ভারতে কভিড-১৯-এর কন্টাক্ট ট্র্যাকিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট অ্যাপটি গোপনীয়তা নষ্ট হওয়ার ভয় নিয়েও অনেককে ডাউনলোড করতে হচ্ছে। ‘আরোগ্য সেতু’ নামে এই অ্যাপটি সামনে আনা হয় মাত্র ছয় সপ্তাহ আগে।

ভারত সরকার সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলোতে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এ অ্যাপের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। যদিও অনেক ব্যবহারকারী ও বিশেষজ্ঞ এ অ্যাপের কারণে তত্ত্ব-উপাত্ত সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি বোধ করছেন।

যদি আপনি দুই সপ্তাহের মাঝে কভিড-১৯ টেস্টে পজিটিভ হয়েছে এমন কারো সংস্পর্শে আসেন তবে অ্যাপটি আপনার সময় এবং নৈকট্যের ভিত্তিতে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি হিসাব করে ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেয়। এভাবেই মূলত অ্যাপটি কাজ করে থাকে।

এই অ্যাপটি আপনার লিঙ্গ, ভ্রমণ ইতিহাস এবং আপনি ধূমপায়ী কিনা সেই তথ্যও সংগ্রহ করে।

এদিকে ভাইরাস রোধ করার লক্ষ্যে এ অ্যাপের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করায় অনেকেই সমালোচনা করেছে। এক সাক্ষাত্কারে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারক বিএন শ্রীকৃষ্ণ বলেন, অ্যাপ ব্যবহারে মানুষকে বাধ্য করা সম্পূর্ণ অবৈধ। আপনি কোনো আইনে এটাকে বাধ্যতামূলক করতে পারেন না? আইন দ্বারা তা সমর্থিতও না।

এ বিষয়ে ফ্রান্সের এথিকাল হ্যাকার রবার্ট ব্যাপটিস্টে বলেন, অ্যাপ ব্যবহারে মানুষকে বাধ্য করানো আপনাকে সফল করবে না। এটা দমনমূলক কাজ।

তবে এই অ্যাপ নিয়ে জনগণের মাঝে আরেকটি বড় ভয় হচ্ছে গোপনীয়তা হারানোর আশঙ্কা। বিশেষজ্ঞরাও এ ধরনের উদ্বেগের যৌক্তিকতা মেনে নিয়েছেন। বিশেষ করে অবস্থান ট্র্যাক করার বিষয়টিকেই সবচেয়ে ভয়ংকর মনে করছেন তারা। ইন্টারনেট ওয়াচডগ মিডিয়ানামার এডিটর নিখিল পাওয়া বলেন, কোনো অ্যাপ যখন কার সঙ্গে আপনি যোগাযোগ করছেন এবং আপনার অবস্থান ট্র্যাক করে, তবে তাতে নিশ্চিতভাবেই গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হয়।

বিবিসি