ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যালকোহল পান করেন না, সুতরাং বিভিন্ন ওষুধ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার গুরুতর কোনো সমস্যা হয়েছে বলে মনে হয় না। প্রেসিডেন্টের চিকিৎসক ও মেডিকেল দলের মতে, কয়েকদিন ধরে ট্রাম্প ডেক্সামেথাসন, রেমডেসিভির, জিংক, ভিটামিন ডি, ফ্যামোটিডিন, মেলাটোনিন, অ্যাসপিরিন, রেজনেরনের অ্যান্টিবডি ককটেলসহ সম্ভাব্য সবগুলো ওষুধই গ্রহণ করেছেন।
অথচ অ্যান্টিভাইরাল রেমডেসিভির কভিড-১৯-এর চিকিৎসায় এখনো কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত হয়নি, অন্যদিকে রেজনেরনের পরীক্ষামূলক অ্যান্টিবডি ককটেল কেবল কিছু মানুষের ওপর পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ডেক্সামেথাসন হলো স্টেরয়েড, যা মারাত্মক অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে কার্যকর হিসেবে দেখা হলেও হালকা লক্ষণের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ।
কভিড-১৯ পজিটিভ পরীক্ষা করার পর থেকে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন তিনি দুর্দান্ত আছেন। সোমবার ওয়াল্টার রিড মেডিকেল সেন্টার থেকে হোয়াইট হাউসে ফিরে যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে ট্রাম্প টুইট করেছিলেন, ‘সত্যিই ভালো লাগছে!...২০
বছর আগের চেয়েও আমি ভালো বোধ করছি!’ কিন্তু প্রচুর মানুষ জিজ্ঞাসা করেছে, তিনি কি সত্যিই গুরুতর এ ওষুধগুলো গ্রহণ করেছেন?
একটি তত্ত্ব হলো ভিআইপি সিনড্রোম। এটা এমন একটি ঘটনা যেখানে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সেবা পান। কারণ চিকিৎসকরা তাদের চিকিৎসা করার জন্য অতি উৎসাহী থাকেন কিংবা ভিআইপিরা চিকিৎসকদের কথা না মেনে তাদের ওপর প্রভাব খাটান। কিছু বিশেষজ্ঞ ইঙ্গিত দিয়েছেন, ট্রাম্প গুরুতর অসুস্থ নন, তবে তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিষয়ে জোর দিয়েছিলেন। অন্যদিকে এটাও সম্ভব যে তিনি খুব অসুস্থ, তবে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিতে তিনি চিকিৎসকদের চাপ দিয়েছেন।
ভিআইপিরা অনেক সময় চিকিৎসা দাবি করে থাকেন। যেমন পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসন মারাত্মক ককটেল ড্রাগের কারণে মারা গিয়েছিলেন। অনিচ্ছাকৃত হত্যার জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়া তার চিকিৎসক তাকে একটি সার্জিক্যাল অ্যানেস্থেটিক দিয়েছিলেন, কারণ অনিদ্রায় ভোগা গায়ক নিশ্চিত ছিলেন যে এটাই একমাত্র উপায় যে তিনি ঘুমাতে পারবেন।
তবে ট্রাম্প ভিআইপি সিনড্রোমে আত্মঘাতী না হলেও এতে তার শারীরিক ক্ষতি হতে পারে। ট্রাম্প বাড়িতে পৌঁছেই মাস্কটি খুলে ফেলেন। হোয়াইট হাউজ সূত্রগুলো বলছে, প্রশাসনে একধরনের পালাক্রম শুরু হয়েছে। সহযোগীরা অপেক্ষা করছেন, কার পর কে কভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হবেন। স্পষ্টতই কেউ কেউ কাজ না করার চেষ্টা করছেন। আপনি তাদের দোষ দিতে পারেন? ট্রাম্পের আশপাশের অন্তত ১৩ জন কভিড-১৯ পজিটিভ। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র নার্ভাস বলে মনে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ভ্যানিটি ফেয়ার অনুসারে, ডন জুনিয়র তার ভাই-বোনদের বিষয়টিতে হস্তক্ষেপের অনুরোধ করছেন, কারণ তার বাবা ‘পাগলের মতো’
করছেন। এটা ট্রাম্পের গ্রহণ করা সব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট আসলেও কতটা অসুস্থ সে সম্পর্কে কারো ধারণা নেই।
গার্ডিয়ান





