কভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠা মানুষের রক্তরস দিয়ে আক্রান্তদের চিকিৎসা করার কাজ শুরু করেছে বেশ কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইতালি অন্যতম। পরীক্ষামূলকভাবে তারা এই চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করছে। তবে এর মধ্যে সফলতার দৃষ্টান্ত এলো দক্ষিণ কোরিয়া থেকে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সিভিয়ারেন্স হসপিটাল গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, তাদের দুই জন রোগী রক্তরস চিকিৎসায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। এর মধ্যে একজন রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে কোরিয়ান মেডিক্যাল সায়েন্স জার্নালের সর্বশেষ প্রকাশিত সংস্করণে।

ছয় দিন আগে দক্ষিণ কোরিয়ার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) করোনার রোগীর চিকিৎসায় সেরে ওঠাদের রক্তরস ব্যবহারের ঘোষণা দেয়। এ চিকিৎসা পদ্ধতির মূল কৌশলটি হলো, কভিড-১৯ থেকে যারা সেরে ওঠেন তাদের শরীরে নভেল করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা অর্থাৎ অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। রক্তরসে সেই অ্যান্টিবডি থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে এই রক্তরস প্রবেশ করানোর মাধ্যমে দ্রুত সারিয়ে তোলা সম্ভব।

কোরিয়ার ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রক্তরস চিকিৎসায় সেরা ওঠা দুই ব্যক্তির একজন ৭১ বছরের বৃদ্ধ, অন্যজন ৬৭ বছরের নারী। তাদের অবস্থা ছিল সঙ্কটাপন্ন।

কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার আগে বৃদ্ধের কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল না। তাকে অ্যান্টি ভাইরাল ওষুধ দেয়া হয়েছিল কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত দুটি ফুসফুসই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। রক্তরস চিকিৎসাই ছিল তার জন্য শেষ আশ্রয়।

বছর কুড়ির এক ব্যক্তি যিনি সম্প্রতি কভিড-১৯ থেকে সের উঠেছেন তার শরীর থেকে ৫০০ মিলিলিটার রক্তরস নেয়া হয় এবং ১২ ঘণ্টা সময় নিয়ে ওই রোগীর শরীরে প্রবেশ করানো হয়। পাশাপাশি স্টেরয়েডও দেয়া হয়েছিল। এর দুই দিন পরই তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করে।

আর ওই নারীর ছিল উচ্চ রক্তচাপ। হাসপাতালে আনার সময়ই তিনি গুরুতর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন এবং শ্বাসকষ্ট ছিল। প্রাথমিকভাবে তাকে ম্যালেরিয়ার ওষুধ এবং এইডসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ দেয়া হয়। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। তাকেও ১২ ঘণ্টায় ৫০০ এমএল রক্তরস দেয়া হয় এবং দ্রুতই তার অবস্থার উন্নতি ঘটতে শুরু করে।

ওই দুই রোগীর চিকিৎসা করেছেন ডাক্তার চই জুন ইয়ং। তিনি বলেন, রক্তরস চিকিৎসার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে এবং এটির কার্যকারিতা এখনো প্রমাণিত নয়। কিন্তু এই দুটি ঘটনায় বলা যায় ভ্যাকসিন এবং প্রমাণিত চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত সঙ্কটাপন্ন রোগীদের জন্য প্লাজমা থেরাপির আশ্রয় নেয়া যেতে পারে।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার করোনা রোগীদের চিকিৎসায় রক্তরস ব্যবহারের বিষয়ে একটি গাইডলাইন তৈরি করছে। কোরিয়ান সিডিসির উপপরিচালক কুন জুন উক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কয়েকদিনের মধ্যেই এ গাইডলাইন উন্মুক্ত করা হবে।

অবশ্য ভাইরাসজনিত রোগের চিকিৎসায় রক্তরস ব্যবহার দক্ষিণ কোরিয়ায় এটিই প্রথম নয়। ২০১৫ সালে মার্স ভাইরাস সংক্রমণের সময় এদেশে নয়জন রোগী রক্তরস চিকিৎসায় সেরে উঠেছিলেন। চীনও এ চিকিৎসায় সফল হয়েছে বলে জানিয়েছে।

সূত্র: কোরিয়া টাইমস