আপনি যদি এখন পর্যন্ত কভিড-১৯ দ্বারা আক্রান্ত না হন, সেটা আপনার জন্য খুবই ভালো খবর। তবে আপনি শিগগিরই জানতে পারবেন আপনার পরিচিত কেউ না কেউ কভিড-১৯-এ আক্রান্ত এবং সুস্থ হওয়ার জন্য লড়াই করছে। তারা আপনার পরিবারের সদস্য, বন্ধু, প্রতিবেশী বা সহকর্মী হবে। তাদের এ সংকটকালে আমরা তাদের সঙ্গে যেমন আচরণ করব, ইতিহাস সেভাবেই আমাদের বিচার করবে।
দুর্ভাগ্যক্রমে কয়েকটি গবেষণায় স্পষ্ট হয়েছে ইতিহাসের প্রতিটা বড় সংক্রামক রোগের মহামারীতে কলঙ্ক ছড়িয়েছে এবং এটা অবশ্যই বর্তমান কভিড-১৯ মহামারীতেও ভূমিকা পালন করবে। কলঙ্ক একটি বিবর্তনমূলক প্রক্রিয়া। নিজেদের সংক্রমিত করতে পারে এমন মানুষদের থেকে আমরা কঠোরভাবে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখছি। কেউ অসুস্থ হলে এমনকি বমিভাব বা ত্বকের ক্ষতের মতো অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রেও আমরা তাদের খুব বিরক্তির চোখে দেখছি। সেগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে হুমকি কিনা সেটা চিন্তা না করেই আমরা এমন বিরক্তি দেখাচ্ছি।
আমরা এখনো এমন বিশ্বাস করি যে খারাপ কিছু খারাপ লোকের সঙ্গেই ঘটে। এ চিন্তাভাবনা আমাদের প্ররোচিত করে যে রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি পাপী, তিনি নিশ্চয় কোনো ভুল কাজ করেছেন। সম্ভবত যে লোকেরা কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন, তারা নিয়মিত হাত পরিষ্কার করেন না, খুব বেশি মুখে হাত দেন এবং সামাজিক দূরত্ব পালন করেননি। এ বিশ্বাস আমাদের সান্ত্বনা দেয়, আমরা আমাদের জায়গায় ঠিক আছি। এটা আমাদের আরো জানায়, আমরা যদি সবকিছু ঠিকঠাকভাবে করি, তাহলে আক্রান্ত হব না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সবকিছু ঠিকঠাক পালন করেও, ২০ সেকেন্ডের পরিবর্তে ৬০ সেকেন্ড ধরে হাত পরিষ্কার করেও আমরা কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হতে পারি।
এটা নিয়ে কয়েক দশক ধরে করা গবেষণায় দেখা গেছে, রোগাক্রান্ত হলে কলঙ্কের ছাপ লাগিয়ে দিলে আক্রান্ত মানুষের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। এ কলঙ্ক সামাজিকভাবে প্রত্যাখ্যান, পরচর্চা, সহিংসতা এবং সেবাবঞ্চিত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এর ফলে আক্রান্তরা মারাত্মক হতাশা ও মানসিক চাপে ভুগতে পারে। উদ্বেগজনকভাবে, কলঙ্ক মাঝে মাঝে এমনভাবে ছাড়নো হয় যে আক্রান্ত ব্যক্তিও একটা সময় বিশ্বাস করতে শুরু করে যে এটা তার কোনো ভুল কাজের ফল বা সে খারাপ মানুষে। কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের শারীরিক এমনকি মানসিকভাবেও পৃথক করে ফেলা হচ্ছে, যা রোগীদের আরো বেশি সংকটের ঝুঁকিতে ফেলছে।
আর এমন কলঙ্ক ছড়ানো কেবল অসুস্থ মানুষকেই প্রভাবিত করে না, তার পরিবার বা বন্ধুবান্ধবদের মানসিক অবস্থাকেও প্রভাবিত করে।
মহামারী চলাকালীন কাউকে দোষারোপ করা প্রত্যেকের জন্যই হুমকিস্বরূপ। এইচআইভি, ইবোলা, হ্যানসেন এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগের মহামারী নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, এমন কলঙ্ক রোগীর পরীক্ষা ও চিকিৎসার প্রচেষ্টাকে হ্রাস করে। যারা আজ কভিড-১৯-এ আক্রান্ত রোগীকে সামাজিকভাবে বয়কট করছেন, তাদেরও কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও এমন ধ্যানধারণার কারণে তিনি বিশ্বাস করতে পারেন না যে তার এ রোগ হতে পারে। সর্বোপরি কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হওয়া কোনো কলঙ্ক নয়, এটা কেবলই একটা রোগ। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে কভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তি শত্রু নয়, কভিড-১৯ আমাদের শত্রু।
হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ





