ড. বার্নে গ্রাহাম চার দশক আগে শৈশবকালীন একটি সংক্রমণ নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন, তখন সামান্যতম ধারাণাও ছিল না যে ফেডারেল তহবিল দ্বারা করা কাজটি বিশ্বব্যাপী মহামারী থেকে মুক্তি পাওয়ার মূল বিষয় হতে পারে।

এ শরৎ বা শীতে এফডিএর অনুমতি পাওয়ার দৌড়ে থাকা সব ভ্যাকসিনের ডিজাইনের ভিত্তি হচ্ছে গ্রাহাম ও তার সহকর্মীদের দ্বারা বিকশিত ডিজাইনটি। ডিজাইনটি সামনে এসেছিল ১৯৬৬ সালের একটি বিপর্যয়কর ভ্যাকসিন ট্রায়ালের বৈজ্ঞানিক সুলুক সন্ধান করতে গিয়ে।

মৌলিক গবেষণাটি সম্পন্ন হয়েছিল গ্রাহাম ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের (এনআইএইচ) অন্যদের দ্বারা। যেখানে প্রতিরক্ষা বিভাগ এবং সংস্থার তহবিল দ্বারা পরিচালিত একাডেমিক পরীক্ষাগুলো কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিনের বিকাশের উল্লেখযোগ্য উপাদান। শেষ ধাপের ট্রায়ালে দারুণ কার্যকারিতা দেখানো মডার্নার ভ্যাকসিনের পেছনে সহযোগী হিসেবে সম্পৃক্ত ছিল গ্রাহামের এনআইএইচ ল্যাবরেটরি।

বর্তমানে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন নিরাপদ ও কার্যকর প্রমাণিত হলে ওষুধ শিল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে আসতে পারবে। কভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে সারা পৃথিবীর মানুষকে ভ্যাকসিন দিতে হলে ১৪ বিলিয়ন ভ্যাকসিন প্রয়োজন। অনেক বিজ্ঞানীর অনুমান অনুসারে, যদি ভ্যাকসিন দ্বারা তৈরি ইমিউনিটি হ্রাস পায় তবে সামনের বছরগুলোতে আরো প্রচুর ডোজ বিক্রির প্রয়োজন পড়বে। ফলে ফেডারেল সহায়তা নিয়ে প্রযুক্তি এবং পরীক্ষাগারগুলো অন্যান্য লাভজনক ভ্যাকসিন ও ওষুধ নিয়ে আসতে পারে।

ফাইজার ও মডার্নার বানানো ভ্যাকসিন (যারা প্রথম এফডিএ অনুমোদন পাওয়ার পথে) বিশেষত দুটি মৌলিক আবিষ্কারের ওপর নির্ভর করে, যা উদ্ভূত হয়েছিল ফেডারেল তহবিলের গবেষণায়। একটি হচ্ছে ভাইরাল প্রোটিন যা ডিজাইন করেছিলেন গ্রাহাম ও তার সহকর্মীরা এবং আরেকটি হচ্ছে আরএনএ মডিফিকেশনের ধারণা, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ায় প্রথম বিকশিত হয়েছিল ড্রিও ওয়েইম্যান এবং কাটালিন কারিকো দ্বারা। এমনকি ২০১০ সালে মডার্না নামটি এসেছে ‘মডিফিকেশন + আরএনএ = মডার্না’ থেকে।

করপোরেট ক্রিটিক পিটার মায়বারডুক বলেন, এটা মানুষের ভ্যাকসিন। ফেডারেল বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবনে সহায়তা করেছেন এবং করদাতারা এর বিকাশে অর্থায়ন করেছেন। এটাকে তাই মানবিকভাবে দেখা উচিত।

মুখপাত্র রায় জর্দানের মাধ্যমে কভিড-১৯ ভ্যাকসিনের উন্নয়ন প্রক্রিয়া ও দ্রুততার জন্য এনআইএইচের সংযুক্তির কথা স্বীকার করেছে মডার্না। তবে ফাইজারের মুখপাত্র জেরিকা পিটস বলেছেন, মডার্না ও অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় তাদের কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের কাছ থেকে কোনো ধরনের সহায়তা লাভ করেনি।

এমআরএনএ কিংবা ম্যাসেঞ্জার আরএনএ দ্বারা ভ্যাকসিন তৈরির ধারণা কয়েক দশক আগের। এমআরএন ভ্যাকসিন তৈরির প্রাথমিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল, কারণ প্রাথমিক আরএনএ প্রতিক্রিয়া তৈরির আগেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। আমাদের সহজাত ইমিউন সিস্টেম বিবর্তিত হয় আরএনএ স্ট্র্যান্ডসকে হত্যা করার জন্য।

কারিকো ধারণাটি নিয়ে সামনে আসেন। যেখানে তার সঙ্গে ছিলেন ওয়েইম্যান। নিশ্চিতভাবে তাদের কাজ বিগত দশকগুলোতে ব্যবহার করেছে মডার্না, বায়োএনটেক এবং অন্য ল্যাবরেটরিগুলো।

কারিকো হাঙ্গেরিতে আরএনএ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিলেন ১৯৭৮ সালে। অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে ২০০৪ সালে সফলতা পেয়েছিলেন তিনি এবং ওয়েইজম্যান। কারিকো এক সাক্ষাত্কারে বলেন, আমি লিখেই যাচ্ছিলাম এবং নিরীক্ষা করে আরো ভালো ফল পাচ্ছিলাম। কিন্তু কাজের জন্য আমি কখনো কোনো টাকা পাইনি। সমালোচকরা বলল, এটা কখনো ওষুধ হতে পারবে না। আমি যখন এটা আবিষ্কার করি, আমার বেতন যেসব টেকনিশিয়ান আমার অধীনে কাজ করছির তাদের চেয়েও কম ছিল। নানা পথ পেরিয়ে বর্তমানে কারিকো বায়োএনটেকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।

সায়েন্টিফিক আমেরিকান অবলম্বনে