একসঙ্গে বসবাসকারী কিংবা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কভিড-১৯ খুব সহজেই ছড়াতে পারে, এমনকি সংক্রমিত ব্যক্তির মধ্যে কোনো উপসর্গ দেখা দেয়ার আগেই তিনি অন্যদের সংক্রমিত করতে পারেন। ‘উপসর্গহীন সংক্রমণ’
নিয়ে সম্প্রতি করা এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য।
দ্য ল্যানসেট ইনফেকশাস ডিজিজ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে আরো বলা হয়, সার্স (২০০২-০৩) কিংবা মার্সের (২০১২) চেয়েও কভিড-১৯ রোগের ভাইরাস সার্স-কোভ-টু সহজে পরিবারের অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে যায়।
চীনের গুয়াংজুতে ‘কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং’
তথ্য ব্যবহার করে ৩৪৯ জন কভিড-১৯ রোগী ও তাদের খুব কাছাকাছি আসা আরো ১ হাজার ৯৬৪ জন মানুষের ওপর গবেষণা করা হয়। তাতে দেখা যায়, কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীরা প্রকৃতরূপে অসুস্থ হওয়ার আগেই অন্যদের জন্য সংক্রামক ছিল। এই গবেষক দল মনে করে, পরিবারে অন্যদের মধ্যে সার্স-কোভ-টু সংক্রমণের সামর্থ্য ষাট কিংবা তার বেশি বয়সী মানুষেরই বেশি। আবার ২০ ও তার নিচের বয়সীদের মধ্যে সংক্রমণের হার সবচেয়ে কম।
গবেষণা বলছে, সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করতে পারা ও আইসোলেশন করানো এবং তাদের সংস্পর্শে আসা অন্যদের সঠিক সময়ে খুঁজে বের করা ও কোয়ারেন্টিন প্রক্রিয়ায় রাখার মধ্য দিয়েই পরিবারের মধ্যে সংক্রমণ প্রক্রিয়ায় ছেদ ঘটানো গেছে এবং এটি কভিড-১৯ সংক্রমণ হ্রাসের ক্ষেত্রেও বিরাট প্রভাব ফেলেছে। কভিড-১৯ নিয়ে গবেষণা চলছে এবং কোনো কিছুর ব্যাপারেই গবেষকরা চূড়ান্ত যতিচিহ্ন টানতে নারাজ। এই মডেলের গবেষকরাও সতর্ক করে দিয়ে বললেন, গবেষণার কাজে অনেকগুলো অনুমানের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে তাদের। যেমন ইনকিউবেশনের (রোগ-জীবাণুর উন্মেষপর্ব) সময়কাল ও উপসর্গ থাকা রোগীরা কতদিন পর্যন্ত সংক্রামক থাকে—এসব বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এতে অনুমান যথাযথ হওয়া নিয়েও সংশয় থাকে।
গবেষক দলের অন্যতম ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটির ইয়াং ইয়াং বলেন, ‘আমাদের বিশ্লেষণ এ পরামর্শ দিচ্ছে—উপসর্গ থাকার আগে কভিড-১৯ রোগীর সংক্রমণ ঘটানোর সম্ভাবনা অনেক বেশি এবং এটি চলমান মহামারী দমনের কাজটিকে যথেষ্ট কঠিন করে তুলতে পারে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইনকিউবেশন সময়কালে কভিড-১৯ রোগী যাতে ভাইরাসটি না ছড়াতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে হলে এমন কেস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে আইসোলেশনে পাঠানোর পাশাপাশি দ্রুত ও ব্যাপকভিত্তিক কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং করে তার কাছাকাছি আসা মানুষদের কোয়ারেন্টিনে রাখতে হবে।’
যারা একই পরিবারে বসবাস করে তাদের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের হার ১৭ দশমিক ১ শতাংশ—প্রায় ৬ জনের মধ্যে একজন। আবার একই ঠিকানায় বসবাসকারী মানুষদের মধ্যে একই পরিবারের সদস্যদের সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এ নিয়ে ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটির নাতালি ডি বলেন, ‘একই পরিবারের সদস্য হলেও বাবা-মা ও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরা অনেক সময় একই ঠিকানায় থাকে না, এক্ষেত্রে তাদের সেকেন্ডারি সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেক কম থাকে, যতটা না থাকে কভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে একই ঠিকানায় বসবাসকারীদের।’
তিনি আরো বলেন, ‘একই পরিবারে বসবাসকারীদের মধ্যে কভিড-১৯ সংক্রমণের হার অনেকটা কম হলেও তা সার্স (৪.৬ থেকে ৮ শতাংশ) ও মার্সের (৪ থেকে ৫ শতাংশ) দ্বিগুণেরও বেশি। যদিও এই তথ্য পাওয়া গেছে অত্যন্ত ছোট পরিসরের গবেষণা থেকে।’
গবেষকরা বলছেন, অসুস্থ হয়ে পড়া অবস্থায় একজন কভিড-১৯ রোগী যতটা সংক্রামক হন, তার চেয়ে ইনকিউবেশনের সময়েই তার সংক্রমণ ঘটানোর আশঙ্কা বেশি থাকে।
হিন্দুস্তান টাইমস





