মহামারী নিয়ে লেখা ৩ কোটি ৩৮ লাখ প্রবন্ধ-নিবন্ধকে বিশ্লেষণ করেছেন কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। এ থেকে তারা সিদ্ধান্ত টেনেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হচ্ছেন ইনফোডেমিকের সবচেয়ে বড় চালক।

নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে মিথ্যাচার, ভুল তথ্য ছড়ানো, ষড়যন্ত্র তত্ত্বে ইন্টারনেট উপচে পড়ার ক্ষেত্রে একটি সাধারণ সূত্র পাওয়া যায়—তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখেছেন করোনাভাইরাস বিষয়ে মিথ্যা বা ভুল তথ্য নিয়ে যত আলোচনা হয়েছে, তার ৩৮ শতাংশতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নাম উচ্চারিত হয়েছে। এভাবে তিনি মহামারীকালে ‘ইনফোডেমিক’-এর সবচেয়ে বড় সূত্রে পরিণত হয়েছেন। কর্নেল গবেষকদের গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে গতকাল। প্রথাগত ও অনলাইন মিডিয়ায় করোনাভাইরাস নিয়ে ভুল তথ্য বিষয়ে এটাই প্রথম বিশদ গবেষণা।

গবেষণার প্রধান এবং কর্নেল অ্যালায়েন্স ফর সায়েন্সের পরিচালক সারাহ এভানেগা বলেন, ‘আমাদের গবেষণার সবচেয়ে বড় চমক ছিল যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কভিড নিয়ে ভুল তথ্যের সবচেয়ে বড় সঞ্চালক। এটা শঙ্কার কারণ এসব ভুল তথ্যে অনেক মানুষ ভয়ানক স্বাস্থ্যগত সমস্যায় পড়তে পারেন।’

গবেষণায় দেখা গেছে, মূলত ১১টি বিষয়ে ট্রাম্পকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যার মধ্যে আছে অনেকগুলো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব—করোনাভাইরাস ডেমোক্র্যাটদের বা চীনাদের তৈরি।

ট্রাম্প সম্পর্কিত যে ভুল তথ্যটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে তা হলো কভিডের চিকিৎসায় অ্যান্টি-ম্যালেরিয়াল ড্রাগ কিংবা জীবাণুনাশক ব্যবহার।

গবেষকরা দেখেছেন ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ মে সময়কালে কভিড বিষয়ে ৩ কোটি ৮০ লাখ প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে মাত্র ১১ লাখ বা ৩ শতাংশের কম প্রবন্ধে ভুল তথ্য ছিল না। ২৪ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কভিডের চিকিৎসায় জীবাণুনাশক বা অতিবেগুনি রশ্মি ব্যবহারের কথা বলার পর মিরালক কিওর বিষয়ে ২০ হাজারের বেশি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়।

নিউইয়র্ক টাইমস