ঘরে হাজির হয়ে উড়ে বেড়াতে বায়ুবাহিত করোনাভাইরাসের সময় লাগে না। আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির সবচেয়ে কাছে যারা বসে তারাই সংক্রমণের উচ্চঝুঁকিতে থাকে। কিছু সময় পর করোনাভাইরাস বাতাসে ভেসে ভেসে পুরো ঘরেই ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু তাতে ঘরে অবস্থান করা সব মানুষ একই রকম ঝুঁকিতে থাকে না।
ক্লার্কসন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ও অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিস্টিংগুইশড বেয়ার্ড ডি ক্লার্কসন অধ্যাপক সুরেশ ধানিয়ালা ঘরের মধ্যে করোনাভাইরাসের চলাফেরার গতিপ্রকৃতি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। তার মতে, মানুষ এখন বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, রেস্টুরেন্টে ফিরতে শুরু করেছে। আবদ্ধ ঘরে এখন অনেক মানুষ একসঙ্গে বেশি সময় কাটাতে শুরু করেছে।
কে বেশি ঝুঁকিতে
ছোট কক্ষে ঝুঁকি বেশি। ক্লাসরুম বা বড় কোনো হলরুমে ঝুঁকি কম হলেও সব স্থানে অবস্থান করা মানুষের ঝুঁকি একই রকম হয় না।
সুরেশ ধানিয়ালা মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাস থেকে নির্গত অ্যারোসল কণার অনুরূপ অ্যারোসল পার্টিকল একটি কক্ষে ছড়িয়ে দেন। এরপর সেন্সরের মাধ্যমে সেগুলোকে অনুসরণ করেন। পরীক্ষায় ৩০ ফুট লম্বা ও ২৬ ফুট প্রশস্ত একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাসরুমকে ব্যবহার করা হয়, যেখানে ৩০ জন শিক্ষার্থী বসতে পারে। এ কক্ষের সম্মুখভাগে অ্যারোসল কণা ছাড়ার পর ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে সেগুলো পুরো কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। কক্ষের ভেন্টিলেশন ভালো হওয়ায় কণার ঘনত্ব কক্ষের পেছনের দিকে সামনের অংশের চেয়ে নব্বই শতাংশ কম। অর্থাৎ উৎস থেকে ২০-২৫ ফুট দূরে কণার ঘনত্ব দশ ভাগের এক ভাগ। তবে আক্রান্ত ব্যক্তিসহ কক্ষে অন্যদের অবস্থান যত বেশি সময় অব্যাহত থাকে সবার ঝুঁকিও তত বেড়ে যায়।
ভেন্টিলেশন কি যথেষ্ট?
ইনডোরে কভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সিডিসির প্রস্তাব হচ্ছে সংক্রমিত ব্যক্তিকে কক্ষে না রাখা। আর সেটা সম্ভব না হলে ভেন্টিলেশন, পার্টিশন শিল্ড, ফিল্ট্রেশন ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
সব ধরনের কৌশলের মধ্যে উন্নতমানের ভেন্টিলেশনই ইনডোরে সংক্রমণ হ্রাস করতে সবচেয়ে কার্যকর কৌশল। ভালো ভেন্টিলেশন বাতাসের আদান-প্রদানের হার কমিয়ে দেয়। এ হার এক ঘণ্টা মানে পুরো ঘরের বাতাস এক ঘণ্টা সময়ে নতুন বাতাস দিয়ে প্রতিস্থাপিত হবে। ঘরের জন্য বাতাসের আদান-প্রদানের হার এক ঘণ্টা হলেও হাসপাতালের জন্য তা ১৫-২৫ মিনিট করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলগুলোতে এয়ার এক্সচেঞ্জ রেট এখন ১০ মিনিট করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ঘরের যে অংশ এড়িয়ে থাকতে হবে
এটা অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে যে কোনো কক্ষের সব অংশ সমানভাবে ঝুঁকিপূর্ণ নয়। ঘরের কোণগুলোতে ঝুঁকি বেশি, কারণ সেখানে বাতাসের চলাচল কম থাকে। বাতাস নির্গমনের পথে দাঁড়ালে বুঝতে হবে পুরো কক্ষের কণা আপনার ওপর দিয়েই বয়ে যাবে। ঘরে কোনো সংক্রমিত ব্যক্তি থাকলে ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়া কণাগুলোতে জীবাণু থাকবে। তাই কক্ষের এক্সিট রুটে দাঁড়ানোটা ঝুঁকিপূর্ণ।
সায়েন্স অ্যালার্ট





