ল্যারি ক্যালি একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের সবচেয়ে অসুস্থ রোগী হিসেবে বিবেচিত হন। ভর্তি হওয়ার একদিন পর কভিড-১৯ তার ফুসফুস নষ্ট করে দেয়ায় তাকে ভেন্টিলেটরে নেয়া হয়েছিল। তার খিঁচুনি হচ্ছিল এবং তার অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা তার লাইফ সাপোর্ট খুলে দিতে চেয়েছিলেন। তিনি কোমায় চলে গিয়েছিলেন।

হাসপাতালে ১২৮ দিনের মধ্যে তিনি ভেন্টিলেটরেই ছিলেন ৫১ দিন। চিকিৎসা শেষে গত বৃহস্পতিবার তিনি হাসপাতাল ছেড়ে বাড়িতে ফেরেন। হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যক্ষ ক্যালি যখন মার্চ মাসে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন তার শীত লাগছিল। এরপর হাসপাতালে ভর্তির পর তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।

৬৪ বছর বয়সী ল্যারি বলেন, আমি কোমাতে থাকাকালীন আমার উভয় ফুসফুসে নিউমোনিয়া ছিল। তারা আমাকে শান্ত করার জন্য ফেন্টানেল (ব্যথার চিকিৎসায় ব্যবহূত শক্তিশালী ওষুধ) দিয়েছিল। আমি ফেন্টানেলের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম। আমার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছিল এবং তারা আমার পুরো মস্তিষ্ক ঢেকে রেখেছিল।

চিকিৎসকরা ক্যালির স্ত্রী, মেয়ে ও ভাইকে হাসপাতালে ডেকে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন এবং শেষ বিদায় জানাতে বলেছিলেন। কিন্তু তার স্ত্রী চিকিৎসকদের ক্যালির শেষ টেক্সটের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। টেক্সটে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে আমি কখনই যুদ্ধ থামাব না।’

পরিবারের সমর্থন ও চিকিৎসকদের কঠোর পরিশ্রমের ফলে অবশেষে ক্যালি চোখ খুলে তাকিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমি খুব ভাগ্যবান। আমার চারপাশে লোকেরা মারা যাচ্ছিল, তবে আমি মারা যাইনি। এটা কি কোনো মিরাকল?

সিএনএন