নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে দেশে দেশে সরকার কর্তৃক কার্যকর করা লকডাউন অনেক মানুষের জন্য বিরক্তির কারণ হলেও এর কিছু ইতিবাচক দিকও আছে। একটি নাইটিঙ্গেল যদি বার্কলে স্কয়ারে (পশ্চিম লন্ডন) ডাকে, তবে তা শোনার সম্ভাবনা থাকবে আপনারও। বিশ্বব্যাপী নগরবাসী এই নীরবতা নিয়ে আনন্দিতই, কেননা নিরবচ্ছিন্ন শব্দ থেকে মুক্তি মিলেছে তাদের; বোনাস হিসেবে মিলছে পাখির গান। হাজারো গাড়ি, জাহাজ ও বিমানের আনাগোনা নেই বলে পরিষ্কার বাতাস আর চমত্কার নীল আকাশ দেখার সৌভাগ্য হয়েছে সবার।
লকডাউন উঠে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব স্মৃতি এখন অপসৃত হওয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞানীদের জন্য ওই সময়টা এসেছিল আশীর্বাদ হয়ে। যখন মানবীয় অধিকাংশ কর্মকাণ্ড থমকে গিয়েছিল তখন এমন কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিজ্ঞানীরা করতে পেরেছেন, যা সচরাচর স্বাভাবিক সময়ে অসম্ভবই।
ধ্বনিবিজ্ঞান, বায়ুমণ্ডলীয় বিজ্ঞান, সমুদ্রবিজ্ঞান ও বাস্তুসংস্থানের মতো গবেষণাগুলো লকডাউনের নীরব সময়ে সুষ্ঠুভাবে করতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাজ্যের রিডিং ইউনিভার্সিটির জলবায়ুবিদ নিকোলাস বেলোইন এ নিয়ে বলেন, ‘আমাদের একটি অসাধারণ পরীক্ষার সুযোগ করে দেয় এটি (লকডাউন)।’
অপূর্ব এই সুযোগটি কাজে লাগানোর জন্য যুক্তরাজ্যব্যাপী ‘দ্য কোয়ায়েট প্রজেক্ট’
স্কিম চালু হয়, যার সঙ্গে যুক্ত হন ধ্বনিবিজ্ঞানের প্রকৌশলী ও গবেষকরা। লকডাউনের সময় পরিপার্শ্বের শব্দের মাত্রায় কেমন পরিবর্তন আসে সে ব্যাপারে তথ্য জড়ো করা শুরু করে এই প্রজেক্ট। এখানে শব্দের মাত্রা পরিমাপ করে একটি ডেটাবেজ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছিল, কেননা ধ্বনিতাত্ত্বিক পরিবেশের জন্য এসব তথ্য অমূল্য উৎস হিসেবে কাজ করে। অর্থনৈতিক কর্মকাণেডর সঙ্গে শব্দ কতটা জড়িত কিংবা এটা কীভাবে সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলে—এসব নিয়ে কাজ করছিলেন গবেষকরা।
দ্য গার্ডিয়ান





