রোগীর জন্য পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর না থাকায় বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসকরা। এ সমস্যা মোকাবেলায় এগিয়ে এসেছেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) ও ফর্মুলা ওয়ান ইঞ্জিন নির্মাতা মার্সিডিজ-এএমজি এইচপিপির একদল প্রকৌশলী। তারা রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে কন্টিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেসার (সিপ্যাপ) ডিভাইসের নতুন ডিজাইন প্রস্তুত করেছেন, যা শ্বাসকষ্টে ভুগছে এমন রোগীরাও ব্যবহার করতে পারে।
এ উদ্যোগের শুরুটা হয় টিম বেকার নামের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক অধ্যাপকের হাত ধরে। তিনিই মার্সিডিজ-এএমজি এইচপিপিতে কর্মরত তার পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা গত ১৮ মার্চ সেন্ট্রাল লন্ডনে মেকস্পেসে মিলিত হন। এ বৈঠকে বেকার মার্সিডিজের প্রকৌশলীদের প্রথাগত সিপ্যাপ ফ্লো জেনারেটরের একটি নমুনা দেন। যন্ত্রটি বেকারকে দিয়েছিলেন ইউসিএল হসপিটালসের ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিনের অধ্যাপক মারভিন সিঙ্গার।
প্রকৌশলী দলটি রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে সিপ্যাপের নতুন একটি ডিজাইন তৈরি করেন, যা মার্সিডিজের ফর্মুলা ওয়ানের কারখানায় তৈরি করা যাবে। সাধারণত যেকোনো মেডিকেল ডিভাইসের অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগে। কিন্তু এ দলটি আগে অনুমোদিত একটি ডিভাইসের আদলে নতুন ডিভাইসটি তৈরি করেন। এ কারণে যুক্তরাজ্যের মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রডাক্টস রেগুলেটরি এজেন্সি দ্রুত নতুন ডিভাইসটির অনুমোদন দেয়।
নতুন ডিভাইসটির প্রথম ডিজাইন ২৭ মার্চ ক্লিনিক্যাল টেস্টিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। এর চারদিন পরই যুক্তরাজ্যের সরকার ১০ হাজার ডিভাইস সরবরাহের কার্যাদেশ দেয়। নর্দাম্পটনে অবস্থিত মার্সিডিজের কারখানা এ ডিভাইসটি দৈনিক এক হাজার পিস উৎপাদনের উপযোগী করা হয়। ফর্মুলা ওয়ানের জন্য পিস্টন ও টার্বোচার্জারস প্রস্তুতকারী ৪০ ধরনের মেশিন এখন এ সিপ্যাপ তৈরি করছে।
ভেন্টিলেটরে রোগীর শ্বাসনালিতে টিউব ঢোকানোর প্রয়োজন পড়লেও সিপ্যাপের ক্ষেত্রে তা লাগে না। এর বদলে ফেস মাস্কের সহায়তায় সিপ্যাপ দিয়ে বায়ুমণ্ডলের চেয়ে বেশিমাত্রায় অক্সিজেনসমৃদ্ধ বায়ু রোগীর নাক দিয়ে প্রবেশ করানো হয়। এতে রোগীকে অচেতন করার প্রয়োজন পড়ে না। পর্যাপ্ত সিপ্যাপ পাওয়া গেলে করোনা সংক্রমণে সংকটাপন্ন রোগীদের ভেন্টিলেশনের সুযোগ তৈরি হবে।
নতুন এ সিপ্যাপের নকশা ও প্রস্তুতের কলাকৌশল কোনো ধরনের ফি ছাড়াই বিশ্বজুড়ে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ২৫টি দেশের ১ হাজার ৩০০ দলকে এর নকশা শেয়ার করেছে উদ্ভাবক দলটি।
স্ক্রল ইন





