কভিড-১৯ মহামারীতে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। এই বিপদে মানুষ অনেকটাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংকট মোকাবেলা করছে। তবে মহামারী শেষে মানুষের মধ্যে আবার যেন ‘ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের বিভ্রম’
ফিরে না আসে, সে ব্যাপারে বিশ্বকে সতর্ক করে দিয়েছেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু পোপ ফ্রান্সিস।
গতকাল ভ্যাটিকান সিটি থেকে এক বিবৃতি দেন পোপ, যাতে তিনি ইতালির লোম্বার্দি অঞ্চলের স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন, যারা ‘সংকটপূর্ণ মাসগুলোতে’
অসীম সাহসিকতার সঙ্গে কভিড-১৯ রোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মহামারীতে ইতালিতে সবচেয়ে বিপর্যস্ত অঞ্চল লোম্বার্দি।
স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশংসা করার পরই ফ্রান্সিস মানুষকে ‘সতর্ক’
হওয়ার পরামর্শ দেন যেন তারা ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদকে প্রশ্রয় না দেন এবং ‘সমাজের দিকনির্দেশক নীতি’
প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখেন। ব্যক্তিবাদে মানুষ শুধু নিজের লাভের কথাই ভাবে।
স্বাস্থ্যকর্মীদের সমাজের দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করে ফ্রান্সিস বলেন, তাদের পেশাদারিত্ব ছিল ‘ইতালির অন্যতম স্তম্ভ’। এছাড়া স্বাস্থ্যকর্মীদের তিনি ‘দেবদূত’
বলে আখ্যায়িত করেন।
মহামারীর সময় মানুষকে সাহস ও ভালোবাসা প্রদর্শনের জন্য ধর্মযাজকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ফ্রান্সিস।
গত এপ্রিলে ফ্রান্সিস বলছিলেন, বর্তমান বাস্তুসংস্থানের সংকটকে উপেক্ষা করায় এই মহামারী হতে পারে ‘প্রকৃতির জবাব’। বনজঙ্গল উজাড় করার পাশাপাশি পশুপাখি ও জীবজন্তু নিধন করা হচ্ছে দেদার। এতে অনেক প্রাণিকুল বিশ্ব থেকে হারিয়ে যাচ্ছে, বিনষ্ট হচ্ছে বাস্তুসংস্থান। অনেকের ধারণা, প্রাকৃতিক এই ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে করোনাভাইরাসের মতো এমন বিপর্যয় ভবিষ্যতেও আসতে পারে।
সিএনএন





