ফেব্রুয়ারিতে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণজনিত রোগের নামকরণ কভিড-১৯ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এমন নামকরণের পেছনে ডব্লিউএইচওর একটি উদ্দেশ্য ছিল। সেটি হলো বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যাক্তিকে একটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দেয়া যে, তারা শুরুতে তাদের প্রকাশিত খবরে ভাইরাসটির সংক্রমণের সঙ্গে চীন ও উহানের নাম ভ্রান্তভাবে যুক্ত করছিল। অর্থাৎ যেভাবে নভেল করোনাভাইরাসের সঙ্গে চীনের নাম যুক্ত করা হচ্ছিল, তা ছিল অনেকটাই বর্ণবাদী আচরণ। 

বহু বছর ধরেই ভাইরাসজনিত রোগের নামকরণের ক্ষেত্রে, প্রথম যে দেশ বা এলাকা থেকে সেটি ছড়িয়ে পড়ত সেখানকার নাম যুক্ত হতো। যেমন জিকা ভাইরাসের নামকরণ করা হয়েছিল উগান্ডার একটি বনের নামানুসারে। কিন্তু ২০১৫ সালে এমন নামকরণ বন্ধের জন্য নির্দেশমালা জারি করে ডব্লিউএইচও। কারণ দেখা গেছে, ভাইরাস বা কোনো রোগের নামকরণের ক্ষেত্রে দেশ বা অঞ্চলের নাম যুক্ত হলে তা ওই বিশেষ এলাকার বাসিন্দাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষকে অন্যরা ভয় পেতে থাকে, কিংবা তারা ঘৃণা বা বিদ্বেষের শিকার হয়। ফলে ডব্লিউএইচওর নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ভাইরাস মূলত সব মানুষকেই আক্রান্ত করে। যখন কোনো সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে, তখন সবাই এর ঝুঁকিতে থাকে। এক্ষেত্রে কারো পরিচয় কিংবা অঞ্চল কোনো তারতম্য সৃষ্টি করে না।

কিন্তু তারপরও যখন বিশ্বের বহু দেশ কভিড-১৯-এর সংক্রমণ সামাল দিতে মরিয়া, তখন কিছু রাজনীতিবিদ এখনো সেই পুরনো সুরে কথা বলছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বার বার উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভাইরাসটির সঙ্গে চীনের প্রসঙ্গ টেনে আনছেন। অন্যদিকে কভিড-১৯-কে চীনের দায় বলছেন ব্রাজিলের সংসদ সদস্য জাইর বলসোনারো। এমনকি যুক্তরাজ্যসহ বহু দেশের রাজনীতিবিদরা নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণের জন্য চীনকেই দায়ি বা দোষী সাব্যস্ত করছন। 

সত্যি কথা হলো, ভাইরাস বা রোগের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট এলাকা ও অঞ্চলকে জড়িয়ে ফেলা কিংবা দোষারোপ করা দ্বায়িত্বহীনতার সামিল। এবং এ ধরণের অযৌক্তিক দোষারোপ অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংক্রামক রোগ ও মহামারী বিশেষজ্ঞ অ্যাডাম কুচারস্কি তার ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত বই দ্য রুলস অব কন্টাজিয়নে মনে করিয়ে দিচ্ছেন, মহামারীগুলো যে বিভিন্ন জাতিকে অনাবশ্যকভাবে কলঙ্কিত করে সে বিষয়ে ইতিহাসই প্রমাণ। ফলে ভাইরাসজনিত মহামারীর নিয়ে বক্তব্য বা মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে আমাদের আরো সতর্ক হওয়া দরকার। সন্দেহ হলে পরামর্শ করুন, সহায়তা নিন সম্মিলিত প্রমাণের| 

দ্য নেচার অবলম্বনে হিমাদ্রি দেবনাথ