রেজি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বুলিমিয়া ব্যাধির সঙ্গে বাস করছেন। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের ৩১ বছর বয়সী বাসিন্দা ছয় বছর আগে তার খাওয়ার ব্যাধি নিয়ে থেরাপি নিতে শুরু করেছিলেন। যদিও এ পর্যন্ত কখনোই তিনি একেবারে নিরাময় বোধ করেননি। তবে তিনি রোগটি থেকে সেরে ওঠার এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন, যা তাকে আশাবাদী করে তুলেছিল। এর পরই কভিড-১৯ মহামারী এসেছিল।

মার্চ মাসে যখন অস্ট্রেলিয়ার বাধ্যতামূলক লকডাউন শুরু হয়েছিল, তখন রোজির উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল। তিনি বলেন, আমি অবিবাহিত, একা থাকি, আমার পরিবার অন্য রাজ্যে বাস করে এবং আমি বন্ধুবান্ধবকে দেখতে পাচ্ছি না। আমার সবকিছুই যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল। মহামারীটি রোগটির লক্ষণগুলো ফিরে আসতে ভূমিকা রেখেছিল। আমি আমার অসুস্থতা পরিচালনার বিষয়ে সবই জানতাম, কিন্তু আইসোশেনের এ সময়ে সেগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা খুব কঠিন ছিল।

রোজি এমন একটি অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, যা ২০২০ সালের হঠাৎ মহামারীর কারণে খাদ্যাভ্যাসের বিভিন্ন সমস্যায় ভোগা সবারই পরিচিত। সাম্প্রতিক গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে মহামারী-সংক্রান্ত বাড়িতে থাকার নির্দেশগুলো মারাত্মক ক্ষুধামান্দ্য, বুলিমিয়া ও অতিরিক্ত খাওয়ার লক্ষণগুলোকে বাড়িয়ে তুলেছে। বুলিমিয়া হলো শরীরের ওজন কমানোর আবেগপূর্ণ ইচ্ছাসংক্রান্ত একটি মানসিক ব্যাধি। অত্যধিক খাবার গ্রহণের পর হতাশা থেকে মূলত এমনটা হয় এবং এটার সঙ্গে স্ব-উৎসাহিত বমি, শুদ্ধি বা উপবাস জড়িত।

ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ইটিং ডিসঅর্ডারে গত মাসে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা থেকে জানা গেছে, মহামারীর প্রথম কয়েক মাসে ক্ষুধামান্দ্য রোগে আক্রান্ত অনেক ব্যক্তির খাওয়া আরো বেশি সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। এদিকে বুলিমিয়া ও অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাসে ভোগা মানুষজন আরো বেশি খাবার গ্রহণের রিপোর্ট করেছে। উত্তরদাতারা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কভিড-১৯-এর প্রভাব সম্পর্কে বর্ধিত উদ্বেগ ও চিন্তার বিষয়টি উল্লেখ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫১১ এবং নেদারল্যান্ডসের ৫১০ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ বলেছে, তাদের খাদ্যাভ্যাসের সমস্যা বেড়েছে। তারা এ পরিবর্তনের কারণ হিসেবে কাঠামোর অভাব, একটি নতুন পরিবেশ, সামাজিক সহায়তার অনুপস্থিতি এবং খাবারের পরিকল্পনার সঙ্গে খাপ খায় এমন খাবারগুলো গ্রহণ করতে অক্ষমতার মতো বিষয়গুলোকে দায়ী করেছেন।

গবেষণাটিতে জড়িত নয় এমন একজন বিশেষজ্ঞ ন্যাশনাল ইটিং ডিসঅর্ডার অ্যাসোসিয়েশনের সিইও ক্লেয়ার মাইস্কো বলেছেন, যদিও খাওয়ার ব্যাধিগুলোর কারণ সম্পর্কে কেউ নিশ্চিতভাবে জানে না, তবে সর্বসম্মতিতে প্রস্তাব করা হয়েছে, জৈবিক, মনস্তাত্ত্বিক ও আর্থসাংস্কৃতিক বিষয়গুলো খাদ্যাভ্যাসের সমস্যার জন্য দায়ী। যারা এ সমস্যাগুলোর সঙ্গে লড়াই করে তাদের অনেকেরই উদ্বেগ বা হতাশার মতো অবস্থা রয়েছে।

গবেষণাটির সিনিয়র লেখক নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্থিয়া এম বুলিক বলেছেন, মহামারীর কারণে অনেকেরই উদ্বেগ ও হতাশা বেড়েছে এবং এ বৃদ্ধি খাদ্যাভ্যাসের সমস্যা বাড়িয়ে তুলেছে। মহামারীর কারণে খাদ্যের সহজলভ্যতা হ্রাসও এখানে ভূমিকা রেখেছে।

গবেষণাটির প্রধান লেখক মেরিতা কুপারের মতে, খাওয়ার ব্যাধিগুলো পরিচালনা ও চিকিৎসাযোগ্য। প্রমাণভিত্তিক অধিকাংশ লোক সুস্থ হয়ে ওঠে। আমাদের কেবল চিকিৎসাপ্রাপ্তির বিষয়টি উন্নতি করতে হবে এবং এই চিকিৎসা নিয়ে ভ্রান্ত ধারণাগুলো বাদ দিতে হবে।

সায়েন্টিস্ট আমেরিকান