওই নারীর স্বামী।
ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ১১ সপ্তাহের কঠিন সংগ্রাম শেষে তিনি বাড়ি ফিরছেন।
কার্ডিফের ৪৯ বছর বয়সী সুয়ে মার্টিন জানান, তার স্বামী, ৫৮ বছর বয়সী ম্যাল, সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে আছেন।
গত ২৯ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি হন একটি রিক্রুটমেন্ট ফার্মের চেয়ারম্যান ম্যাল।
মাঝের এই সময়ে ১১ সপ্তাহ আইসিইউতে ছিলেন তিনি, যার বেশির ভাগ সময়ই শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য নিতে হয়েছে ভেন্টিলেটরের সাহায্য।
গত এপ্রিলে এক সাক্ষাত্কারে সরকারি চাকরিজীবী সুয়ে বলছিলেন, শেষ দেখার জন্য তিনি ও তার দুই সন্তান হানা (১৬) ও উইলিয়ামকে (১৪) ‘বিদায়’ বলতে ১০ মিনিটের সময় দেয়া হয়।
এ সময় তারা সবাই পিপিই পরিহিত ছিলেন।
সেই মানুষটি দু-একদিনেই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে ফিরবেন বাড়িতে! যদিও ভাইরাসের কারণে শরীরের ওপর দিয়ে বিরাট ধকল যাওয়ায় কিছু আঙুল হারাতে পারেন ম্যাল, লাগতে পারে দীর্ঘস্থায়ী ডায়ালাইসিসও।
সুয়েকে জানানো হয়েছে, তার স্বামীর শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা হতে পারে বহু বছর, হ্যালুসিনেশনও ঘটতে পারে।
সুয়ে জানান, ম্যালের অবিশ্বাস্য সেরে ওঠায় চিকিৎসকরাও বিস্মিত।
তার কথায়, ‘হাসপাতালের প্রত্যেকেই বলেছেন, ম্যালের বাঁচার আশা তারা করেন না।
আমাদের বলা
হয়, মৃত্যুর কাছাকাছি চলে যাওয়া ম্যাল নিথর হয়ে
শুয়ে আছেন।’
ম্যালের সম্ভাব্য অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নিয়েও কথা বলছিলেন সুয়ে ও তাদের সন্তানরা।
সুয়ে বলেন, ‘যেমন আশাহীন অবস্থায় ছিলাম এবং এখন তাকে বাড়িতে নিয়ে আসার কথা বলছি, আমরা ঠিক বিশ্বাস করতে পারছি না।
আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ।’
গার্ডিয়ান





