নভেল করোনাভাইরাসের সংকট সবার জন্য চরম ভীতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে পরিবেশের জন্য এটা যেন এক আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। আমরা সবাই অস্বাভাবিকভাবে পরিষ্কার বাতাস এবং পরিষ্কার আকাশ উপভোগ করছি। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ ঘরবন্দি থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা কমেছে। আর এতে জীবাশ্ম জ্বালানির সর্বাধিক দূষণকারী কয়লার ব্যবহার কমেছে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে এ মহামারী কি কয়লার ব্যবহার বন্ধ করে দিতে পারে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কভিড-১৯-এর সংকট সব জীবাশ্ম জ্বালানির আর্থিক ভিত্তি কতটা নাজুক তা প্রকাশ পেয়েছে। এমনকি কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বলছেন, মহামারী থেকে কয়লা কখনই নিজেকে পুনরুদ্ধার করতে পারবে না। যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎ গ্রিড আজ বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত টানা ৬০ দিন কোনো কয়লা পোড়ায়নি। এটা ২০০ বছর আগে শিল্পবিপ্লবের পর কয়লাবিহীন দীর্ঘতম সময়।

যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর প্রথমবারের মতো কয়লা থেকে নবায়নযোগ্য শক্তি বেশি ব্যবহার করা হয়েছিল। যেখানে এক দশক আগেও মার্কিন বিদ্যুতের প্রায় অর্ধেকটা আসত কয়লা থেকে। এমনকি কয়লার অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ব্যবহারকারী ভারতেও জ্বালানির চাহিদা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। যদিও এটার আনুমানিক কারণ হলো লকডাউন। কয়লা উত্তোলন, পরিবহন, কোনাকাটা ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

জ্বালানি বিশ্লেষক সুনীল দাহিয়া বলেছেন, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসকে ব্যয়বহুল মনে করা হয়। কিন্তু এটা একবার তৈরি হয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে খরচ কমে যায়। বায়ু, বৃষ্টি বা রৌদ্রের ওপর নির্ভর করা কেন্দ্রগুলো একবার ইনস্টলের পর উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিখরচায় আসবে। নবায়নযোগ্যগুলো প্রায়ই নতুন কয়লার বিদ্যুৎকেন্দ্রের চেয়ে সস্তা। বিশ্বব্যাপী পরিস্থিতির কথা চিন্তা করলে এটা বলা যায় যে কয়লা যুগের অবসান হয়েছে। এখন বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তে থাকলে দেশগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকবে এটা সহজেই অনুমেয়।

বিবিসি