মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা ফাইজার ও বায়োএনটেকের তৈরি নভেল করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের সাফল্যের খবর এশিয়ার শেয়ারবাজারে উদ্দীপনা জাগিয়েছে। ফাইজারের মেসেঞ্জার আরএনএ ভিত্তিক এ ভ্যাকসিন ডোজগুলো মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণের প্রয়োজন পড়ে। এ খবরের পরই এশিয়ার শীতাতপ যন্ত্র তৈরির সংস্থাগুলোর শেয়ার দরে উল্লম্ফন দেখা দেয়।
দক্ষিণ কোরিয়ায় ফ্রিজ ও কুলিং সার্কুলেটর প্রস্তুতকারক দাইহান সায়েন্টিফিক কোং এবং ডিপ ফ্রিজ সরবরাহকারী ইনশিলবয়োবেস কো সংস্থার শেয়ার দর মঙ্গলবার ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গেছে। বুধবার জাপানে রান্নাঘরের রেফ্রিজারেটর প্রস্তুতকারক হোশিজাকি কর্পের শেয়ারের দাম বিগত দুই সেশনের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে এবং ফুকুশিমা গ্যালিলি কোম্পানির শেয়ার দর দুই বছরে একদিনে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পেয়েছে বুধবার। ভারতে স্নোম্যান লজিস্টিকস লিমিটেড মঙ্গলবার ১৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধির পর ঊর্ধ্বগতি বজায় রেখেছে।
বিশ্বজুড়ে লজিস্টিক ফার্মগুলো অন্যান্য ভ্যাকসিনের জন্য কোল্ড চেইন পরিচালনা করলেও তাদের যন্ত্রগুলো এত কম তাপমাত্রায় (মাইনাস ৭০ ডিগ্রি) কোনোভাবেই পৌঁছতে পারে না। অনেক অঞ্চলে কোন সংস্থাটির প্রয়োজনীয় সামর্থ্য রয়েছে—তা এখনো কেউ নিশ্চিত নয়। তবে সব সংস্থা যদি হাত মেলায়, তবে পণ্যটি পরিচালনায় সুবিধা হতে পারে।
সিকিউরিটিজ জাপান ইনকের প্রধান বাজার কৌশলবিদ মাসাউটিক ওটানি বলেন, বিনিয়োগকারীরা এ টিকা সরবরাহের যৌক্তিক অসুবিধাগুলোর দিকে খেয়াল রেখে অনুমানের ওপর নির্ভর করে সংস্থাগুলোর শেয়ার কিনছেন। বাজি ধরার এ বাজারটির এই প্রবণতা এরই মধ্যে মহামারীর বিভিন্ন ধাপে দেখা গেছে। ভেন্টিলেটর প্রস্তুতকারক থেকে শুরু করে মাস্ক, গ্লাভস, পিপিইর মতো চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহকারীদের ক্ষেত্রেও এমন প্রবণতা দেখা গেছে। নতুন পর্যায়ে এসে রেফ্রিজারেটর সংস্থাগুলো মনোযোগ পাওয়ার ঘটনায় অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে এটা এখনো স্পষ্ট নয় যে বেসরকারি খাত এ ধরনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম এবং এটা দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকবে কিনা।
বিদ্যমান সমাধানগুলো সেরা হতে পারে; বিশেষ করে যখন উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ভ্যাকসিন সরবরাহের বিষয়টি আসে। ফাইজারের ভ্যাকসিনের খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর জাপানের কনজিউমার ইলেক্ট্রনিক্স প্রস্তুতকারক টুইনবার্ডের শেয়ারের মূল্য দুটি সেশনে ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। সংস্থাটি গ্লোবাল কুলিং ইনকের সহায়তায় হিলিয়ামভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফ্রিজার বক্স তৈরি করে। এ ধরনের বক্সগুলো ফাইজারের ভ্যাকসিন পরিবহনে একটি সমাধান হতে পারে বলে একটি নোটে লিখেছেন ইউবিএস বিশ্লেষকরা। তারা লিখেছেন, এগুলো সহজেই পাওয়া যায়। এবং শুকনো বরফের সাহায্যে ভ্যাকসিন পরিবহনের জন্য এটা ব্যবহার করা যেতে পারে।
মাসাউটিক ওটানি বলেন, মার্কিন স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত ট্রেন টেকনোলজিস ইনস ও ক্যারিয়ার গ্লোবাল কর্পও এ ধরনের বক্স সরবরাহ করে। পাশাপাশি এ ধরনের শীতল বক্সের জন্য তরল নাইট্রোজেন প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোর দিকেও নজর দেয়া যেতে পারে।
ব্লুমবার্গ





