অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনটির আশান্বিত ফলাফল ঘোষণার পর ভ্যাকসিন সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর দাবিগুলো আরো বেড়ে গেছে। মহামারী শুরুর পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যান্টিভ্যাকসিন আন্দোলন প্রচারকরা ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যগুলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।

প্রথমত, করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের ট্রায়াল নিয়ে ভুল দাবিসংবলিত অস্টিওপ্যাথ চিকিৎসক ক্যারি মাদেজের তৈরি করা একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তিনি ভিডিওটিতে ভ্যাকসিনগুলো গ্রহীতাদের ডিএনএ পরিবর্তন করে দেয়ার দাবি করেছেন। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি আরো দাবি করেন, ভ্যাকসিনগুলো আমাদের সবাইকে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইন্টারফেসে পৌঁছে দেবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য মতে, বিশ্বজুড়ে ২৫টি ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালিত হচ্ছে, তবে এগুলোর কোনোটিই মানুষের ডিএনএ পরিবর্তন করবে না এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইন্টারফেসের সঙ্গে মানুষকে সংযুক্ত করার জন্য এগুলোর কোনো প্রযুক্তি নেই। ভ্যাকসিনগুলো আমাদের দেহে ভাইরাস শনাক্ত ও লড়াই করতে শরীরের প্রতিরোধক্ষমতাকে প্রশিক্ষণ দিতে তৈরি করা হয়েছে।

ক্যারি মাদেজ আরো বেশ কয়েকটি মিথ্যা দাবি করেছেন, ভ্যাকসিনের ট্রায়ালগুলোতে এটা নিরাপদ কিনা তা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক প্রটোকল অনুসরণ করছে না। বিবিসি অনলাইনের স্বাস্থ্য সম্পাদক মিশেল রবার্টস বলেছেন, নতুন ভ্যাকসিনগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহারের জন্য সুপারিশ করার আগে সেগুলোর কঠোর সুরক্ষা চেক করা হয়।

এমন দাবির বিষয়ে ক্যারি মাদেজকে জিজ্ঞাসা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি পোস্টারে দাবি করা হয়েছে, ১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লু মহামারী চলাকালীন ভ্যাকসিন গ্রহণ করে ৫০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে এটা সম্পূর্ণ ভুল। প্রকৃতপক্ষে সে সময় কোনো ভ্যাকসিনই ছিল না।

বিবিসি