‘বাড়ির মতো কোনো স্থান নেই’—এ কথাটি সম্ভবত আজকাল আর হূদয়কে ছুঁয়ে যায় না। কারণ করোনাভাইরাসের কারণে চলা লকডাউনে দীর্ঘ সময় বাড়িতে বন্দি থাকতে থাকতে বাড়ির প্রতিও মনের টান হয়তো অনেকের কমে গেছে। ভাইরাসটি বিশ্বজুড়ে সম্পত্তি ও আবাসন বাজারে বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এটা মোটামুটি পরিষ্কার যে বিপুল বেকারত্ব, মজুরি হ্রাস, ব্যবসায়িক ব্যর্থতা এবং চাকরির অনিশ্চয়তার কারণে অনেক মানুষ তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ বাড়ি কেনার বিষয়ে সতর্ক হতে পারেন। এর ফলে বাড়ির দামও কমে যাবে। সর্বশেষ মন্দায় যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য অনেক দেশে এমন দেখা গেছে। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যে মে মাসে আগের মাসের তুলনায় বাড়ির দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, এটি গত ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হ্রাস।

তবে ন্যাশনওয়াডের প্রধান অর্থনীতিবিদ রবার্ট গার্ডনার বলছেন, কিছু কিছু লক্ষণ রয়েছে, যা স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি সাধারণ অর্থনৈতিক মন্দা নয়। তাই লকডাউন প্রত্যাহার অব্যাহত থাকলে অর্থনীতি ও আবাসন বাজারগুলো ঘুরে দাঁড়াবে।

সম্প্রতি লকডাউন প্রত্যাহারের পর লন্ডনে অফিস ব্লকসহ ভবন ও অ্যাপার্টমেন্টের চাহিদা বেড়েছে। এই দ্রুত পরিবর্তিত সময়েও সম্পত্তি বাজারে দুটি বিষয় ঘটছে। প্রথমটি হলো, সম্পত্তির দাম কমে যাওয়ায় এটা বুদ্ধিমান বিনিয়োগ হতে পারে। সম্পত্তি দীর্ঘমেয়াদি ও নিরাপদ বিনিয়োগ এবং ভালো রিটার্ন দেয়। দ্বিতীয়টি হলো খাতটি দৃঢ় ও অপরিবর্তনীয় এবং এটা বছরের পর বছর ধরে উল্লেখযোগ্যভাবে নমনীয় বলে প্রমাণিত হয়েছে। সব মিলিয়ে মহামারীটি সম্পত্তি বাজারের জন্য এক বিরাট ধাক্কা হতে পারে। তবে লকডাউন উঠে গেলে এ বাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতেও পারে।

বিবিসি