আমরা ভয়ংকর ও বিভ্রান্তিকর একটি মহামারীর মাঝে আছি। যেখানে প্রতিনিয়ত নতুন ও পরস্পরবিরোধী তথ্য আমাদের সামনে আসছে। শুরুর দিকে বেশির ভাগ জনস্বাস্থ্য পরামর্শ ছিল অতীতের প্রাদুর্ভাবের ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু নতুন এ করোনাভাইরাসটি
আচরণ করছে একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবে এবং একে বুঝতে পারাও কঠিন। তার পরও গত সাত মাসে আমরা সার্স-কোভ-২ সম্পর্কে নয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানতে পেরেছি।
কভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব যেকোনো জায়গায় হতে পারে: এই নয় মাসে আমরা জানতে পেরেছি যে করোনাভাইরাস বিশ্বের যেকোনো জায়গায় সংগঠিত হতে পারে। এটি কেবল চীনের বাজারে, কিংবা ইতালিতে একে অন্যের গালে শুভেচ্ছামূলক চুমু খাওয়ার কারণে হয়েছে এমন নয়। এ প্রাদুর্ভাব শহর-গ্রাম যেকোনো জায়গায় দেখা দিতে পারে।
এটি যে কাউকে আক্রান্ত ও হত্যা করতে পারে: কভিড-১৯-এর শুরুর দিকে কেবল বয়স্ক এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা যাদের ছিল তাদের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দেখাচ্ছিল। কিন্তু এখন আমরা জানি যে এটা যেকোনো বয়সের মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এমনকি শিশুরাও এর শিকারের বাইরে থাকছে না।
সংক্রমিত পৃষ্ঠতলই কেবল বিপজ্জনক নয়: শুরুতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছিলেন বারবার হাত ধোয়ার জন্য। পাশাপাশি হাত দিয়ে নাক-মুখ স্পর্শ না করতে এবং আশপাশের স্থান ও বস্তু জীবাণুমুক্ত করার কথা বলেন। এটা প্রস্তাব করা হয় অন্যান্য ভাইরাল রোগের বিস্তৃতির ওপর ভিত্তি করে। তবে এখন এসে আমরা জানি সংক্রমিত পৃষ্ঠতলই কেবল সংক্রমণ ছড়ানোর কারণ না।
এটা বাতাসেও ছড়ায়: শুরুতে বলা হয় হাঁচি-কাশিতে নির্গত যে ড্রপলেটের মাধ্যমে করোনা ছড়ায় তা বেশ ভারী, ফলে এটি বেশিক্ষণ বাতাসে টিকে থাকতে পারে না। কিন্তু এখন এসে আমরা জানছি এটা বাতাসে ভেসে থাকতে পারে এবং যে কাউকে আক্রান্ত করতে পারে।
অসুস্থ না হয়েই যে কেউ সংক্রামক হতে পারে: অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের রোগে মানুষের মাঝে হাঁচি-কাশির সমস্যা দেখা যায়। যেমন সার্স প্রাদুর্ভাবে অনেকে খুব দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ে, ফলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হয় এবং আইসোলেশনে রাখা হয়। এর ফলে তারা ভাইরাস ছড়াতে পারে না। অন্যদিকে কভিড-১৯-এর লক্ষণ দেখা যাওয়ার আগেই অনেকের মাঝে এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে, এমনকি কারো কারো মাঝে কখনই কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।
উষ্ণ আবহাওয়া ভাইরাস থামাতে পারে না: ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো শ্বাসতন্ত্রের রোগ শীতকালে চূড়া স্পর্শ করে। অনেক বিশেষজ্ঞ ভেবেছিলেন কভিড-১৯-এর সংক্রমণও একইভাবে ঘটবে এবং উত্তর গোলার্ধে বসন্তে ও গ্রীষ্মে এর প্রাদুর্ভাব কমবে। যদিও এখন আমরা জানি করোনা যেকোনো সময় ছড়াতে পারে।
মাস্ক কার্যকর: মহামারীর শুরুতে অনেক বিশেষজ্ঞ দুশ্চিন্তায় ছিলেন যে সবাই মাস্ক কেনা শুরু করলে জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিতরা মাস্কের সংকটে পড়বে, যাদের এটি অনেক বেশি প্রয়োজন। ফলে তারা মাস্ক পরাকে নিরুৎসাহিত করে। কিন্তু এখন আমরা জানি মাস্ক মানুষকে অনেক ক্ষেত্রে ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে।
বর্ণবাদই মূল ঝুঁকি: পদ্ধতিগত বর্ণবাদের কারণে মাস্ক অশ্বেতাঙ্গ মানুষদের সবচেয়ে বেশি হত্যা করেছে। মূলত অশ্বেতাঙ্গ মানুষেরা যে ধরনের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে তা তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।
ভুল তথ্যও হত্যাকারী: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ, ভ্যাকসিনবিরোধী আন্দোলনকারী এবং ডানপন্থী মিডিয়ার লোকজন মহামারীকে ভুল তথ্য প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। যা কিনা সংক্রমণের তীব্রতাকে অনেক বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে।
সায়েন্টিফিক আমেরিকান থেকে সংক্ষেপে অনূদিত





