করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে দীর্ঘ কয়েক মাসের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পর ধীরে ধীরে ভ্রমণ গন্তব্যগুলো উন্মুক্ত হতে শুরু করেছে। তবে মহামারী বিদ্যমান থাকায় এ সময়ে যারা ভ্রমণ করছেন তাদের একটি নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্রমণের ছবি শেয়ার করার পর তাদের একধরনের অপমানজনক পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। আবার অনেকে নিজ থেকেও লজ্জিত অনুভব করছেন।
সম্প্রতি ইউরোপে ভ্রমণ করা যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের সারা আর্চারকে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। তিনি সিএনএনকে বলেন, সুইজারল্যান্ডে আমার প্রেমিক রয়েছে, তাই আমি ইউরোপে যাওয়ার উপায় খুঁজছিলাম। যদিও মার্কিন পাসপোর্টে এখন ইউরোপ যাওয়া কঠিন। আর্চার ১০ জুলাই সুইজারল্যান্ড থেকে আসা তার প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে যান। এই জুটি গাড়িতে করে ক্রোয়েশিয়া চলে যায়। আবার সেখান থেকে তারা সুইজারল্যান্ডের জুরিখে পৌঁছে।
আর্চার জানিয়েছেন, ভ্রমণে তিনি নিরাপদে ও আইনিভাবেই সবকিছু করেছেন। তিনি কীভাবে ইউরোপে প্রবেশ করতে পেরেছিলেন তা নিয়ে একটি নিবন্ধ ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছিলেন। কিন্তু তার কয়েকজন বন্ধু তাকে সরাসরি প্রশ্ন করে বসে যে এ সময় তার সত্যিই ভ্রমণ করার দরকার আছে কিনা।
তিনি বলেন, তারা আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল যে এ সময়ে ভ্রমণ করা কোনো দায়িত্বজ্ঞানহীন ও স্বার্থপর বলে মনে হচ্ছে কিনা। তখন আমি নিজেকে জিজ্ঞাসা করেছি, আমি কি কিছু ভুল করেছি? আপনিও নিজেকে প্রশ্ন করুন। আসলে বিড়ম্বনাটি হলো সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া, এমনকি সুইজারল্যান্ডের বার্নে বেশির ভাগ মানুষ রাস্তায় বা এমনকি মুদি দোকানগুলোতেও মাস্ক ব্যবহার করছে না। তবে সামাজিক মাধ্যমে লজ্জা পাওয়ার বিষয়টি তিনি নিজে ও তার প্রেমিককে মাস্ক ব্যবহারের দিকে প্রভাবিত করেছে।
পেনসিলভানিয়ার সোয়ার্থমোর কলেজের দর্শনশাস্ত্রের সহযোগী অধ্যাপক ক্রিস্টা থমাসন বলেছেন, মহামারীর সময় যখন ভ্রমণের কথা আসে, তখন স্বাস্থ্যঝুঁকির বাইরেও অন্যান্য আবেগ ও অনুভূতি থাকতে পারে। এগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা ভ্রমণকারীকে লজ্জা দেয়ায় আগ্রহী হচ্ছে। মহামারীর জন্য অনেক মানুষ ছুটি বা প্রিয়জনকে দেখার ভ্রমণ বাতিল করেছে। যখন তারাই অন্যকে অযৌক্তিক ভ্রমণ উপভোগ করতে দেখে, তখন তারা রাগান্বিত বা ঈর্ষা বোধ করতে পারে। এগুলোকে আবার একেকজন ভিন্নভাবে নেয়। আবার সবার ক্ষেত্রে এমনটা নাও ঘটতে পারে।
তিনি বলেন, এখন আমি যদি আমার সাম্প্রতিক অবকাশের একটি ছবি শেয়ার করি এবং এটার জন্য লোকেরা আমাকে লজ্জা দেয়, তবে আমি আমার ভুল বুঝতে পারব। আবার এটার জন্য সহজে রাগান্বিতও হয়ে যেতে পারি এ কারণে যে অন্যরা আমার জীবনযাপনে হস্তক্ষেপ করছে।
সিএনএন





