রাইডশেয়ারিং সার্ভিসের উত্থান আমাদের ভ্রমণের ধারণাকে ব্যাপকভাবে বদলে দিয়েছে। চিরায়ত ট্যাক্সির সঙ্গে অ্যাপভিত্তিক এ রাইডশেয়ারিং সার্ভিস আমাদের ব্যক্তিগত ভ্রমণকে আগের চেয়ে অনেক সহজ করে দিয়েছে। কিন্তু ট্যাক্সি কিংবা রাইডশেয়ারিং সার্ভিস কতটা নিরাপদ? যেখানে হয়রানি ও সহিংসতার অনেক ঘটনার কথাও শোনা যায়। যার সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে কভিড-১৯ মহামারী।
গত বছর মেলবোর্নে এক নারী রাইডশেয়ারিং করতে গিয়ে ড্রাইভারের হয়রানির মুখে পড়ার কথা জানান। প্রায় নিয়মিতই এ ধরনের ঘটনা ঘটার কথা এরই মধ্যে আমাদের সামনে এসেছে। ২০১৯ সালে রাইডশেয়ার সার্ভিস উবার প্রথমবারের মতো সেফটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেখানে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে কোম্পানিটি ড্রাইভারদের দ্বারা কিংবা অন্য যাত্রীদের দ্বারা তিন হাজার যৌন হয়রানির রিপোর্ট পেয়েছে।
এসব ঘটনা তো ছিলই, সে সঙ্গে এবার ট্যাক্সি ও রাইডশেয়ারিংয়ের ব্যবহারকে আরো জটিল করে তুলেছে কভিড-১৯ মহামারী। কারণ মহামারীকালে কীভাবে, কোথায় ও কখন মানুষ ভ্রমণ করবে সেটি মৌলিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।
লকডাউন ও বাসায় বসে কাজ করাও এ সেবাগুলো গ্রহণ করার হারকে নিচে নামিয়ে দিয়েছে। আবার যারা ব্যবহার করছে, তাদের মধ্যে ট্যাক্সি ও রাইডশেয়ারিংয়ে কভিডে সংক্রমিত হওয়ার ভয় ও উদ্বেগও অনেকাংশে বেড়ে গিয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ লকডাউন থেকে বেরিয়ে আসার পর কীভাবে যাতায়াত করবে তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। কভিড-১৯-এ সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে অনেক মানুষ ট্যাক্সি কিংবা রাইডশেয়ারগুলো ব্যবহার করার ব্যাপারে স্বস্তি বোধ করছে না।
ভিক্টোরিয়ার ৯৪ জন যাত্রীকে নিয়ে একটি জরিপের প্রাথমিক অনুসন্ধান বলছে, মহামারীর আগে তারা ট্যাক্সি ব্যবহারের তুলনায় রাইডশেয়ারিংকে অধিকতর নিরাপদ বলে মনে করত। যেখানে তারা সে সময় ট্যাক্সিতে যাতায়াত করার ক্ষেত্রে একা যাওয়া নিয়ে ভয় ও তাদের ওপর বিষাক্ত দ্রব্য প্রয়োগ করা নিয়ে আতঙ্কিত বোধ করত। সে তুলনায় তারা রাইডশেয়ারিংকে তুলনামূলক নিরাপদ বলে মনে করত। উদহারণস্বরূপ রাইডশেয়ারিং ব্যবহারের সময় তারা বন্ধুদের কাছে ট্রেকিং কোড পাঠাতে পারত এবং ড্রাইভার ও অন্য যাত্রী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও প্রদান করতে পারত। বিশেষত অ্যাপ দ্বারা যেসব রাইডশেয়ারিং ব্যবহূত হতো তা অধিকতর নিরাপদ বলে জানানো হয়।
কিন্তু অর্ধেক অংশগ্রহণকারী জানিয়েছে, মহামারীর পর তারা ট্যাক্সি ও রাইডশেয়ারিংকে আগের তুলনায় সমানভাবে নিরাপদ বলে মনে করে। অংশগ্রহণকারীদের লিখিত মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জানা গেছে, শারীরিক সুরক্ষার পাশাপাশি মানুষ এখন স্বাস্থ্য সুরক্ষার উদ্বেগের বিষয় নিয়েও অভিজ্ঞতা লাভ করছে। এ উদ্বেগের মাঝে রয়েছে বদ্ধ জায়গায় ড্রাইভার কিংবা অন্য যাত্রীর সঙ্গে অবস্থান সম্পর্কিত ভয় এবং গাড়িটি ঠিকভাবে পরিষ্কার করাসহ আরো নানা বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা।
দ্য কনভারসেশন





