না আছে মাস্ক ব্যবহারের তাগিদ, না আছে শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার নির্দেশ। সর্বোপরি সেখানে ভাইরাসের ভয় নেই। বর্তমান সময়ে চিন্তা করাটা কঠিন যে পৃথিবীর একটা বিশাল অংশজুড়ে এমন পরিবেশ রয়েছে। এটা অ্যান্টার্কটিকা, পৃথিবীর একমাত্র মহাদেশ, যেখানে এখনো কভিড-১৯ পৌঁছতে পারেনি।

যদিও সেখানকার প্রায় এক হাজার বিজ্ঞানী ও অন্যান্য যারা বরফের ওপর দিন কাটাচ্ছে, তাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। সেখানকার ফিল্ড গাইড রব টেইলর ব্যাখ্যা করেন, প্রাক-করোনাভাইরাসের দিনগুলোতে দীর্ঘকালীন বিচ্ছিন্নতা, স্বনির্ভরতা ও মনস্তাত্ত্বিক স্ট্রেইন অ্যান্টার্কটিকা দলগুলোর জন্য সাধারণ ছিল। সে সময় বাকি বিশ্বের মানুষজন জীবনকে উপভোগ করেছে। গত অক্টোবরে অ্যান্টার্কটিকা যাওয়া টেইলর পুরো মহামারীটি মিস করেছেন। তিনি বলেন, আমরা এখানে স্কি করতে পারি, সাধারণভাবে সামাজিকীকরণ করতে পারি, দৌড়াতে পারি এবং একসঙ্গে জিম ব্যবহার করতে পারি।

কয়েকদিনের মধ্যে সেখানে নতুন দল পৌঁছবে এবং পুরনোরা বাড়ি ফিরবে। গত বছর পর্যন্ত আগত নতুনদের সঙ্গে কথোপকথন হতো তাদের প্রস্তুত করার বিষয়গুলো নিয়ে। কিন্তু এখন থেকে পরামর্শগুলো উভয় দিক থেকেই আসবে।

টেইলর বলেন, আমি নিশ্চিত যে তারা এখন আমাদের এমন অনেক কিছু জানাতে পারে, যা আমাদের বাইরের দুনিয়ার নতুন জীবনযাত্রার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করবে। আমরা কখনো সামাজিক দূরত্ব অনুশীলন করিনি।

বিশ্বে কভিড-১৯ আঘাত হানার পর অ্যান্টার্কটিকাকে ভাইরাসমুক্ত রাখতে কাউন্সিল অব ম্যানেজার অব ন্যাশনাল অ্যান্টার্কটিক প্রোগ্রাম (সিওএমএনএপি) গঠন করা ৩০টি দেশ কূটনৈতিকভাবে একত্র হয়েছিল। কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও অন্যদের মধ্যে এক অনন্য দলবদ্ধ কাজের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

সিওএমএনএপির একটি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সীমিত চিকিৎসা সুবিধা ও জনস্বাস্থ্যের প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে অ্যান্টার্কটিকার চরম পরিবেশে অত্যন্ত সংক্রামক এ ভাইরাস বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। আর যেহেতু অ্যান্টার্কটিকাতে কেবল কয়েকটি এয়ার গেটওয়ে ও জাহাজের মাধ্যমে পৌঁছা যায়, তাই ভাইরাসটিকে মহাদেশে পৌঁছা রোধ করতে অবিলম্বে চেষ্টা করা উচিত।

সিওএমএনএপি সতর্ক করে, পর্যটকদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করার দরকার নেই। কোনো ক্রুজ জাহাজকে আর অবতরণ করতে দেয়া উচিত নয়। এছাড়া একে অন্যের কাছাকাছি অবস্থিত দলগুলো সদস্যদের পারস্পরিক পরিদর্শন ও সামাজিক ক্রিয়াকলাপ বন্ধ করে দিতে হবে।

কর্মীরা বহু আগে থেকে হাত ধোয়া ও হাঁচি শিষ্টাচার মেনে আসছিল, পাশাপাশি সিওএমএনএপি তাদের মুখমণ্ডল স্পর্শ না করার নির্দেশনা দেয়। এ নির্দেশনাগুলোই প্রাণঘাতী ভাইরাসটি থেকে এখনো মহাদেশটিকে বাঁচিয়ে রেখেছে।

ম্যাকমুরডো স্টেশনে সম্প্রতি সদস্যদের মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব পালনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। স্টেশনটির ম্যানেজার এরিন হের্ড বলেন, বিমান থেকে নেমে আমি কোনো বন্ধুকে নিতে আসতে বলতে পারব না। এটা অত্যন্ত অদ্ভুত হবে। সত্যি বলতে বিষয়গুলো ভিন্ন গ্রহের মতো মনে হচ্ছে।

হাফপোস্ট