নভেল করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে অনেকের লক্ষণই প্রকাশ পাচ্ছে না, অনেকের হালকা লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে, যারা চিকিৎসা নিয়ে কিছুদিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। আবার অনেকের মারাত্মক লক্ষণ দেখা দেয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরে তাকে ভেন্টিলেটরের সাহায্যে শ্বাস নিতে লড়াই করতে হচ্ছে, আবার অনেকে মারাও যাচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কভিড-১৯-এর লক্ষণ এমন আলাদা কেন হচ্ছে, তা এখনো পরিষ্কার না।
তবে জিনগত পার্থক্য কি কভিড-১৯-এর লক্ষণের পার্থক্যগুলো ব্যাখ্যা করতে পারে? এমন প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির কম্পিউটেশনাল বায়োলজি অ্যান্ড বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পিএইচডি গবেষক অস্টিন নুগেইন, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অভিনব নেলোরে এবং রেডিয়েশন মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রিড থম্পসন।
যখন কোনো ভাইরাস মানুষের কোষে সংক্রমিত হয়, তখন অ্যান্টিভাইরাস অ্যালার্ম সিস্টেম কীভাবে চালু হচ্ছে, তা অনুযায়ী শরীর প্রতিক্রিয়া দেখায়। এ অ্যালার্মগুলো ভাইরাল আক্রমণকারীদের শনাক্ত করে, এরপর শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সংক্রমিত কোষগুলোকে ধ্বংস করার জন্য এবং সংক্রমণকে ধীর করতে এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা সাইটোটক্সিক টি কোষ প্রেরণ করতে বলে। তবে সব অ্যালার্ম সিস্টেম সমানভাবে তৈরি হয় না। মানুষের মধ্যে একই জিনের বিভিন্ন সংস্করণ রয়েছে, যাকে অ্যালিল বলা হয়। এর মধ্যে কিছু অ্যালিল অন্যদের তুলনায় নির্দিষ্ট ভাইরাস বা রোগজীবাণুর প্রতি বেশি সংবেদনশীল।
অ্যালার্ম সিস্টেমের যে অংশটি আমরা পরীক্ষা করেছিলাম তাকে হিউম্যান লিউকোসাইট অ্যান্টিজেন সিস্টেম বা এইচএলএ বলা হয়। প্রতিটা ব্যক্তির জিনের একাধিক অ্যালিল থাকে, যা তাদের এইচএলএ ধরনগুলো তৈরি করে। পৃথক এইচএলএ প্রোটিনের জন্য একেকটা অ্যালিল কোড তাকে। এই প্রোটিনগুলো অ্যালার্ম সিস্টেমের সেন্সর এবং বিভিন্ন পেপটাইডকে আবদ্ধ করে শরীরে অনুপ্রবেশকারীদের সন্ধান করে। করোনাভাইরাসের অংশ তৈরি করা অ্যামাইনো এসিডের চেইনগুলো অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়। একবার এইচএলএ প্রোটিন কোনো ভাইরাস বা ভাইরাসের টুকরোতে আবদ্ধ হলে এটি অনুপ্রবেশকারীকে কোষের পৃষ্ঠে স্থানান্তর করে। এতে কোষটি সংক্রমিত হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং সেখান থেকে প্রতিরোধক্ষমতা কোষটিকে মেরে ফেলে। সাধারণভাবে একজন ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধক্ষমতা যত বেশি হবে, সেই ব্যক্তির এইচএলএ ভাইরাসের তত পেপটাইডগুলো শনাক্ত করতে পারে।
এ অধ্যয়নের ওপর ভিত্তি করে আমরা মনে করি কভিড-১৯ রোগীদের সংক্রমণের তীব্রতার মধ্যে বিশাল পার্থক্যের জন্য এইচএলএ জিনের ধরনগুলো দায়ী। যদিও এইচএলএ জিনের মধ্যে পার্থক্যগুলো কেবল জিনগত কারণে নয়, যা কভিড-১৯-এর তীব্রতাকে প্রভাবিত করে। তবে এটা ধাঁধাটির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হতে পারে। এইচএলএর ধরনটি কভিড-১৯-এর ক্লিনিক্যাল কোর্সে কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে তা বোঝা এ রোগে উচ্চঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।
দ্য কনভারসেশন





