নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে কয়েক মাস ধরে বেশির ভাগ দেশে লোকজনের চলাচল বন্ধ রয়েছে। আর এজন্য বন্ধ রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা জাদুঘরগুলোও। চলমান মহামারী থেকে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জগুলোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে জাদুঘরগুলো লড়াই করছে। তবে কিছু দেশে পরিস্থিতি বেশ খারাপ।

গত ২২ মার্চ রাজধানী জাগরেবের আশপাশের অঞ্চলগুলোতে ভূমিকম্পের পর ক্রোয়েশিয়ার জাদুঘরগুলো কঠিন সময় পার করছে। ১৪০ বছর ধরে এ অঞ্চলটি শক্তিশালী প্রভাব সহকারে কাটিয়ে আসছিল, তবে ভূমিকম্পে জাদুঘরসহ পুরো অঞ্চলটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাকৃতিক এ বিপর্যয় এমন সময়ে এসেছে, যখন দেশটি কভিড-১৯ মহামারীর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলা করছিল। 

রাজধানীর বেশির ভাগ জাদুঘর ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমনকি কিছু ভবন এখন অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। জাদুঘরগুলোর আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান দ্য ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব মিউজিয়াম (আইকম) জানিয়েছে, দ্য মিউজিয়াম অব আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস, দ্য ক্রোয়েশিয়ান একাডেমি অব সায়েন্সেস অ্যান্ড আর্টস এবং দ্য কনটেম্পোরারি আর্ট মিউজিয়াম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পে জাদুঘরগুলোর শিল্পকলা ও ভবনগুলোর মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।

ইউরোপের জাদুঘরগুলোর সংস্থা দ্য নেটওয়ার্ক অব ইউরোপিয়ান মিউজিয়াম অর্গানাইজেশন (নেমো) বলেছে, পুরো মহাদেশের বেশির ভাগ জাদুঘর বন্ধ রয়েছে। ইউরোপের সব স্তরের সরকারকে এ চ্যালেঞ্জিং সময়ে জাদুঘরগুলোকে সমর্থন করতে যথাযথ জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

ইউরোপে কভিড-১৯ সবচেয়ে খারাপভাবে আঘাত হানা ইতালিতে গত ৮ মার্চ থেকে জাদুঘরগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এরপর ১৩ মার্চ দেশের সব জাদুঘর বন্ধ ঘোষণা করে স্পেন। 

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান অ্যালায়েন্স অব মিউজিয়াম (এএএম) কভিড-১৯-এর সংকট মোকাবেলায় অলাভজনক জাদুঘরগুলোসহ তাদের ৪ বিলিয়ন ডলার জরুরি সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে। একটি বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, কভিড-১৯-এর প্রভাবে দেশব্যাপী আমাদের জাদুঘরগুলো বন্ধ থাকায় প্রতিদিন অন্তত ৩৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হচ্ছে। কর্মীদের চাকরি ধরে রাখতে, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষিত রাখতে, দেশের পর্যটন শিল্প পুনর্নির্মাণে সহায়তা করতে এবং আগামী মাসগুলোতে টিকে থাকতে আমাদের ফেডারেলের যথেষ্ট সহায়তার প্রয়োজন হবে।

নভেল করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে খারাপভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্ট, দ্য মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট, দ্য হুইটনি মিউজিয়াম অব আমেরিকান আর্ট এবং গাগেনহেইমের মতো অনেক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গত ১৩ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে।

বছরে ৭০ লাখ দর্শনার্থীর বিশ্বের বৃহত্তম জাদুঘরগুলোর একটি দ্য মেট। তারা অন্তত ১০ কোটি ডলারের সহায়তা আশা করে বলে জানিয়েছে। দ্য মেট জাদুঘরের প্রেসিডেন্ট ও সিইও ড্যানিয়েল ওয়েস বলেন, আমাদের দেশের শিল্প দলগুলোর অনুষ্ঠান ও সংস্থানে প্রাচুর্য ও শ্রেষ্ঠত্ব সত্ত্বেও অনেকে এরই মধ্যে সীমিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অর্থনীতিতে নভেল করোনাভাইরাসের তাত্ক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের ফলে সবাই অভূতপূর্ব আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও তাদের কর্মচারীদের জন্য সরকারি সহায়তার প্রয়োজনীয়তা অবমূল্যায়ন করা যায় না।

হংকংয়ের আর্টনেট নিউজ জানিয়েছে, নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা পতনের পর পুনরায় চালু হওয়া জাদুঘরগুলো দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রাদুর্ভাবে আবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রণের পর গত ১১ মার্চ চালু হওয়া দ্য হংকং মিউজিয়াম অব আর্ট আবারো বন্ধ হয়ে গেছে।

মিউজিয়াম অ্যাসোসিয়েশন