কভিড-১৯-এর সময়টায় এসে আমাদের দেখার মানদণ্ড ও কোনো কিছু করার দৃষ্টিভঙ্গি মিশ্রিত হয়ে যাচ্ছে। এখন আবশ্যিক একটা প্রশ্ন হচ্ছে মানুষ কী সিদ্ধান্ত নেবে—তারা কি নতুন ব্যবস্থায় স্থায়ী হবে নাকি পুরনো অবস্থায় ফিরে যাবে?

উদাহরণস্বরূপ, আমি সাধারণত ঝলমলে রেস্টুরেন্টে যেতে পছন্দ করতাম। সেখানে আমি ১০টি অ্যাপিটাইজার অর্ডার দিতাম (কোন মেইন কোর্স থাকত না)। সেই অ্যাপিটাইজারগুলো ছিল অনেক আলাদা আলাদা উপাদান দিয়ে তৈরি, যা খুব সতর্কতার সঙ্গে প্লেটে রাখা হতো। আজকে এসে সেই একই রেস্টুরেন্টের প্রতি কোনো আকর্ষণই আমার কাছে নেই, ধারণা করছি সেটি এখন খোলাই আছে। তারা তাদের অনেক অপ্রয়োজনীয় মেন্যু বাদ দিয়েছে। পাশাপাশি আমি চাইলেও একজন ওয়েটারের সঙ্গে ইচ্ছামতো সময় ধরে আলাপ করতে পারি না। তাছাড়া ভেতরে দারুণ সাজসজ্জ্বা ও অভিজ্ঞতার ব্যাপার ছিল, যা কিনা আপনি যখন বাইরে বসতে যাবেন তখন আর পাবেন না।

আমার নতুন পছন্দের রেস্টুরেন্টটি বেশকিছু মজার খাবার পরিবেশন করে। কখনো কখনো আমি ভেতরে বসে খাওয়ার সাহস দেখাই, যদিও তা বেলা ১১টায়। যখন অন্য কোনো গ্রাহক উপস্থিত থাকে না। আমি আমার খাবার শেষ করি এবং নিজের গন্তব্যে চলে যাই। আমার পরিবর্তিত অভ্যাসগুলোর বিস্তৃত প্রভাব কেমন? আপনি যদি রেস্টুরেন্ট খোলেন তবে আপনি কি এমন শেফ রাখবেন যে কিনা সৃষ্টিশীল রান্নায় পারদর্শী? নাকি এমন কাউকে প্রাধান্য দেবেন যিনি আরামদায়ক রান্নায় বিশেষজ্ঞ?

এখন আমার আরো একটি পছন্দের অবকাশকালীন কাজের কথা ধরা যাক, পেশাদার বাস্কেটবল খেলা উপভোগ করা। আমি এনবিএ ম্যাচগুলো বেশ পছন্দ করি। মায়ামি হিট এখন এনবিএ ফাইনালে পৌঁছানোর দাবিদার। যদিও নিয়মিত মৌসুম শেষে তারা আগের পঞ্চম র্যাংকিংধারী দল ছিল। কী ঘটেছিল? তারা দৃঢ় সংকল্প নিয়ে খেলেছিল। তাদের সম্পূর্ণ সক্রিয় রোস্টার তাদের শারীরিক ফিটনেসের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। পাঁচ মাসের ছুটির পর এটা করা মোটেই সহজ ছিল না। এজন্য ব্যাপকভাবে শৃঙ্খলার মাঝে থাকা জরুরি।

বিপরীতে লস অ্যাঞ্জেলেস ক্লিপার্স ছিল এনবিএ শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার দল। তারা সম্প্রতি বিদায় নিয়েছে ডেনভার নাগেটসের কাছে হেরে। যারা বেশ ভালো দল, কিন্তু শিরোপার দাবিদার হওয়ার মতো দল তারা না। সিরিজের শেষ ম্যাচের শেষ অংশে জয়ী নাগেটস দারুণ শক্তি ও সাহসিকতা নিয়ে খেলেছে। সে তুলনায় বেশ পিছিয়ে ছিল ক্লিপার্স। পরাজয়ের পর কয়েকজন ক্লিপার্স বলেন, এই হীনমন্য অবস্থা তাদের সমস্যার অংশ।

ফলে দেখা যাচ্ছে, পাঁচ মাসের ছুটিতে শারীরিকভাবে ফিট অবস্থায় থাকা একজন বাস্কেটবল খেলোয়াড়ের জন্য বেশ প্রয়োজন। এর মানে এটা নয় যে ক্লিপার্সকে তাদের রোস্টার পুনর্নির্মাণ করতে হবে। সম্ভবত তাদের কেবল স্বাভাবিক সময়ে ফেরার অপেক্ষা করা উচিত।

একটি ব্যাপার হচ্ছে, যেসব বিষয় মহামারীকালে একজনকে ভালো কর্মী কিংবা ভালো বস করে তোলে, তা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশ ভিন্ন। অনেক মাস ধরে দূরে বসে কাজ করার ক্ষমতার গুরুত্ব বাড়ছে। নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর নিশ্চয় এ বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া উচিত। কিংবা এখনই সময় হচ্ছে মেধাবী কিন্তু দলীয়ভাবে কাজ করায় পারদর্শী কাউকে বেছে নেয়ার।

এসব গুণগত বদল কাজের বাইরেও আপনার পছন্দগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে, যেমন আপনার বন্ধু, পারিবারিক সম্পর্ক, রোমান্স এবং আরো অনেক কিছু? পছন্দের কারো সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার ব্যাপারে কী হবে? প্রথমবার দেখা করতে যাওয়ার সময় কি সাজসজ্জ্বার বিষয়টি কি কম গুরুত্ব পাওয়া উচিত, সামাজিক সচেতনতার চেয়ে। কিন্তু কতদিনের জন্য? এটা সম্ভবত খুবই অবাক করা এবং অবিবেচনাপ্রসূত হবে, যদি একটি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ভিত্তি হয় আপনার পছন্দের মানুষটির মাস্ক পরতে আগ্রহ আছে কিনা তা।

দ্য প্রিন্ট থেকে সংক্ষেপে অনূদিত