গত মাসে শিশুদের স্কুলে (ভার্চুয়াল) ফিরে যাওয়া এবং ডে-কেয়ার সেন্টার বন্ধ থাকার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ১ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ শ্রমশক্তি থেকে বাদ পড়েছে। ন্যাশনাল ওমেন’স ল সেন্টারের রিপোর্ট অনুযায়ী এদের মাঝে ৮০ শতাংশ এমন আছেন, যারা কাজ করছেন না বা কাজ খুঁজছেন না। সেই অংশটি মূলত নারী।

ঐতিহাসিক ক্রিস্টাল এম মোটেন বলেন, কভিড-১৯-এর প্রভাবে রেকর্ডসংখ্যক নারী কর্মক্ষেত্র ছেড়ে যাচ্ছেন, কোথাও কোথাও তাদের সরিয়ে দেয়া হচ্ছে—এ রকম আর কোনো ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে নেই।

আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ৮ লাখ ৬৫ হাজার নারী কর্মক্ষেত্র ছেড়ে গেছেন। যাদের মাঝে ২ লাখ ২৪ হাজার হচ্ছেন লাতিন, যেখানে ৫৮ হাজার হচ্ছেন কৃষ্ণাঙ্গ নারী (একই সময়ে ২ লাখ ১৬ হাজার পুরুষ কর্মক্ষেত্র ছেড়ে গেছেন)। ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই দেখেছেন, কর্মক্ষেত্রে কাজ চালিয়ে যাওয়া এবং একই সময়ে অসমানুপাতিক হারে তাদের পক্ষে শিশুদের দেখাশোনা করা ও অন্যান্য দায়িত্ব পালন করা অসম্ভব।

নিউইয়র্ক টাইমসে আলিশা হারিদাসানি গুপ্তা লেখেন, নারীদের কর্মসংস্থান এরই মধ্যে ব্যাপকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে মহামারীজনিত চাকরি হারানোর কারণে। অতীতের অনেক মন্দার মতো নয়, যেখানে ছাঁটাই এবং কর্মহীনতা অনেক বেশি কেন্দ্রীভূত ছিল নারী অধ্যুষিত ক্ষেত্রগুলোতে, যেমন আতিথেয়তা, শিক্ষা, বিনোদন ও স্বাস্থ্যসেবা।

এপ্রিলে বেকারত্বের হার সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৭ শতাংশে আঘাত হানার পর সেটি এখন এসে নেমেছে ৭ দশমিক ৯ শতাংশে, যা উল্লেখযোগ্যভাবেই নিম্ন। কিন্তু তার পরও সাধারণ মানের চেয়ে অনেক বেশি। আর নতুন রিপোর্টগুলো বলছে, এ পতনকে চালিত করেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে নারীদের কর্মক্ষেত্র থেকে প্রস্থানের ঘটনাটি।

তাছাড়া বিভিন্ন ডেমোগ্রাফির মাঝে অবস্থানরত মহিলারা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। মহামারীর আগে শ্বেতাঙ্গ নারীরা সাধারণ কৃষ্ণাঙ্গ এবং লাতিন নারীদের চেয়ে কম কাজের খোঁজে থাকতেন, এমনকি সব ধরনের বর্ণের নারীদের শ্রমশক্তি থেকে বাদ পড়ার পরও এটি সত্যি থেকে গেছে। অন্যদিকে সেপ্টেম্বরে কৃষ্ণাঙ্গ এবং লাতিন নারীদের বেকারত্বের হার ছিল প্রায় ১১ শতাংশ। যা কিনা শ্বেতাঙ্গ নারীদের ৬ দশমিক ৯ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি। এ পার্থক্যটি ঐতিহাসিক বৈষম্যতাকে তুলে ধরে।

মোটেন বলেন, কর্মক্ষেত্রে অশ্বেতাঙ্গ নারীদের জন্য কাজের ক্ষেত্র খুবই সীমিত। শ্বেতাঙ্গ নারীরা যখন এগিয়ে যাচ্ছিলেন, সেখানে এ অশ্বেতাঙ্গ নারীরা কাজ করছিলেন ঘরে, ডে-কেয়ার সেন্টার ইত্যাদিতে। আর যখন এ অশ্বেতাঙ্গ নারীরা শ্রমশক্তিতে কিছু পেতে শুরু করেছিলেন, তখন কভিড-১৯ এসে সেসব ছোট অগ্রগতিকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

লিন অ্যান্ড ম্যাককিনসের একটি প্রতিবেদন মতে, মে ও আগস্টে কাজ ও জীবনের ভারসাম্য আনতে করপোরেট আমেরিকার এক-চতুর্থাংশ নারী হয় কাজ ছেড়েছেন কিংবা নিজেদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে এনেছেন। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা শেরিল স্যান্ডবার্গ বলেন, আমাদের অনেকের সন্দেহ ছিল, নভেল করোনাভাইরাস অনেক নারীকে মারাত্মক দুরবস্থার দিকে ঠেলে দেবে, যা কিনা সত্যের চেয়ে বেশি কিছু।

এদিকে ন্যাশনাল ডোমেস্টিক ওয়ার্কার অ্যালায়েন্সের ডিরেক্টর আই-জেন পো বলেন, গৃহকর্মীরা যেকোনো প্রজন্মের তুলনায় সবচেয়ে বেশি সংকটের মাঝে পড়েছেন। অনেক নিয়োগকর্তা তাদের সেবা নেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমাদের সদস্যের জরিপে আমরা ৪০ শতাংশ বেকারত্বের সন্ধান পেয়েছি। আর এসব মানুষ নথিভুক্ত না হওয়ার কারণে তারা সরকারের কোনো ধরনের ত্রাণও পাচ্ছেন না। আমরা কথা বলছি, একটি পূর্ণ বিকাশমান মানবিক সংকট নিয়ে, নারী শ্রমশক্তির হতাশাজনিত অবস্থান নিয়ে।

স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন