কয়েক মাস ধরে মহামারী সময়কালীন নেতৃত্ব নিয়ে ব্যাপক আলাপ হচ্ছে। ভালো নেতৃত্ব আসলে কীভাবে তৈরি হয়? কে ভালো করছে এবং কোন দেশ বাজেভাবে এটি মোকাবেলা করছে। শুরুতে একটি প্যাটার্ন সামনে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে নারী রাষ্ট্রপ্রধানরা উল্লেখযোগ্যভাবে সংকট মোকাবেলা করতে সক্ষম হচ্ছে।

এখন জেসিন্ডা আরডার্নের অধীনে নিউজিল্যান্ড হোক কিংবা সাই ইং-ওয়েনের অধীনে তাইওয়ান অথবা অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের অধীনে জার্মানি—নারী নেতৃত্বাধীন দেশগুলো উদাহরণ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে যে কীভাবে আসলে মহামারী মোকাবেলা করতে হবে।

আমরা খতিয়ে দেখতে চেয়েছি এ ধারণাটি কোনো নিয়মতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে কিনা। এটা করার জন্য আমরা বিশ্লেষণ করে দেখতে চেয়েছি,  বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের নেতারা মহামারী নিয়ে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল সেটা। এছাড়া পুরুষ ও নারী নেতাদের গৃহীত ব্যবস্থায় পার্থক্য করার মাধ্যমে তাদের পারফরম্যান্সে কেমন তফাত হয়েছে তাও দেখতে চেয়েছি।

এখানে দুটি বিষয় মাথায় রাখার ছিল: আমরা কেবল একটি মহামারীর শুরুর দিকে আছি, আগামী কয়েক মাসে অনেক কিছু বদলে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, যে মানের ডাটা আমাদের হাতে আছে তা সীমিত। অপর্যাপ্ত টেস্টিং মানে কেস সংখ্যাকে অবমূল্যায়ন করা। এছাড়া যে পরিমাণ মৃত্যু রেজিস্টার করা হয় তাও দেশে দেশে ভিন্ন হয়।

এখানে পুরুষ নেতৃত্বাধীন দেশের তুলনায় নারী নেতৃত্বাধীন দেশ অনেক কম। ১৯৪টি দেশের মধ্যে কেবল ১০টিতে নারী নেত্রী আছে। তাই সঠিক হবে এ নারী নেতৃত্বাধীন দেশগুলোর পারফরম্যান্সকে একই ধরনের পুরুষ নেতৃত্বাধীন দেশুগুলোর সঙ্গে তুলনা করা। এটা আমরা করেছি দেশগুলোকে একই সোসিও-ডেমোগ্রাফিক ও অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্যের আলোকে মিলিয়ে নিয়ে; সেসবের ওপর ভিত্তি করে, যা আমরা কভিড-১৯ সংক্রমণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখি।

প্রথম উদাহরণে, আমরা মাথাপিছু অনুরূপ জিডিপি, জনসংখ্যা, জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষদের মাঝে তুলনা করেছি। এরপর আমরা আমাদের তুলনার ক্ষেত্রটিকে প্রশস্ত করেছি তাতে আরো তিনটি বৈশিষ্ট্য যুক্ত করার জন্য: মাথাপিছু বার্ষিক স্বাস্থ্য ব্যয়, কতজন পর্যটক দেশটিতে প্রবেশ করেছে এবং লৈঙ্গিক সমতা।

এ তুলনাগুলো মহামারীটির প্রথম প্রান্তিকের শুরুর দিকে নারী নেতৃত্বাধীন এবং একইভাবে পুরুষ নেতৃত্বাধীন দেশগুলোর মাঝে যে পার্থক্য তাকে স্পষ্ট করে তুলেছিল।

নারী নেতৃত্বাধীন দেশ হংকং যারা কিনা ১ হাজার ৬৫টি কেস এবং চারটি মৃত্যুর কথা বলেছিল, অন্যদিকে একই সময়সীমার ভেতর ও একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সিঙ্গাপুর, যা কিনা পুরুষশাসিত তারা ২৮ হাজার ৭৯৪টি সংক্রমণ ও ২২টি মৃত্যু দেখেছে।

একইভাবে নরওয়ে যারা কিনা নারী নেতৃত্বাধীন তারা ৮ হাজার ২৫৭টি সংক্রমণ ও ২৩৩টি মৃত্যু দেখেছে, যেখানে পুরুষশাসিত আয়ারল্যান্ড একই সময়ে ২৪ হাজার ২০০ সংক্রমণ এবং ১ হাজার ৫৪৭টি মৃত্যু দেখেছে।

দেখা যাচ্ছে নারী নেতৃত্বাধীন দেশ বেশ ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। বিশেষ করে মৃত্যু নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে।  পারফরম্যান্সের পার্থক্যের কারণ কী হতে পারে তা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আমরা দেখেছি, নারী নেতৃত্বাধীন দেশ পুরুষ নেতৃত্বাধীন দেশের আগেই লকডাউনে গেছে। যেমন নিউজিল্যান্ড ও জার্মানি লকডাউনে যাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে ছিল। এছাড়া আরেকটি বিষয় হচ্ছে নারী ও পুরুষ নেতা-নেত্রীদের মাঝে নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে স্টাইলের পার্থক্য। এটিও দুদলের মাঝে সাফল্য ও ব্যর্থতায় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।

সায়েন্স অ্যালার্ট