বাকি দুনিয়া যখন কভিড-১৯-এর সঙ্গে প্রাণপণ লড়াই করছে, তখন আশ্চর্যজনকভাবে ভয়াবহ এই মহামারী থেকে এখনো পুরোপুরি মুক্ত রয়েছে বরফ আচ্ছাদিত মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা! ‘শীতলতম’
মহাদেশ হিসেবে পরিচিত অ্যান্টার্কটিকা এখন ‘নিরাপদ’
মহাদেশও। এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়নি।
কিন্তু বিপদ হতেও পারত। মৌসুমের শেষ প্রমোদ জাহাজও যখন কভিড-১৯ দ্বারা আক্রান্ত হয় তখন ঝুঁকি ছিল অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশেরও। কিন্তু এ ভাইরাস অ্যান্টার্কটিকার শীতল উপকূলে পৌঁছতে পারেনি। তাই বলা যায়, অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে মেরুর মহাদেশটি। যদিও এখন পর্যন্ত নিরাপদ। কেননা ভবিষ্যতে কী হয় তা তো কারোরই জানা নেই।
পেঙ্গুইন, তিমি, সিল কিংবা অ্যালবাট্রসের কথা বাদ দিলে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের স্থায়ী কোনো অধিবাসী নেই। যে হাজার পাঁচেক মানুষ এখানে বসবাস করেন, তাদের বেশির ভাগই বিজ্ঞানী ও গবেষক এবং সেখানকার ৮০টির মতো অস্থায়ী স্থাপনায় থাকেন তারা।
অ্যান্টার্কটিকার সর্ব উত্তরে অ্যানভার দ্বীপে পালমার স্টেশনের প্রশাসনিক সমন্বয়ক কেরি নেলসন। বলাবাহুল্য, এ স্টেশনটি যুক্তরাষ্ট্রের। ই-মেইলে সিএনএনকে এ নারী বলেন, ‘আমি মনে করি না এখানে এমন কোনো ব্যক্তি আছেন যিনি কৃতজ্ঞ নন কিংবা এখানে নিজেকে নিরাপদ ভাবছেন না। আমরা যারা এখানে আছি তারা সবাই নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছি, কেননা এ জায়গাটিতে রোগটি এখনো পৌঁছতে পারেনি। কিছু মানুষ অবশ্য এখন দেশে ফেরার কথা ভাবছেন। তারা দেশে ফিরে নিজেদের প্রিয় মানুষগুলোকে সাহায্য করতে চান কিংবা ইতিহাসের এই ক্রান্তিকালে দেশের সেবা করতে চান।’
বাকি বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন এ মহাদেশের বাসিন্দা কেরি ও তার সহকর্মীরা অবশ্য কভিড-১৯ মহামারীর খোঁজখবর রাখছেন নিয়মিত। রাখবেনইবা না কেন। জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস তো এ রোগকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ‘চ্যালেঞ্জিং ক্রাইসিস’
বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সংগত কারণেই এ নিয়ে ভাবতে হচ্ছে অ্যান্টার্কটিকার গবেষকদের। এ নিয়ে কেরি বললেন, ‘এই পরিস্থিতি নিয়ে যা কিছু সম্ভব সবই পড়ি আমি। বিশ্বে যা ঘটছে সে ব্যাপারে সাক্ষী থাকা একজন মানুষ হিসেবে আমার কর্তব্য বলে মনে করি।’
২০০৭ সাল থেকে শীত ও গ্রীষ্ম মৌসুমে অ্যান্টার্কটিকায় বসবাস করেন কেরি নেলসন।
অ্যান্টার্কটিকা উপদ্বীপের পশ্চিম উপকূলে অ্যাডিলেড দ্বীপে রয়েছে ব্রিটিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান রোথেরা রিসার্চ স্টেশন। এখানে কাজ করেন ২৯ বছর বয়সী রবার্ট টেইলর, যিনি এসেছেন স্কটল্যান্ড থেকে। সেখানে গবেষণায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের ফিল্ড ওয়ার্ক ও যাতায়াতের বিষয়টি দেখভাল করেন তিনি। কভিড-১৯ সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখলেও মূল বিশ্বের বাইরে থাকার কারণে এ রোগের ভয়াবহতা অতটা উপলব্ধি করতে পারেন না তিনি। তার কথায়, ‘যতদূর মনে পড়ে জানুয়ারির দিকে চীন থেকে এ রোগের ব্যাপারে খবর আসছিল। এরপর যুক্তরাজ্যে অল্প কিছু রোগী শনাক্ত হলো। তখন আমি ভাবছিলাম হয়তো এটা ছোটখাটো বিষয় এবং এখানে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব না। কিন্তু প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিনিয়ত যখন মিডিয়ায় এ ব্যাপারে খবর আসতে লাগল তখন এ বিষয়ে আমার ঘুম ভাঙে।’
সিএনএন





