বলা হয়ে থাকে, ভারতের মুম্বাই কখনো থেমে থাকে না। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাস ব্যস্ত এ শহরকে ভুতুড়ে শহরে পরিণত করেছে। দেশের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের বড় একটি অংশের বাস ভারতের অর্থনৈতিক রাজধানী খ্যাত এ মুম্বাইয়ে। বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপে ভেঙে পড়েছে সেখানকার স্বাস্থ্যসেবা।
অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে হাসপাতালের এক বেডে দুই-তিনজন রোগীকে থাকতে হচ্ছে এবং ধারণক্ষমতা বাড়াতে এক বেড থেকে আরেক বেডের দূরত্বও কমিয়ে আনা হয়েছে। সম্প্রতি মুম্বাইয়ের সরকারি শিওন হাসপাতালের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, জরুরি ওয়ার্ডের একটি বিছানায় দুজন রোগী শুয়ে আছেন। করোনাভাইরাসের লক্ষণযুক্ত এ রোগীদের একটি অক্সিজেন ট্যাংক দুজন রোগীকে ভাগ করে দেয়া হচ্ছে, কেউ স্ট্রেচারের ওপর পড়ে রয়েছেন, আবার কেউ মেঝেতেই পড়ে রয়েছেন। কয়েক সপ্তাহ আগে ভাইরাল হওয়া আরেকটি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালটির রোগীদের পাশের বিছানাতেই কালো পলিথিনে মোড়ানো মৃতদেহ পড়ে আছে।
দুই কোটির বেশি জনসংখ্যার শহর মুম্বাই করোনাভাইরাসে ভারতের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর। সেখানে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত শনাক্তের সংখ্যা ৩১ হাজারের বেশি। ফ্রন্টলাইনের স্বাস্থ্যকর্মীরা কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হওয়ার কারণে শহরটিতে স্বাস্থ্যকর্মীদেরও ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
মুম্বাইয়ের গুরু নানক হাসপাতালে কভিড-১৯ ওয়ার্ডে কর্মরত চিকিৎসক মনিষ শেঠি বলেন, মুম্বাইয়ে জনসংখ্যার পরিমাণ ও ঘনত্ব আক্রান্তের শীর্ষ অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসাকে কঠিন করে তুলেছে। অবশ্যই প্রথম সারির কর্মীদের ক্লান্তি তৈরি হচ্ছে, কারণ স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের সংক্রমণের আশঙ্কা খুব বেশি। মুমূর্ষু রোগীদের যত্নের জন্য অবশ্যই এখানে বিছানার অভাব রয়েছে। আমার ধারণা, আগামী দিনগুলোতে আরো বেশি বিছানার দরকার হবে।
দ্য গার্ডিয়ান





