চীন ধাক্কা সামলে করোনাভাইরাসের বিস্তার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এনেছে। যদিও চীনের প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছে অনেকেই। চীনকে ঘিরে তৈরি হওয়া এ সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়েছে তাদের নতুন এক সিদ্ধান্তে। যেখানে তারা করোনাভাইরাসের উৎস বা উত্পত্তি সম্পর্কিত একাডেমিক গবেষণা প্রকাশে কঠোর বিধিনিষেধ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এক প্রজ্ঞাপন ও দুটি বিশ্ববিদ্যালয় এ সম্পর্কে অনলাইন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। যদিও পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় দুটি এ বিজ্ঞপ্তি সরিয়ে ফেলেছে।

নতুন এ নিয়ম অনুসারে কভিড-১৯ নিয়ে কোনো প্রতিবেদন জমা দেয়ার আগে তা পর্যবেক্ষণ করে দেখা হবে। তবে ভাইরাসের উত্পত্তি সম্পর্কিত প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে বাড়তি নজরদারি করা হবে। মুছে ফেলা সে বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, প্রতিবেদন প্রকাশের আগে অবশ্যই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে।

হংকংয়ের এক বিশেষজ্ঞ, যিনি কিনা গত ফেব্রুয়ারিতে অন্য একদল গবেষকের সঙ্গে যৌথভাবে কভিড-১৯ নিয়ে আন্তর্জাতিক মেডিকেল জার্নালে কাজ করেছেন তিনি জানান, সে সময় তাকে এমন পর্যবেক্ষণ বা নজরদারির ভেতর দিয়ে যেতে হয়নি।

জানুয়ারির শেষ দিকে চীনা গবেষকরা কভিড-১৯ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক মেডিকেল জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ করে এসেছেন। যেখানে শুরুর দিকে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার সময়ের কিছু বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। যেমন প্রথম কখন একজন মানুষ থেকে আরেকজন মানুষের মাঝে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ার বিষয় ধরা পড়ে। এই প্রাদুর্ভাব নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের অবস্থানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয় প্রতিবেদনগুলোতে, যা চীনা সোস্যাল মিডিয়ায় বেশ বিতর্কেরও জন্ম দেয়।

এরপর অবশ্য আন্তর্জাতিকভাবে ভাইরাস নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় চীন সরকারকে। অনেকেই সরাসরি দাবি করেছে, চীন তথ্য গোপন করেছে। এখন আবার কভিড-১৯-এর গবেষণাপত্র প্রকাশে আরোপ করা এ কড়াকড়ি ফের বিতর্কিত করবে চীনকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চীনা গবেষক বলেছেন, এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করার ফলে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজ বাধাগ্রস্ত হবে, যা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন তিনি।

সেই গবেষক বলেন, আমি মনে করি এটা চীন সরকারের করোনা সম্পর্কিত ভাষ্যকে নিয়ন্ত্রণের একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা। ব্যাপারটা তারা এমন দেখাতে চায় যে এই প্রাদুর্ভাবের উত্পত্তি চীনে হয়নি। পাশাপাশি আমি এও মনে করি না যে তারা এ রোগের উত্পত্তি সম্পর্কে কোনো ধরনের বক্তব্য—যা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পারে—তা সহ্য করবে।

এদিকে চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শাখা থেকে দেয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভাইরাসের উত্পত্তি নিয়ে একাডেমিক পেপার কঠোরভাবে নজরদারি করা হবে। যেখানে এ প্রতিবেদন প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কমিটি দেখবে। তারা এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শাখায় প্রেরণ করবে। তারপর এটি পাঠানো হবে স্টেট কাউন্সিলের টাস্কফোর্সে। সবশেষে টাস্কফোর্সের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর গবেষণাপত্র জার্নালে জমা দেয়ার জন্য বিবেচিত হবে।

ডসএনএন