এখন কোনো সার্জন যদি সকালে একটি তোয়ালে থেকে তৈরি মাস্ক পরে অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে পৌঁছান, তবে তাকে সম্ভবত বরখাস্ত করা হবে। এটার কারণ হলো অস্ত্রোপচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য ব্যবহূত সরঞ্জামগুলো অবশ্যই নির্দিষ্ট মান অনুযায়ী পরীক্ষিত ও প্রত্যয়িত হওয়া উচিত। তবে কোনো ব্যক্তি গণপরিবহন ব্যবহার করতে বা দোকানে যাওয়ার জন্য জনস্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে যে কেউ মাস্কের নকশা এবং সেটা তৈরি করতে পারেন।

প্রকৃতপক্ষে মুখের আচ্ছাদনগুলোর গুণমান ও আদর্শ সম্পর্কে সাম্প্রতিক বিতর্কগুলোর মাধ্যমে বোঝা যায় যে কেন অনেক মানুষ মনে করে তারা করোনাভাইরাসের সুরক্ষার জন্য কার্যকর নয়। সম্ভবত প্রধান সমস্যাটি হলো আমরা জানি যে ভালো নকশা করা ফেস মাস্কগুলো ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম (পিপিই) হিসেবে বেশ কয়েক বছর ধরে কার্যকরভাবে ব্যবহূত হয়েছিল। কিন্তু কভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবে পিপিইর সংকটে পুরো জনগণের পক্ষে এটি ব্যবহার করা যেন অবৈধ হয়ে উঠেছে। ফলে ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য ফেস মাস্ক পরা এবং জনসুরক্ষার জন্য মুখের আচ্ছাদন ব্যবহারের দিকে সরে গেছে।

ধারণাটি হলো অনিয়ন্ত্রিত মুখের আচ্ছাদনগুলো অত্যন্ত পরিবর্তনশীল হওয়া সত্ত্বেও আপনি কাশি দিলে আপনার মুখটি ঢেকে রাখার মতোই সম্ভবত ভাইরাসের বিস্তার কমিয়ে দেয়। কিন্তু এগুলো কার্যকর কিনা সেটা বোঝার উপায় কী?

প্রথমত কার্যকর দ্বারা আমরা কী বোঝাতে চাইছি, সেটা পরিষ্কার হওয়া। করোনাভাইরাস কণা প্রায় শূন্য দশমিক শূন্য ৮ মাইক্রোমিটার এবং একটি সাধারণ কাপড়ের মুখের আচ্ছাদনগুলোর মধ্যে বুনাগুলো প্রায় ১ হাজার গুণ বড় (১ থেকে শূন্য দশমিক ১ মিলিমিটারের মধ্যে) ফাঁক থাকে। তবে ‘কার্যকারিতার’ অর্থ নির্ভরযোগ্যভাবে ভাইরাসটিকে আটকে দেয়া নয়। কাপড়ের আচ্ছাদন ব্যবহারের লক্ষ্য হলো আপনার শ্বাস আপনার শরীর থেকে যে দূরত্বে ছড়িয়ে যায় তা হ্রাস করা।

সুতরাং একটি কার্যকর মুখের আচ্ছাদন পরা ভাইরাসটিকে ধরা থেকে বিরত রাখা নয়। যদি ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আপনি নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে চান, তবে আপনাকে অবশ্যই এন-৯৫ মানের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু এভাবে আমরা সবাই এই মাস্কগুলো ব্যবহার শুরু করে স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছি।

আপনি যদি ভাইরাসটি থেকে বাঁচতে চান, তবে সবচেয়ে কার্যকর বিষয় হলো ঘরে বসে থেকে বাইরের ভিড় এড়িয়ে চলা, নাক-মুখ স্পর্শ না করা এবং নিয়মিত সাবান-পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করা।

এটা অনুমান করা মোটামুটি সহজ যে ভাইরাসের ছোট কণাগুলো বাষ্পীয় কণাগুলোর মতো প্রায় একই দিকে ভ্রমণ করবে, এমন কিছুর সম্ভাবনাও রয়েছে যে সেগুলো মুখের আচ্ছাদনের মধ্য দিয়ে সরাসরি যেতে পারবে। তবে এটা কতটা ঘটতে পারে তার ধারণা পেতে একটি পরীক্ষা করা যেতে পারে। মুখের সামনে একটি মোমবাতি রেখে বিভিন্ন দূরত্বে এবং বিভিন্ন উপকরণ ও বিভিন্ন সংখ্যক স্তরসহ চেষ্টা করা যেতে পারে। আর কোনো অত্যাধুনিক সরঞ্জাম না থাকলে বাড়িতে আর কোনো সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা কঠিন হবে।

সায়েন্স অ্যালার্ট