বুকের দুধ খাওয়ানো ও যত্ন নেয়ার মাধ্যমে শিশু ও মায়ের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী যোগাযোগ ঘটে। সদ্যভূমিষ্ঠ শিশুরা তাদের মায়েদের ওপর নির্ভরশীল। তবে মা যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন, তাহলে নবজাতকের সুরক্ষা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হয় কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সম্প্রতি ল্যানসেট চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট হেলথ জার্নালে প্রকাশিত নতুন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কভিড-১৯ আক্রান্ত মায়েরা সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করে এবং হাত ধোয়ার সতর্কতা অবলম্বন করে শিশুদের নিরাপদে দুধ খাওয়াতে পারেন। দুই সপ্তাহের সময়সীমায় ভাইরাসটি মায়েদের থেকে শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েনি।
প্রসবের সময় থেকে কভিড-১৯ আক্রান্ত ১১৬ জন মায়ের ওপর গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। এই মায়েদের নবজাতকদের জন্মের ২৪ ঘণ্টা পর সোয়াব পরীক্ষা করা হয়েছিল, বেশির ভাগ নবজাতককে পাঁচ বা সাতদিন পর এবং দুই সপ্তাহ পর আরো দুবার পরীক্ষা করা হয়েছিল। পাশাপাশি তাদের এক মাস টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছিল। সব পরীক্ষায় করোনাভাইরাস নেগেটিভ ফল এসেছিল এবং শিশুদের মধ্যে কোনো লক্ষণও দেখা যায়নি। অতিরিক্ত পরীক্ষা করা হয়নি এমন শিশুরাও পর্যবেক্ষণের সময়কালে লক্ষণহীন ছিল।
গবেষণাটির নেতৃত্ব দেয়া নিউইয়র্ক-প্রেসবিটারিয়ান/ওয়েল কর্নেল মেডিকেল সেন্টারের পেডিয়াট্রিক বিভাগের সংক্রামক রোগের প্রধান ক্রিস্টিন সালভাতোর বলেছেন, আমরা আশা করি আমাদের অধ্যয়নটি নতুন মায়েদের কিছুটা আশ্বাস দেবে যে তাদের শিশুদের মধ্যে কভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি খুব কম।
হাসপাতালে থাকাকালে প্রায় সব শিশু মায়ের ঘরে আবদ্ধ ইনকিউবেটরে থাকত। নতুন মায়েরা সার্জিক্যাল মাস্ক পরে শিশুদের দুধ খাওয়ানো, ডায়াপার পরিবর্তন ও আদর করার আগে প্রতিবার হাত পরিষ্কার করেছেন। হাসপাতাল থেকে বাড়িতে যাওয়ার ১৪ দিন পর অনেক মা মাস্ক পরা বন্ধ করেছিলেন, তবে কয়েকজন মা এক মাস পরও মাস্ক ব্যবহার করা চালিয়ে যান।
গবেষণাটির সঙ্গে জড়িত না থাকা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটারনাল অ্যান্ড চাইল্ড পপুলেশন হেলথের অধ্যাপক মেরিয়ান নাইট বিবিসিকে বলেছেন, মায়ের সংক্রমণ এই শিশুদের মধ্যে মারাত্মক অসুস্থতার কারণ হিসেবে দেখা দেয় না। যুক্তরাষ্ট্রের এ অধ্যয়নটি ইঙ্গিত দেয় যে মাস্ক ব্যবহারের মতো সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করলে মায়েদের থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণের ঘটনার আশঙ্কা প্রায় নেই।
তবে গবেষণাটির লেখকরা পরিমিত নমুনার আকারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং বলেছেন যে মা থেকে নবজাতকের মধ্যে সংক্রমণের বিস্তার নিয়ে আরো গবেষণা দরকার।
গবেষণাটির সঙ্গে জড়িত না থাকা আরেকজন বিশেষজ্ঞ পেনসিলভানিয়া পেরেলম্যান স্কুল অব মেডিসিনের নিওনেটাল বিশেষজ্ঞ ক্যারেন পুওপোলো বলেছেন, অন্তত এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই যে জন্মের পর মায়ের কাছ থেকে শিশুদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে কিংবা হাসপাতালে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
পুওপোলো আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস (এএপি) থেকে নতুন গাইডলাইনগুলোর শীর্ষস্থানীয় লেখক ছিলেন। গাইডলাইনগুলোতে মাস্ক ব্যবহার এবং নিয়মিত হাত পরিষ্কারের আহ্বান জানানো হয়েছিল।
দ্য সায়েন্টিস্ট





