এতদিন ধারণা করা হচ্ছিল মধ্য জানুয়ারিতে উহানফেরত এক নাগরিকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে গুচ্ছ আকারে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘটেছিল। উহান থেকে সেই নাগরিক সিয়াটলে এসেছিলেন। কিন্তু নতুন একটি মডেলিং স্টাডি এ ধারণাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।
ওয়াশিংটন রাজ্যে ফেব্রুয়ারির শেষদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। আর ধারণা করা হয়, এটা ঘটেছিল মধ্য জানুয়ারিতে উহানফেরত এক আক্রান্ত ভ্রমণকারীর মাধ্যমে। কিন্তু নতুন এক মডেলিং জানাচ্ছে, মধ্য ফেব্রুয়ারিতে সিয়াটলে আসা এক ভ্রমণকারীর মাধ্যমেই ওয়াশিংটনে কভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ে। বায়োআরজিভে প্রকাশিত এক প্রিপ্রিন্ট গবেষণা প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
ওয়াশিংটন ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে রোগীদের থেকে সংগ্রহ করা ভাইরাল নমুনার জিনোমের ওপর ভিত্তি করে সংক্রমণ চিত্রকে আমলে নিয়ে তৈরি করা মডেল ওপরের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নর্থইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যামুয়েল স্কারপিনো বলেছেন, এ গবেষণা নিশ্চিত করেছে যে ‘পশ্চিম উপকূলে কিছু প্রাথমিক সংক্রমণ ঘটেছিল।’
ফ্রেড হাচিনসন ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার এবং ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনে প্যাথোজেন ইভোলিউশন বিষয়ে গবেষণা করেছেন ট্রেভর বেডফোর্ড। জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন রাজ্যে শনাক্ত হওয়া প্রথম করোনা আক্রান্তের ভাইরাল জিনোম ডব্লিউএআই নামে পরিচিত। ট্রেভরের প্রাথমিক গবেষণা বলছে, এই ডব্লিউএআই এবং ওয়াশিংটনে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শনাক্ত এ রোগীর ভাইরাল জিনোম যথেষ্ট সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই তিনি জানাচ্ছেন, ওয়াশিংটনে করোনা ছড়িয়ে পড়া শনাক্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই ‘অদৃশ্য সংক্রমণ’
ঘটে গিয়েছিল।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিজ্ঞানীরা যথেষ্ট জিনসম্পর্কিত তথ্য জড়ো করেছেন। ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনার মাইকেল ওরোবে এবং তার সহকর্মীরা অন্তত ১ হাজার ভাইরাল ইভোলিউশন নমুনা যাচাই করেছেন। তারা দেখতে চেয়েছেন ডব্লিউএআইর সঙ্গে ছয় সপ্তাহ পর ওয়াশিংটনে সংক্রমণগুলোর মধ্যে কোনো সাদৃশ্য আছে কিনা।
মাইকেল ওরোবে বলেছেন, কোনোভাবেই সংক্রমণ ডব্লিউএআইর মাধ্যমে ছড়ায়নি। ‘বরং এটা শুরু হয়েছিল পরবর্তী সময়ে ওয়াশিংটনে আসা কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তির মাধ্যমে। এবং এই ব্যক্তি কোথা থেকে এসেছিলেন তা আমরা জানি না।’
বেডফোর্ড নিজে মাইকেল ওরোবের দলের গবেষণার ফলাফলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ২৫ মে টুইট করেছেন।
নতুন এ গবেষণা ইউরোপের প্রথম সংক্রমণের বিষয়টিও পরীক্ষা করে দেখেছে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, জার্মানির গুচ্ছ সংক্রমণ ইতালিতে আঘাত করেনি। বরং তথ্যপ্রমাণ জানাচ্ছে যে দেশ দুটিতে সংক্রমণ ঘটেছে পৃথকভাবে চীনফেরত ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে। এরপর ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ভাইরাস সংক্রমণ ইতালি থেকে নিউইয়র্কে হাজির হয়।
মাইকেল ওরোবে এবং তার গবেষক দল জানাচ্ছে, মধ্য জানুয়ারি থেকে মধ্য ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে করোনা সংক্রমণ অজানা ছিল। সে সময় শনাক্ত করা গেলে পরীক্ষা ও কন্ট্যাক্ট ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে মহামারী ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো যেত। তারা মনে করেন মধ্য ফেব্রুয়ারির আগেই বিচ্ছিন্নভাবে যে সংক্রমণ হয়েছে সেগুলো শনাক্ত করা গেলে যুক্তরাষ্ট্রে কভিড-১৯ সংক্রমণকে রুখে দেয়া যেত।
দ্য সায়েন্টিস্ট





