নভেল করোনাভাইরাসের টিকা তৈরিতে ব্যস্ত কয়েকটা প্রতিষ্ঠান শেষ ধাপের মানবপরীক্ষায় ব্যস্ত। এই ট্রায়ালের জন্য হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক অংশ নিচ্ছেন। যদিও হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের সাবেক এক অধ্যাপক এই ট্রায়ালকে বলছেন ‘অপ্রয়োজনীয়, অনৈতিক ও তথ্যপূর্ণ নয়’।
‘কনট্রোলড ইনফেকশন ট্রায়ালস’ নামে পরিচিত এই মানবপরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করিয়ে টিকার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। উইলিয়াম হ্যাজেলটাইন সিএনএনকে বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে, এখানে মানুষকে গবেষণাগারের প্রাণীদের মতো ব্যবহার করা হয়।’
টিকার মানবপরীক্ষায় ব্যবহারের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এলার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিসেস করোনাভাইরাসের একটি ‘স্ট্রেইন’ সৃষ্টির জন্য কাজ করছে। যদিও এটি এখনই প্রয়োগ করা হবে কিনা, সেই পরিকল্পনা করা হয়নি বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির পরিচালক ড. অ্যান্থনি ফাউসি।
হ্যাজেলটাইন মনে করেন, এমন মানবপরীক্ষা তখনই প্রয়োজন যখন ভাইরাস প্রবল থাকে না, কিন্তু করোনাভাইরাস তো গোটা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
তিনি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। মানবপরীক্ষায় অংশ নেবেন মূলত স্বাস্থ্যবান, তরুণরা; তাই অপেক্ষাকৃত বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের ক্ষেত্রে যথেষ্ট তথ্য এখানে পাওয়া কঠিন হতে পারে। তার কথায়, ‘আমরা কি মানুষের শরীরে এমন ভাইরাস প্রবেশ করাতে প্রস্তুত, যা টিকা দিয়ে মেরে ফেলা সম্ভব?’
বিশ্বব্যাপী একশরও বেশি টিকা তৈরির চেষ্টা চলছে। রাশিয়া এরই মধ্যে সফল টিকা তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ছয়টি টিকা তৈরির কাজ এগিয়ে চলেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে মডার্না, যারা মানবপরীক্ষা এরই মধ্যে শুরু করে দিয়েছে। ২৭ জুলাই ৪ হাজার ৫৩৬ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে মডার্নার ট্রায়াল শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে ট্রায়ালের আওতায় আনার লক্ষ্য মডার্নার। সেটি করতে পারলেও নভেম্বরের মধ্যে টিকা বাজারে নিয়ে আসা কঠিন হতে পারে কোম্পানিটির জন্য।
স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে টিকার প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার আগে তাদের ২৮ দিন অপেক্ষা করতে হবে। কাজেই সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে তালিকায় আসা স্বেচ্ছাসেবকদের দ্বিতীয় ডোজ পাবে অক্টোবরের শেষ দিকে। ভাইরোলজিস্ট পল অফিট মনে করেন, ভাইরাসের কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য আরো দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে তাদের।
উল্লেখ্য, ১০ কোটি ডোজ পেতে মডার্নার সঙ্গে চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। দেশটিতে ৫২ লাখ মানুষ সংক্রমিত হয়েছে আর মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার আমেরিকানের। সিডিসি পূর্বাভাস দিয়েছে, ৫ সেপ্টেম্বর নাগাদ মৃত্যু ১ লাখ ৮৯ হাজারে পৌঁছতে পারে।
সূত্র: সিএনএন





