কভিড-১৯-এর সময়ে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর করা একটি জরিপে অংশ নিয়েছিল ৭০ হাজার মানুষ। যেখানে পাঁচ ভাগের এক ভাগ জানায়, লকডাউনের আগের সময়ের তুলনায় লকডাউন চলাকালে শিল্পকলার সঙ্গে অধিক যুক্ত ছিল। গবেষকরা এও দেখেছেন যে এ সময় গুগল সার্চে ‘প্রার্থনা’ নিয়েও খোঁজ করেছেন অনেকে। অনেকেই আবার মানে খুঁজতে চেয়েছেন মনোবিজ্ঞান ও দর্শনের ভেতর দিয়ে।

এ ধরনের পরিসংখ্যান পুনরায় খোলার পথে থাকা সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর জন্য আগ্রহোদ্দীপক প্রশ্নও ছুড়ে দেয়। সৃষ্টিশীল জনপরিসরের ভেতর দিয়ে কীভাবে আমরা ব্যক্তিগত আগ্রহকে যুক্ত করতে পারি? কীভাবে আমরা শিল্পকলার সংগঠনগুলোর  সামাজিক ভূমিকা কী হবে তা পুনরাবিষ্কার করতে পারি?

শিল্পকলার সামাজিক ভূমিকা

‘ওয়েলকাম’-এ (যারা গবেষণাটা চালিয়েছে) আমরা দেখেছি যে শিল্পকলা ও কমিশনগুলোর সঙ্গে জড়িত আমাদের সাংস্কৃতিক যুক্ততার প্রকল্পগুলো প্রায়ই নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং কখনো কখনো অপ্রত্যাশিত পথ খুঁজে বের করে।

অনেক শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চাকারী বড় ধরনের সামাজিক সমস্যা মোকাবেলায় আগ্রহী এবং তারা জনকল্যাণে গভীরভাবে অবদান রাখতে চায়। যে ধরনের উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মাঝে আমরা যাচ্ছি এবং চারপাশে যে খণ্ডিত বিশ্ব আমরা দেখছি, তা আমাদের উৎসাহী করেছে প্রকল্পগুলোকে একত্র করার জন্য, যা কিনা ইতিবাচকভাবে প্রভাব ফেলবে মানুষের ভেতরকার জীবন ও পৃথিবীকে উপলব্ধি করার ক্ষমতার ওপর। এ কাজে শিল্পকলার সামাজিক দিকের মতো মানসিক ও আধ্যাত্মিক দিকটাও আমাদের বিবেচনায় ছিল।

বিজ্ঞান ও শিল্পকলার যুগলবন্দি

সম্ভবত এটা বিজ্ঞান ও শিল্পকলার সংযোগস্থল, যেখানে স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো ব্যক্তির লেন্সের মাধ্যমে ফিল্টার করা যায়: যেখানে নীতি ও গবেষণা চালিত হয় ব্যক্তির অভিজ্ঞতার মাধ্যমে। এ সংযোগের শক্তি বেশ দারুণ। যা গবেষণার কার্যকারিতা এবং মানুষের অবস্থা সম্পর্কে আরো ভালো বোঝাপড়া উভয়ের জন্যই জরুরি।

মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর শিল্পকলার প্রভাব

ওয়েলকামের তিনটি প্রজেক্টের একটি হচ্ছে ‘মাইন্ডস্ক্যাপ’ এবং শিল্পকলাকে তরুণ প্রজন্মের সাহায্যার্থে ব্যবহার করা। এ প্রকল্পের থিমের ভিত্তি ছিল জীবনের বিভিন্ন দিক এবং সেই দিকগুলোকে মোকাবেলার উপায়। এ প্রকল্পগুলো মানুষকে সাহায্য করেছে। বিশেষ করে কিশোরদের হতাশা ও উদ্বেগের সঙ্গে লড়াই করার জন্য।

এ প্রকল্প আমাদের অনুমতি দিয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্কৃতিগুলোকে খতিয়ে দেখতে। এ প্রকল্পের ভেতর দিয়ে শিল্পীরা তাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা কিংবা ইতিহাস ভাগাভাগি করতে পারবে।

প্রকল্পটির জন্য শিল্পী, গবেষক, গ্যালারি ও অন্য সংগঠনগুলোর মাঝে মিথস্ক্রিয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি চালিত হয়েছে বেঙ্গালুরু, বার্লিন, নিউইয়র্ক ও টোকিওতে।

গবেষণা হিসেবে আর্ট: কভিড-লিভিং

এ প্রকল্পটি পরিচিত ছিল কভিড-লিভিং নামে। ‘ওয়েলকাম’র এ প্রজেক্টের উদ্দেশ্য ছিল করোনাভাইরাস মহামারীতে ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্যে গুরুত্ব দেয়া। ১৪ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের উৎসাহিত করা হয়েছে শিল্পকলার মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রথম বৈশ্বিক মহামারী সম্পর্কে অনুভূতি ব্যক্ত করতে।

চিত্র পরিচালক জ্যাক আরবুথনট এবং ক্রিয়েটিভ এজেন্সি ফ্লাইং অবজেক্ট এ প্রকল্পটির বিকাশ ঘটান। এ প্রকল্প কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম করে তোলে। ২৫ বছর বয়সী এক ভারতীয় আর্টের মধ্য দিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা বয়ান করেন। তার মতে, তিনি যখন শিল্পকলা সম্পর্কিত কাজ করছিলেন তখন অন্যান্যা বিষয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন না।

ওয়েলকামের এ প্রকল্পটি শিল্পীদের আর্টের ভেতর দিয়ে ভবিষ্যেকও তুলে ধরতে দেয়। পাশাপাশি এটি শিল্পীদের নিজেদের উদ্বেগ ও সেগুলোর সমাধানও আর্টের মাধ্যমে তুলে ধরতে উৎসাহিত করে। চারটি বৈশ্বিক শহর বার্লিন, জেনেভা, হংকং ও নিউইয়র্ক এখানে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

হেলথ রাইটআপস ও দ্য প্রিন্ট