ইউরোপের অনেক জায়গায় কভিড-১৯-এর দ্বিতীয় ঝড় দেখা যাচ্ছে, যা কিনা কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রথম ঝড়ের চেয়ে তীব্র রূপ ধারণ করেছে। বিপরীতে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সংক্রমণ কিছুটা কমে এসেছে বলে মনে হচ্ছে । যেমন ভারতে সেপ্টেম্বর থেকে সংক্রমণের হার নিম্নগামী। যারা কিনা সব মিলিয়ে সংক্রমণের দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া ব্রাজিলের মতো উন্নয়নশীল দেশে সংক্রমণের মাত্রা নিচের দিকে নেমেছে আগস্টে এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় সেটি দেখা গেছে জুলাইয়ে।

এর আগে মার্চে বাস্তবিক ও যৌক্তিক ভয় ছিল যে অপেক্ষাকৃত গরিব দেশগুলোতে ভাইরাস ছড়াতে শুরু করলে সেখানকার সীমিত স্বাস্থ্যসেবা খাতের কারণে ইতালি ও স্পেনের চেয়ে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। এখনো আমরা নিশ্চিত না যে আমাদের আসন্ন শীত এবং আগামী বছর নিয়ে আশাবাদী হওয়া উচিত কিনা। এমনকি সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতিতেও ২০২১ সালের আগে ভ্যাকসিন উপলব্ধ হবে না। তাই সংক্রমণের নতুন আরেকটি ঝড় দেখার জন্য যথেষ্ট সময় রয়েছে।

‘প্যানডেমিক ফ্যাটিগ’র মতো কিছু ঝাপসা ধারণার কথা বাদ দিয়েও ফের লকডাউনে যাওয়ার প্রতি যে অনিচ্ছা তার কারণ বোঝা যায়। এর পেছনে রয়েছে মূলত ব্যাপক পরিমাণ মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি।

উন্নয়নশীল দেশগুলোকেও এজন্য বড় মূল্য দিতে হয়েছে। বিশেষ করে সেসব দেশকে যারা বিস্তৃতভাবে দেশব্যাপী লকডাউন আরোপ করেছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় দক্ষিণ আফ্রিকার কথা। যেখানে প্রেসিডেন্ট কাইরিল রামাফোজার দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ফলস্বরূপ জিডিপির পতন হয়েছে ৫০ শতাংশের বেশি। ভারত লকডাউন দিয়েছিল মার্চের শেষদিকে। তারাও লকডাউনের কারণে মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল।

উন্নয়নশীল দেশগুলো, যাদের ওয়েলফেয়ার সিস্টেম দুর্বল তারা এ অসামঞ্জস্যপূর্ণ খরচ খুব অল্পই বহন করতে পারে। বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার গত বছরের তুলনায় বেড়েছে বলে জানা গেছে। মহামারী শেষ হওয়ার আগে এটি আরো বাড়তে পারে।

এসব কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য দ্বিতীয় ঝড়ের ধাক্কা এড়িয়ে যাওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আগেরবার এ দেশগুলো ইউরোপের অভিজ্ঞতা, জনস্বাস্থ্য কৌশল এবং পাশ্চাত্য থেকে উড়ে আসা ওষুধগুলোর কারণে সুবিধা পেয়েছিল। পাশাপাশি দেশের তরুণ জনসংখ্যাও সাহায্য করেছে হাসপাতালকে ধসে পড়ার হাত থেকে বাঁচাতে। কিন্তু এবারের শিক্ষা ইউরোপ থেকে ভিন্ন। তাই উন্নয়নশীল দেশগুলোকে পরবর্তী সময়ের লকডাউন এড়াতে এখনই সবকিছু পুরোপুরি খুলে দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এর অর্থ হচ্ছে বড় কোনো ইনডোর জমায়েত করা যাবে না, অনিয়ন্ত্রিতভাবে ভ্রমণ করা যাবে না এবং সম্ভাব্য সব সুপারস্প্রেডার ইভেন্ট বন্ধ করতে হবে এবং সামাজিক দূরত্বের নীতি মেনে চলতে হবে।

দ্য প্রিন্ট