নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অনুমোদিত গবেষণার ত্রুটিগুলো তুলে ধরেছেন জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানীরা। তারা বলেছেন, গবেষণাটিকে প্রমাণ হিসেবে নিয়ে যুক্তরাজ্যের ২ মিটার (৬ ফুট) শারীরিক দূরত্বের নিয়ম শিথিল করা উচিত নয়।
ডব্লিউএইচওর পরিচালিত গবেষণায় বলা হয়েছে, শারীরিক দূরত্ব ২ মিটার থেকে ১ মিটারে নিয়ে এলে সংক্রমণের ঝুঁকি কেবল ১ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে।
যুক্তরাজ্যের জরুরি অবস্থায় সরকারের বৈজ্ঞানিক পরামর্শদাতার একজন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যানবিদ অধ্যাপক ডেভিড স্পিগেলহাল্টার। তিনি বলেছেন, ১ মিটার বনাম ২ মিটার শারীরিক দূরত্বে সংক্রমণের ঝুঁকির বিশ্লেষণটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। এটা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
ওপেন ইউনিভার্সিটির ফলিত পরিসংখ্যানবিদ অধ্যাপক কেভিন ম্যাককনওয়ে আরো এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে দূরত্বের বিশ্লেষণটিকে অনুপযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ২ মিটারের বিপরীতে ১ মিটার ন্যূনতম দূরত্বে সংক্রমণের ঝুঁকি কত বেশি, তা নিয়ে যুক্তি দেয়া উচিত নয়।
ল্যানসেট মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এ সমীক্ষাটি সর্বশেষ গবেষণা। অন্টারিওর ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে করা গবেষণাটিতে আগে প্রকাশিত গবেষণাগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন দূরত্বে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি যাচাই করে। এটা মাস্ক ও চোখের সুরক্ষা কীভাবে সংক্রমণের বিস্তার রোধে সহায়তা করতে পারে, তাও বিবেচনায় নেয়। তবে বিশ্লেষণে তারা ২ মিটার থেকে ১ মিটারে যাওয়ার ঝুঁকি ১ মিটার থেকে শূন্য দূরত্বে যাওয়ার সমান বলে রায় দিয়েছেন।
ম্যাককনওয়ে বিশ্বাস করেন যে গবেষণাটিতে বিভিন্ন দূরত্বে সংক্রমণ নিয়ে ঝুঁকিগুলোর তুলনা করার ক্ষেত্রে মৌলিক সমস্যা রয়েছে। তিনি বলেন, ন্যূনতম ২ মিটার দূরত্বের সঙ্গে ন্যূনতম ১ মিটার দূরত্বের ঝুঁকি তুলনার পদ্ধতিটি ত্রুটির্পর্ণ।
গার্ডিয়ান





