ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে ৩১ টন স্বর্ণ জমা রাখা আছে লাতিন দেশ ভেনেজুয়েলার। ২০১৮ সাল থেকে সেই স্বর্ণ বুঝে নিতে চেয়েও পারেনি তারা। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশকিছু দেশ নিকোলাস মাদুরোর সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি বলে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড স্বর্ণও বুঝিয়ে দিতে গড়িমসি করে এসেছে। কিন্তু এখন নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর সময় ১০০ কোটি ডলার মূল্যের স্বর্ণ ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানায় ভেনেজুয়েলা, যা বিক্রি করে তারা খাদ্য ও মেডিকেল সরঞ্জামাদি কিনতে পারবে। কিন্তু ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সাড়া না দেয়ায় বাধ্য হয়ে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ভেনেজুয়েলা। লন্ডনের এক কমার্শিয়াল কোর্টে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
কভিড-১৯-এর কারণে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম পড়ে গেছে, ফলে বিপাকে তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলা। অর্থনীতি বাঁচিয়ে রাখতে এখন মজুদ রাখা স্বর্ণের সাহায্য নিতে চায় মাদুরোর সরকার। যদিও তাদের সেই আশায় বাদ সেধেছে বিশ্বরাজনীতি।
গত মাসে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডকে ১০০ কোটি ডলার দামের স্বর্ণ ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ভেনেজুয়েলা। এই অর্থ তারা জমা করতে চায় জাতিসংঘের ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে (ইউএনডিপি), যাদের
মাধ্যমে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় খাদ্য ও সরঞ্জামাদি কিনতে পারবে দেশটি। কিন্তু সেই অনুরোধে ইংল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি সাড়া না দেয়ায় তারা আইনি পথে হাঁটল।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংক চায় খাদ্য ও ওষুধের মতো দ্রব্যাদি কিনতে ‘জরুরি ভিত্তিতে’
যেন অর্থ ট্রান্সফার করা হয়। দেশটিতে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৬১৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন। তবে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ বলেছে, সংক্রমণ বেড়ে গেলে বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।
প্রেসিডেন্ট মাদুরোর নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে বিপর্যয় ঘটেছে, যার সরকারকে স্বীকৃতি দেয় না যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রায় এক ডজন দেশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি ছেড়ে পালিয়েছে বহু মানুষ। এখন সেখানে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সংকট চরমে। তাই মজুদ রাখা স্বর্ণ বিক্রির মাধ্যমে মাদুরো সরকারের অর্থনীতিতে প্রাণ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের কাছ থেকে ১০০ কোটি ডলার দামের স্বর্ণ বুঝে পেতে ১৪ মে ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে লন্ডনের কোর্টে মামলা করা হয়। ভেনেজুয়েলার পক্ষে মামলাটি লড়ছেন লন্ডনভিত্তিক আইনজীবী সরোষ জাইওয়ালা। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘জীবন যেখানে সংকটাপন্ন, তখন তো রাজনৈতিক ফায়দা তুলে নেয়ার সময় না। দেশটিতে কভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের যে অঙ্গীকার করেছে সরকার ও জাতিসংঘ, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের কারণে এখন তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে ভেনেজুয়েলার আবেদনের ব্যাপারটি নিশ্চিত করা হয়েছে। এদিকে, বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের স্বর্ণ নিজেদের ভল্টে মজুদ রাখা ব্যাংক অব ইংল্যান্ড এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বলে জানায় রয়টার্স।
ভেনেজুয়েলার ধুঁকতে থাকা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা করোনাভাইরাস রুখতে কতটা সক্ষম, সেই প্রশ্ন যখন উঠেছে ঠিক তখনই এল আইনি বিবাদ। গত মার্চ থেকে কঠোর কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আছে মাদুরোর দেশ, যখন সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।
বিবিসি ও গার্ডিয়ান





