তানভীর (ছদ্মনাম) দেশের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী। গত ১৮ মার্চ সারাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো তার বিশ্ববিদ্যালয় করোনা সংক্রমণ রোধ করার জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তারপর সে তার নিজ গ্রামের বাড়ী চলে যান। প্রথম কিছুদিন একাডেমিক চাপের বাইরে বাড়ীতে আত্মীয় পরিজনের কাছাকাছি থাকায় ভাল লাগলেও , এখন  আর সারাদিন ঘরে বসে থাকতে থাকতে ভাল লাগেনা । সে সারাদিন মনমরা হয়ে বসে থাকেন। চারদিকে করোনা রুগী হু হু করে বেড়ে যাচ্ছে এসব দেখে তার চিন্তাও দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। নানা বিষয় মাথার মধ্যে ঘুরপাক খায়। কবে ক্যাম্পাস খুলবে, লেখাপড়া শেষ হবে! অনার্সেই শিক্ষাজীবন থেকে দুইবছর শেষ। এখনো রেজাল্ট হয়নি। মাস্টার্স কবে শেষ হবে জানেনা। আর পড়াশোনা শেষ হলেই বা কি? চাকুরী কি পাবে! 

পত্রিকার পাতায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার প্রধানসহ অর্থনীতিবিদদের লেখা পড়ে জেনেছে আগামী কয়েকবছরে প্রচুর মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে বলে তাঁরা মত প্রকাশ করেছেন। তাই সবসময় একটি চিন্তাই কাজ করে পড়া শেষ হলেও কি লাভ হবে? চাকরি তো মনে হয় আর পাবোনা। আবার মনে হয় ধুর এতসব ভেবে কী হবে বেচে থাকব তো? বৃদ্ধ বাবা-মার কথা ভেবে তার মন খারাপ হয়, বন্ধুদের কথা মনে পড়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা মনে পড়ে এসবকিছু ভাবতে সে চলে যায় হতাশার সাগরে। সারাদিন সে টেলিভিশন, ফেসবুক, ইউটিউবে করোনার  সংবাদ দেখে আর তার আতঙ্ক-চিন্তা দিন দিন বাড়তেই থাকে।

আসলে তানভীরের মতো ছাত্রছাত্রীদের অনেকের অবস্থাই এখন একইরকম। আমি মনে করি শুধুমাত্র ছাত্রছাত্রীরাই নয় যারা অর্থনৈতিক দিক থেকে পিছিয়ে আছে, দিন আনে দিন খায় কিংবা বেকার ভবঘুরে। ছাত্র-ছাত্রী, কর্মহীন বেকার অবস্থায় দিনরাত বাসায় থাকার কারনে এখন অধিকাংশ মানুষই মানসিকভাবে কিছুটা বিপযর্স্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞগণ আমাদের বার বার সতর্ক করে যাচ্ছেন আমরা যেন কোন ভাবেই হতাশাগ্রস্থ আতঙ্কগ্রস্থ না হয়ে পড়ি কারন আতঙ্কিত হলেই আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে। করোনার কারনে সব শ্রেণির মানুষ এখন বাধ্য হয়েই ঘরে থাকছে । করোনা আতঙ্ক, লকডাউন, রোজগারহীনতা, বেকারত্ব, চাকরি হারানোর ভয় এবং সর্বোপরি গৃহবন্দি দশার কারনে মানসিক সমস্যাও দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। 

করোনার প্রভাবে মানসিক সমস্যা সমগ্র পৃথিবী জুড়েই বেড়ে হিয়েছে। পাশের দেশ ভারতেও করোনা আতঙ্কের জেরে মানসিক রোগীর সংখ্যা বহুলাংশে বেড়ে গিয়েছে বলে পত্রিকা ও গবেষণায় প্রকাশ। ভারতীয় সাইক্রিয়াট্রি সোসাইটি সম্প্রতি তাঁদের সমীক্ষায় বলেন যে, বর্তমানে ভারতে শুধুমাত্র করোনার কারনে প্রায় ২০ শতাংশ মানসিক রোগী বেড়েছে । বর্তমানে প্রতি ৫ জন ভারতীয় এর মধ্যে প্রায় একজন মানসিক রোগে ভুগছেন (মার্চ ৩১, ২০২০, সংবাদ প্রতিদিন)। করোনার উৎপত্তিস্থল চীনেও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ সম্পর্কে চীনের হুয়াচুং নর্মল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী চিয়াং কুয়াং রুং বলেন “সমগ্র দেশের করোনা রুগীদের শারিরীক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। যে কোন কেউ আতঙ্কগ্রস্থ হলে তাকে চিকিৎসা দেয়ার জন্যে বিশেষ টেলিফোন লাইন চালু করা হয়েছে। “

গোটা বিশ্ব যখন করোনার মতো মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তখন একথা নিশ্চিত করে বলা যায় যে মানসিক রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে । কেউ যদি করোনা ভাইরাস নিয়ে এত বেশি ভয় পান যে সেটা তার পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হয়, অবসাদ, না ঘুমাতে পারা, দ্রুত নিঃশ্বাস নেওয়া, মনোযোগ না দিতে পারা, প্যানিক অ্যাটাক ইত্যাদি হতে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে যে ঐ ব্যক্তিটি মারাত্মকভাবে করোনা সংক্রান্ত উদ্বিগ্নতা ও হতাশায় ভুগছেন। মানসিক রোগে আক্রান্ত হবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। তার মধ্যে প্রধান কারন হচ্ছে লকডাউনের কারনে অকস্মাৎ জীবনশৈলীতে পরিবর্তন। পাশাপশি অন্যান্য কারণগুলো হচ্ছে : উদ্বিগ্ণ হওয়া, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, ছাত্রদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা,  সঞ্চিত অর্থে হাত পড়া, ব্যস্ত মানুষের কাজহীন হয়ে থাকা, চাকরি হারানোর ভয় ইত্যাদি।

চিকিৎসক এবং মনোবিজ্ঞানীদের মতে, করোনাকালের এই পরিস্থিতি আমাদেরকে মানসিকভাবে চাপে ফেলতে পারে। এই মানসিক সমস্যার কারনে শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির পাশাপাশি অপরাধ করার প্রবনতা এবং আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে যা আমি প্রবন্ধের সংক্ষিপ্ত কলেবরে তুলে ধরতে চাই।

শারীরিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি

বিভিন্ন গবেষণায় এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে যে, আতঙ্কিত হলে মানুষের শারীরিক বিবিধ ক্ষতি হয়। যেমন, মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা লোপ পায়, পেটের সমস্যা তৈরি হয় , এ ছাড়া প্রজনন ক্ষমতাও ক্ষতির শিকার হতে পারে। এমন কি অতি আতঙ্ক মানুষের দ্রুত বার্ধক্যের কারণ বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণও হতে পারে।পাশাপাশি মাথা ব্যাথা, শরীরে ব্যাথা বা পেটে ব্যাথা অনুভব করা ইত্যাদি দেখা যেতে পারে। মনোরোগ চিকিৎসক মেখলা সরকার বলেন, “করোনাভাইরাস আমাদের মধ্যে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, ভয় তৈরি করে। আর যখনই উদ্বেগ, ভয় মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে, তখন আমাদের মস্তিষ্ক বডি (শরীর) থেকে কিছু নিউরো কেমিক্যাল মোবিলাইজড করে। যার ফলে আমাদের ইন্টারনাল অর্গান সিস্টেম, যেমন: ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ক্ষতিগ্রস্থ হয়…করোনায় যেহেতু ফুসফুস আক্রান্ত হয়, সেক্ষেত্রে আমরা খুব সহজেই বুঝতে পারি মানসিক সুস্থ্যতা কতটা জরুরী।” আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভারতীয় চিকিৎসক জি পি নাগেশ্বর রেড্ডি বলেন, ‘যারা মানসিকভাবে শক্ত ও সুখী, তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশি।করোনায় তাদের আক্রান্ত হবার সম্ভাবনাও কম‘(দি নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ২৬ মার্চ, ২০২০)

মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি

আতঙ্কিত অথবা দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ হলে তা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও বিভিন্ন রকম নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে যে, “টানা দীর্ঘদিন আতঙ্কিত অবস্থায় থাকলে মানুষ দীর্ঘ মেয়াদে স্বাভাবিক জীবনযাপনে অক্ষম হয়ে পড়তে পারে।আতঙ্কিত হলে মানুষের স্মৃতিশক্তির দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি সাধন হতে পারে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। দুঃশ্চিন্তা এবং ভয়ের কারনে মানুষ তার স্বাভাবিক আবেগ প্রকাশ করতে অক্ষম হয়ে পড়েন এবং তার পক্ষে স্বাভাবিক আচরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি নৈরাশ্য বোধ, কর্মস্পৃহা কমে যাওয়া, ক্ষুধা বা ঘুমের পরিমান আগের থেকে অনেক বেড়ে বা কমে যাওয়া এবং ঘুম আসতে বা মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হওয়া ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।

আত্মহত্যা বৃদ্ধি

করোনার কারনে আতঙ্কগ্রস্থ, ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা ও হতাশার শিকার মানুষের মধ্যে অনেকক্ষেত্রেই আত্মহত্যার প্রবনতা আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরীপ অনুযায়ী, পৃথিবীব্যাপী ১৪তম উল্লেখযোগ্য মৃত্যুর কারণ এবং সকল মৃত্যুর মধ্যে ১.৫ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী আত্মহত্যা। প্রায় এক মিলিয়ন মানুষ প্রতি বছর আত্মহত্যার কারণে মারা যায় যা নির্দেশ করে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একটি মৃত্যু! ২০১৯ সালের শেষের দিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৩ কোটির বেশি মানুষ বিষণ্নতায় ভুগছে। এমনিতেই বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৪.৬ শতাংশ মানুষ বিষন্নতায় ভুগছে । আমি মনে করি এই হার হয়তো বাস্তবে তার চেয়ে আরো অনেক বেশি। কারণ অনেক মানুষ নিজেই বুঝতে পারেনা যে সে মনস্তাত্বিক সমস্যায় আছেন। বিশ্বে শুধু বিষণ্নতার কারণে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্নহননের পথ বেছে নিচ্ছে। এমন একটা জটিল পরিসংখ্যানের মধ্যে এসে পড়লো করোনা ভাইরাস সংক্রমণ যা আত্মহত্যার প্রবণতাকে আরো বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে।

আবার আত্মহত্যা নিয়ে যারা কাজ করেন তারা বলে থাকেন যে, আত্মহত্যা এবং আত্মহত্যার চেষ্টা করা বিভিন্ন বিষয়ের সম্মিলিত এবং জটিল ফল যা একে অপরের সঙ্গে জড়িত। তবে সকল চিকিৎসক এবং মনোবিজ্ঞানীগণ এ বিষয়ে একমত যে, হতাশা এবং বিষন্নতা আত্মহত্যা করার অন্যতম প্রধান কারন।বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে হতাশা ,বিষন্নতা এবং দুঃশ্চিন্তা ব্যাপক আকারে বেড়ে যাচ্ছে যার ফলে ভবিষ্যতে অনেক মানুষ আত্মহত্যা করতে পারে। যা আমাদেরকে খুবই ভয়ানক এক  ভবিষ্যতের দিকেই নিয়ে যাচ্ছে। যদিও আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে আত্মহত্যা এবং আত্মহত্যা প্রচেষ্ঠাও এক ধরনের অপরাধ। তবে আত্মহত্যা করে ফেললে তো তাকে আর শাস্তি দেয়া যাবে না। দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারা অনুযায়ী আত্মহত্যার চেষ্টা করলেই  এক বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।।অপরাধবিজ্ঞানীগণ আত্মহত্যাকে ভিক্টিমলেস(victimless) অপরাধ বলে থাকেন। কারন এখানে অপরাধী নিজেই ভিক্টিম। তবে প্রকৃতপক্ষে আত্মহত্যাকারী ব্যক্তি শুধু নিজেরই ক্ষতি করে না, তার কারনে তার পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়,সমাজ এবং রাষ্ট্র তার মূল্যবান নাগরিককে হারিয়ে ফেলে।

অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি

হতাশা বেড়ে গেলে যে শুধু শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হয় তা নয়, হতাশা বাড়ার সাথে সাথে মানুষের মাঝে অপরাধ করার প্রবণতাও বেড়ে যায়। হতাশা বাড়লে তার মধ্যে সহিংস অপরাধ  যেমন: হত্যা, মারামারি, রাহাজানি করার প্রবণতা বেড়ে যায়। ইগনাসি মানিও এবং মার্টিন রোসর ‘ফ্রাস্টেশন, ইউফোরিয়া এ্যান্ড ভাওলেন্ট ক্রাইম’ আর্টিকেলে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় যে, হতাশার সাথে সহিংস অপরাধের ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। তাঁরা বলেন যে, হতাশাগ্রস্থ ব্যক্তির যে কোন ধরনের অপরাধ করার প্রবণতা, সুস্থ ব্যক্তির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।

অপরদিকে আর.জে.রুমেল তার ফ্রাস্টেশন, ডিপ্রাইভেশন এবং কনফ্লিক্ট নামক লেখায় বলেন যে, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত যে কোন ব্যক্তির অপরাধ করার প্রবণতা অন্যান্যদের চেয়ে বেশি। করোনা পরবর্তী সময়ে আমাদের দেশে এমনিতেই অর্থনৈতিক কারণ, সামজিক কারণে অপরাধ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তার সাথে হতাশাগ্রস্থ মানুষের কারনেও অপরাধ বৃদ্ধি পাবার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।শুধু অপরাধই নয় অপরাধ সৃষ্টির পিছনে যেসব কারন ক্রিয়াশীল তার মধ্যে অন্যতম হলো মাদকাশক্তি। করোনাকালে মানুষের মধ্যে ডিপ্রেশন বা হতাশা অনেক মানুষকে মাদকাশক্তির দিকেও নিয়ে যেতে পারে। তাই এখন থেকেই আমাদেরকে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে এবং যথাসম্ভব ইতিবাচক জীবন যাপন করতে হবে, তা নাহলে সামনে যে ভয়ংকর দিন আসবে তা মোকাবেলা করার ক্ষমতা আমাদের থাকবে না।

যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আমেরিকার মনোবৈজ্ঞানিক সংগঠনসেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং সাবস্টেন্স এবিউজ এন্ড মেন্টাল হেলথ সার্ভিসেস এডমিনিস্ট্রেশন করোনাকালে আমাদের দুঃশ্চিন্তা কমাতে এবং মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু আমার মনে হয় ছাত্র-ছাত্রীদের মতো সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে করোনাকালে যে হতাশা, আতঙ্ক আছে তা দূর করার জন্য বাংলাদেশে সমন্বিত নীতিমালা প্রয়োজন। ডাক্তার, মনস্তত্ত্ববিদ, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী, অপরাধবিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে এখনই জরুরি ভিত্তিতে নীতিমানা প্রনয়ন করা প্রয়োজন। শুধু তাই নয় তা বাস্তবায়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিতে কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি সংবাদপত্র ও টেলিভিশন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনস্বার্থে প্রচারের ব্যবস্থা নিতে হবে।

অন্যদিকে, আমাদের নিজেদেরও মনে রাখতে হবে, করোনাকালের এই সময়টা সাময়িক, এই পরিস্থিতি আমাদের সবার সম্মিলিত চেষ্টায় হয়তো নিয়ন্ত্রনে চলে আসবে। নিশ্চয়ই আমরা সবাই আবার স্বাভাবিক জীবনে দ্রুত ফিরে আসবো। তাই এ সময়টাতে আতঙ্ক হতাশা ও বিষন্নতার বিপরীতে যতটা সম্ভব ইতিবাচক থেকে পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করতে হবে।

লেখক: মাস্টার্স শিক্ষার্থী, ক্রিমিনোলজি এ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগ

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়