‘...প্রলয়ের বীজ যতক্ষণ মাটির নীচে থাকে ততক্ষণ অনেক সময় নেয়। সে এত সময় যে, ভয়ের বুঝি কোনও কারণ নেই। কিন্তু মাটির উপর একবার যেই এতটুকু অঙ্কুরে দেখা দেয় অমনি দেখতে দেখতে বেড়ে ওঠে। তখন তাকে কোনোমতে আঁচল দিয়ে, বুক দিয়ে চাপা দেওয়ার আর সময় পাওয়া যায় না।’— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঘরে বাইরে উপন্যাসে ‘বিমলার আত্মকথা’।   

মানুষের নিশ্চিত জীবনযাপনে আঘাত কোনো না কোনো সময় যে এসে পড়বে তা নিয়ে উদ্বিগ্নতা ছিলই। বিশ্বপ্রকৃতির ওপর মানুষের যথেচ্ছাচারের সীমা লঙ্ঘিত হয়েছে দিনে দিনে। পরিবেশ মানুষের কাছে তার সতর্কবার্তা নানাভাবে পৌঁছে দিচ্ছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে জলবায়ুর পরিবর্তন, মেরু প্রদেশে বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘন ঘন ঘূর্ণাবর্তজনিত ঝড়ঝঞ্ঝা, এসবই প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ার সংকেত। বায়ুদূষণের মাত্রা মানুষ ও মনুষ্যত্বের প্রাণীর সহনশীলতার গণ্ডিকে ছাড়িয়েছে অনেক আগেই। পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলে জলবায়ু বিষাক্ত হয়েছে। সামুদ্রিক জীব ও বন্যপ্রাণীর জীবনধারণও কষ্টকর হয়ে উঠছে ক্রমেই। জীববৈচিত্র্যের দফারফা হয়েছে। বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে এবং এখনো হচ্ছে একের পর এক জীব প্রজাতি। ভূগর্ভের ভাঁড়ারেও জলের টানাটানি। মানুষ নিজের প্রয়োজনে এমন অনেক ধরনের কাজই করে চলেছে, যা প্রকৃতি অনুমোদন করে না। মানুষ তার প্রয়োজনীয়তার সীমাকে সীমিত করতে পারেনি। চাহিদাই হয়ে উঠেছে বিপন্নতার কারণ। 

দুই.

মন আসলেই ভীষণ ছন্নছাড়া। তবু এটা বলে সংযত থাকতে পারছি না—করোনাভাইরাসে পরিস্থিতির ব্যাপকতা খুবই খারাপের দিকে যাচ্ছে। কোনো এক অজানা মহাবিপর্যয়ের দিকে আমরা হাঁটছি। এটা কি জেনে-শুনে বিষপান করার মতো? নিঃসন্দেহে একটি নতুন ভাইরাস বিশ্বকে কাঁপিয়ে যাচ্ছে। সারা পৃথিবীতে আমরা একটি দুঃসময়ে বাস করছি। আমার মনে হয় না, এ রকম সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছাড়া পৃথিবীর বাসিন্দারা আর দেখেছে! পুরো পৃথিবীকে কীভাবে একটি ভাইরাস সংক্রমণের মাধ্যমে কাবু করে ফেলেছে, একত্র করে ফেলেছে। আলাদা করে বলা যাবে না যে আমেরিকা বা তাবৎ কোনো শক্তিশালী দেশ ভালো অবস্থায় আছে। সব দেশেরই একই রকম অবস্থা। হয়তো উনিশ-বিশের রকমফের হতে পারে। প্রকৃত অর্থে পৃথিবীর চিত্র এখন পাল্টে গেছে। চারদিকে কেবল আহাজারি আর মৃত্যুর অশুভ পদধ্বনি। খোদ চীনে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

তিন.

পরিস্থিতি কি তাহলে নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে?

মানি কিংবা না মানি, সাধারণ নাগরিক ভীষণ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। আমরা জানি না, আমাদের দেশে একনাগাড়ে সংক্রমণ শুরু হলে কী পরিস্থিতি হতে পারে! আমরা কি সেই ভয়াবহ অবস্থা মোকাবেলার জন্য যথার্থভাবে প্রস্তুত! ঠিকভাবে কেউই জানি না এর উত্তর। চারদিকে শুধু হতাশার ছবি।

প্রথম দিক থেকে নভেল করোনাভাইরাসকে আমরা অত্যন্ত সাধারণ এবং তাচ্ছিল্যভাবে দেখে এসেছি। এখনো দেখছি। আমরা আগাম প্রস্তুতি নিতেও পারিনি। যথেষ্ট ঘাটতি আমাদের ছিল। মানুষকে সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে বিশ্বের একের পর এক শহর, অঞ্চল, দেশ লকডাউন করা হচ্ছে। তবে এই লকডাউনও ভাইরাসটি মোকাবেলায় যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্বাহী পরিচালক মাইক রেয়ান।

আমরা করোনা আক্রান্ত ইতালি থেকে আসা প্রবাসীদের দেশে দেদার ঢুকতে দিয়েছি পরীক্ষা ছাড়াই। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন দিতে পারিনি। তারা সমাজে ছড়িয়েছে, মিশেছে। করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে। আমরা লকডাউনে যাইনি বাইরের দেশগুলোর মতো। আমরা সরকারি ছুটির ফাঁদে ফেলেছি। যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে কার্যত দেশকে লকডাউনে দিয়েছি। লকডাউনের চাপে প্রায় সবাই হাঁসফাঁস করছে। বিশেষ করে ‘দিন আনে দিন খায়’ মানুষগুলোর অবস্থা খুবই করুণ। এছাড়া গ্রামেও খাদ্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তবে সেটা পর্যাপ্ত নয়। প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও সরকারি ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি বরাদ্দের মধ্যে কোনো কোনো জায়গায় ত্রাণ লুটপাটের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব খবর খুবই উদ্বেগের। সরকারের ত্রাণ পরিকল্পনায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। বেসরকারি খাতের সঙ্গে একটি সমন্বয় তৈরি করা দরকার। যতদিন করোনা সংকট থাকবে ততদিন কাজ হারানো সব অভাবী মানুষের কাছে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো পৌঁছাতে হবে। সরকার এরই মধ্যে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এ প্রণোদনা টাকাই বৃহৎ শিল্প, সার্ভিস ও রফতানি খাতের জন্য। আসন্ন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ স্বাস্থ্য খাতের জন্য কিছু নেই। কৃষকের জন্যও কিছু নেই। যে পাঁচ-ছয় কোটি মানুষ হাতে কোনো টাকা না নিয়ে ক্ষুধা নামের সবচেয়ে ভয়ংকর মহামারীর ভবিতব্য নিয়ে বসে আছে, তাদের জন্যও কিছু নেই।

চার.

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ ও সিভিল প্রশাসন তো মাঠেই ছিল। অসচেতন জনগণের বেপরোয়া একটা অংশ সমাগম বা আড্ডাবাজিতে লিপ্ত হচ্ছে। ছুটিতে পাগলের মতো কোটি মানুষ গ্রামে গেল। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে পুলিশ অ্যাকশন অনিবার্য ছিল। অথচ সেটি সময়োপযোগী হলো না। সরকার ছুটি বাড়াল ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। এ ছুটি হয়তো আরো বাড়তে পারে। বাড়ানোর প্রয়োজনও আছে। কিন্তু কথা নেই, বার্তা নেই, মালিকরা গার্মেন্ট খুলে দিলেন।

বারবার বলা হচ্ছে, এ সময়টা খুব জটিল ও কঠিন সময়। সবাই যেন গৃহে অবস্থান করে। সুরক্ষিতভাবে নিরাপদে থাকে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার মতো পদক্ষেপ আপাতসমাধান। অথচ শ্রমিক ‘ঢাকায় ফিরতে’ মরিয়া হয়েছেন। কয়েকশ পথ পাড়ি দিয়ে, গাদাগাদি করে পিকআপ-ট্রাকে চেপে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে ঢাকায় ফিরছেন। কেননা কাজে যোগ না দিলে পরে চাকরি হারাতে হবে তাদের। টেলিভিশনের পর্দায় ‘ভয়ংকর’ দৃশ্য দেখে আমরা কেউ বিস্মিত, কেউ উত্তেজিত। সরকার জনগণের ট্যাক্স-টাকায় গার্মেন্টের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এ প্রণোদনা প্যাকেজ কাদের জন্য? গার্মেন্ট খোলা রাখার জন্য?

ঢাকামুখী জনস্রোত আবার! গার্মেন্ট শ্রমিক থেকে গ্রামে যাওয়া সবাই ফিরছে। এখন ফেরিসহ সব পথে সামাজিক দূূরত্বের নিষেধাজ্ঞা, ঘরে থাকার নির্দেশ ভেঙে আবার লোকসমাগম হচ্ছে ঢাকায়! সবখানে শিথিলতা, অসচেতনতা, স্ববিরোধিতা, দোদুল্যমানতা! এতে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ভয়ংকর আশঙ্কা কত গুণ বাড়ল কেউ বলতে পারবেন? আবার কয়েক লাখ লোককে ঢাকায় এনে, সামাজিক দূরত্বকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এখন ১১ এপ্রিল পর্যন্ত গার্মেন্ট বন্ধ রাখার আহ্বান বিজিএমইএর! একেই বলে ‘বাইনারি অপোজিশন’ বা ‘দ্বৈত বৈপরীত্য’। আবার বিজিএমইএর আহ্বান উপেক্ষা করে কয়েকটি গার্মেন্ট কারখানা খোলা রাখা হয়েছে। এ ধরনের ‘সার্কাস’ আমাদের দেশেই সম্ভব।

সরকার গার্মেন্ট সেক্টরকে চালু রাখতে বলছে দেশের অর্থনৈতিক চাকা ঘোরানোর জন্য। সরকার বলছে যেন স্বাস্থ্যসচেতনতা বজায় রেখে, সামাজিক ডিসট্যান্স বজায় রেখে গার্মেন্টে শ্রমিকের কাজের ব্যবস্থা করা হয়। সম্ভব তা কোনো গার্মেন্টে?

বহু লেখালেখি ও আলোচনা-সমালোচনার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কাটমোল্লাদের কারণে মসজিদে মুসল্লিদের যাওয়া সরকার আটকাতে পারছে না। মক্কা-মদিনায় যেখানে কারফিউ, এখানে জামাতে নামাজ থেকে পূণ্য স্নানে সমবেত হতে হচ্ছে মুসলমান ও হিন্দুদের! এ পরিস্থিতিতে চলতি বছর মুসলমানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় জমায়েত হজ অনুষ্ঠিত হবে কিনা, সেটা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ১৭৯৮ সালে হজ বন্ধ থাকার নজিরও রয়েছে। দিল্লিতে তাবলিগের অনুসারী ৭৩ বাংলাদেশী কোয়ারেন্টিনে। আমাদের হাটবাজার সবখানেই সমাগম। এমনকি করোনা আক্রান্তের বাড়ির সামনেও উত্সুক জনতার ভিড়। মোড়ে মোড়ে দোকানগুলো কিংবা বাসার সামনে আড্ডাবাজি চলছে। সরকারের এত এত প্রতিষ্ঠান-সংস্থা অথচ নিয়ন্ত্রণ সেখানেও নেই।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘করোনা প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় কমিটির প্রধান হলেও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ছাড়া অন্য কোনো সিদ্ধান্ত আমাকে জানানো হয় না।’ অর্থাৎ সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর বক্তব্য ও সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে এটা দেখা যায়, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। আরো দেখা যায়, শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছাড়া কোনো পদক্ষেপও কোনো মন্ত্রণালয় নেয়ার সক্ষমতা দেখাতে পারছে না। 

পাঁচ.

পরিস্থিতি আসলে কোন দিকে মোড় নিচ্ছে, আমরা বোধহয় ঠাহর করতে পারছি না। যদি ঠাহর করতে পারতাম তাহলে প্রতিদিনকার ব্রিফিংয়ে সরকারের স্বচ্ছতা দেখা যেত। হিসাব-নিকাশে মনে হচ্ছে সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। জনগণও সেটা বুঝতে পারছে। কিন্তু পরিষ্কার হতে পারছে না। একটা দ্বন্দ্বের মধ্যে জনগণ রয়েছে। সরকার এখানে ব্যর্থ হয়েছে এটা বুঝতে যে এ ভাইরাসে ভয়াবহতা কোন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকছে। ফলে সরকার ছুটি দিলেও কিছুদিন পর জনগণ আর বাসায় থাকছে না। ‘মন মানে না’ গোছের ভাবনায় তাড়িত হয়ে অহেতুক বাড়ির বাইরে বেরোচ্ছে অনেকে, ছোটখাটো জমায়েত করছে। আবার প্রয়োজনেও কখনো কখনো জমায়েত হচ্ছে। পারস্পরিক দূরত্ব বজায় থাকছে না। তারা নভেল করোনাভাইরাসকে অন্যান্য রোগের মতো সাধারণই ভাবছে।

সামাজিক দূরত্ব ও কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতে সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে মাঠ প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে। সেখানে খুব একটা কার্যকরী ফল এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো জায়গায় সেনাবাহিনীর তত্পরতা দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে তা নেই।

একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ৪৮ জন সংবাদকর্মী এখন আইসোলেশনে। একজন আক্রান্তও হয়েছেন। এই একটি ঘটনায় বোঝা যায় পরিস্থিতি আসলে কত ভয়াবহ, সংকটাপূর্ণ!

ছয়.

এদিকে বিভিন্ন সংগঠন, ব্যক্তি নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষদের, যারা দিন আনে দিন খায়, তাদেরকে খাদ্যসামগ্রী ত্রাণ দিচ্ছে। কিন্তু আমরা দেখছি সামাজিক মহৎ কাজের চেয়ে অনেকে নিজেদের শোডাউনে ব্যস্ত। দুই কেজি চাল বিতরণের চেয়ে ২০-৩০ জনকে নিয়ে ফটোসেশন করে সোস্যাল মিডিয়ায় তা উপস্থাপনই হচ্ছে এদের বড় ওজর। একটা স্টান্টবাজিতে পরিণত হচ্ছে। আমাদের সামাজিক দূরত্ব তৈরির ব্যর্থতা কি সামনে মহাবিপর্যয় নিয়ে আসবে না? তবে কি আমরাই করোনার মহামারীকে ডেকে আনছি? মহামারী দেখা দিলে ১৮ কোটি মানুষের দেশে পরিস্থিতি কত বেদনার হবে ভাবছি? ইউরোপ-আমেরিকা যেখানে ব্যর্থ, আমাদের পরিণতি কী হবে?

সাত.

পরিস্থিতি আসলেই ভয়াবহ। সারা বিশ্বে মৃত্যুহার ক্রমাগত বাড়ছে। বাংলাদেশেও মৃত্যুহার বেড়ে চলছে।

আপনারা বাড়িতে থাকুন। নিরাপদে থাকুন। নিজেকে অবশ্যই আলাদা রাখুন। বাকিদের সুস্থ ও ভালো রাখতে নিজেরে সুস্থতা নিশ্চিত করুন। প্রত্যেকের সুস্থতা এখন আমাদের সবার কাম্য।

আট.

মন ভালো লাগছে না। মন কবে ভালো হবে, তাও জানি না।

তবে সব মন্দের একটা ভালো দিক থাকে। পারস্পরিক নানান অনৈক্যে আমাদের দেশ তথা জাতির সংহতির বাঁধনটা অনেকটাই শিথিল হয়ে পড়েছিল। সংকটাপন্ন দেশবাসীর মন এই প্রথম একই দুর্ভাবনাসূত্রে একসঙ্গে গাঁথা পড়েছে। সবাই সমান বিপন্নতাবোধে দুঃসহনীয় জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা লাভ করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই বলেছিলেন, ‘মৃত্যুর সম্মুখে যাহারা একত্রিত হয়, তাহারা পরস্পরের অনৈক্যকে বড় করিয়া দেখিতে পারে না।’ এক্ষেত্রেও তা-ই হচ্ছে। ঘরবন্দি অবস্থায় গোটা দেশের মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকলেও একই ভাবনার ঐক্যে পুনর্গঠিত হচ্ছে তাদের চেতনা। সংকটের আঁধার থেকে বেরিয়ে আসা নাগরিক সমাজ সংহতিবোধের নয়া কোনো আলোকে জেগে উঠতে পারে কিনা, সেটা সময়ই বলবে। 

হাবীব ইমন: সভাপতি, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, ঢাকা মহানগর