চীন থেকে নভেল করোনাভাইরাসের উদ্ভব হতে পারে। তবে ভাইরাসটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছে ইউরোপ। যুক্তরাজ্যের হাডার্সফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও পর্তুগালের মিনহো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে করা নতুন একটি গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটিতে বিজ্ঞানীরা সার্স-কোভ-২ জিনোমের ২৭ হাজার জিনগত ক্রম বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণাটি ২৯ অক্টোবর পিয়ার-রিভিউড জার্নাল মাইক্রোঅর্গানিজমের একটি বিশেষ সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছিল।

লেখকরা তাদের গবেষণাপত্রে লিখেছেন, স্পষ্টভাবেই কভিড-১৯-এর উৎস ছিল চীন। প্রথম ছয় মাসে ইউরোপে মহামারীটির বিস্তার বিশ্বজুড়ে ভাইরাসটি ছড়িয়ে দিতে জ্বালানি সরবরাহ করেছিল। মহাদেশটিতে খুব সামান্য ও অনেক দেরিতে ভ্রমণ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।

গবেষকদের মতে, ১৭ মার্চ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মহাদেশটিতে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও সদস্য দেশগুলোর সীমানা বিভিন্ন বিধিনিষেধের মাধ্যমে খোলাই ছিল। যুক্তরাজ্য জুন মাসে গিয়ে কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর করেছিল।

গবেষকরা লিখেছেন, ভাইরাসটির বিস্তার কমিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে কিছু দেশ অন্যদের তুলনায় কীভাবে কার্যকর ছিল, আমরা তা গুরুত্ব দিয়েছি। তবে পরিষ্কারভাবে দেখা যায়, কোনো দেশই ভাইরাসটির বিস্তার থামাতে পুরোপুরি কার্যকর ছিল না। উড়োজাহাজে ভ্রমণ স্পষ্টতই মহামারীর একটি বড় চালক হিসেবে কাজ করেছে এবং আমাদের বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায়, কভিড-১৯-এর বিস্তার ধীর করতে ভ্রমণ বিধিনিষেধ অনেক বেশি কার্যকর।

গবেষণাটির নেতৃত্বে ছিলেন মিনহো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল জিনতত্ত্ববিদ ড. তেরেসা রিতো ও বিবর্তনীয় জেনেটিক বিশেষজ্ঞ ডা. পেদ্রো সোয়ারস। এ জুটি এর আগে জিনগত বিশ্লেষণ ব্যবহার করে মানুষের বিবর্তন গবেষণায় কাজ করা গবেষক দলকে সহায়তা করেছিলেন।

নতুন গবেষণার জন্য পুরো পৃথিবী থেকে প্রাপ্ত ওপেন-অ্যাক্সেস জিনোমিক ডাটাবেজ জিআইএসএসআইডি থেকে ভাইরাসটির জেনেটিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। গবেষকরা ডাটাটি ভাইরাসটির বিস্তারকে চিত্রিত করে একটি মানচিত্র তৈরিতে ব্যবহার করেন।

গবেষকরা বলেন, যদিও চীনের প্রথম সংক্রমণগুলোর মধ্যে নির্দিষ্ট মিউটেশনের জিনোম ছিল, তবে এটাই ইউরোপে শেষ হয়েছিল এবং পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরিত হওয়ার আগে মহামারীর কেন্দ্রস্থল হয়ে পড়েছিল ইউরোপ। প্রাথমিকভাবে ইউরোপ থেকে আগত ভ্রমণকারীরা সংক্রমিত হয়েছিলেন। এপ্রিলে আবার ইউরোপ উত্তর আমেরিকা থেকে আসা অনেক নতুন সংক্রমণ দেখেছিল।

পূর্ব এশিয়ার বেশির ভাগ অংশেও চীনের চেয়ে ইউরোপ থেকে বেশি সংক্রমণ এসেছিল। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ হওয়া সত্ত্বেও ভারতের ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটেছিল। গত জুনে ভারতীয় বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের জিনোমভিত্তিক একটি গবেষণায় উঠে এসেছিল, ভারতে কভিড-১৯-এর বেশির ভাগ সংক্রমণ ইউরোপ, পশ্চিম এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া ও ওশেনিয়া থেকে এসেছে।

দ্য প্রিন্ট