জার্মানির বার্লিনে কোয়ারেন্টিনে থাকা শিল্পী, কিউরেটর ও লেখকরা তাদের জানালা ও বারান্দাগুলোকে ক্ষুদ্র আর্ট গ্যালারিতে রূপান্তরিত করেছেন। ক্রিয়েটিভ ওভাল দুরমুসোগলু ও জোয়ানা ওয়ার্সা আয়োজিত বার্লিনের প্রেঞ্জালাওয়ার বার্গ পাড়ায় রোববার ও সোমবার শিল্পীরা সৃজনশীল বার্তা হিসেবে ‘জীবন, শিল্প, মহামারী, নৈকট্য’
ফুটিয়ে তুলেছিলেন। প্রায় ৫০ জন শিল্পী এ অপ্রচলিত প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে তাদের বারান্দা ও জানালায় তাদের কাজ দেখিয়েছিলেন।
আর্টনেট নিউজের খবরে বলা হয়েছে, ১০ এপ্রিল পর্যন্ত পুরো বার্লিন লকডাউনে থাকলেও দুরমুসোগলু ও ওয়ার্সার তৈরি মানচিত্র অনুসরণ করে হাঁটতে আসা বাসিন্দাদের অস্থায়ী এ শিল্পকর্মগুলো দেখাতে সক্ষম হয়েছিলেন। দর্শনার্থীদের ভিড় এড়াতে ম্যাপটি কয়েকটি রাস্তাকে নির্দেশ করেছিল। মানচিত্রে কিউরেটররা লিখেছিলেন, ব্যক্তিগত বারান্দাগুলো পাবলিক অ্যাপারচার হিসেবে কাজ করে।
বার্লিনের পানকো জেলার অন্তর্গত ট্রেন্ডি প্রেঞ্জালাওয়ার বার্গ পাড়াটি সৃজনশীল ও কফিশপের জন্য পরিচিত। সাদা-কালো ছবি, ফ্যাব্রিকের নানা নকশা ও শৈলীর শিল্প এবং কাপড়ে লেখা পঙিক্ত ও কবিতা দিয়ে বারান্দাগুলো একেকটা ক্ষুদ্র আর্ট গ্যালারি হয়ে ওঠে।
একটা আর্টওয়ার্কে চতুর্থ তলার জানালা থেকে টয়লেট পেপার ঝুলিয়ে রাখতে দেখা যায়, যা মহামারীতে এটা সংরক্ষণের বার্তা দেয়। আরেকটি জানালায় প্রিন্ট করা কাগজে জাপানের ধারণামূলক শিল্পী কাওয়ারার ‘টুডে সিরিজ’-এর ইঙ্গিত করা হয়েছে। সেখানে নীল ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপর টেক্সট দিয়ে দিনের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। উপমা হিসেবে বার্লিন প্রতীক স্বাক্ষর রয়েছে ‘১২.০৪.২০২০/আমি সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে উঠেছি।’
বারান্দায় নীল-সাদা ভাস্কর্য ঝুলিয়ে রাখা শিল্পী রাউল ওয়ালচ আর্টনেট নিউজকে বলেছেন, ‘লকডাউন মানে চিন্তাগুলো লক করে রাখা নয়। শিল্প ও শিল্পীরা সর্বজনীন হওয়ার জন্য সর্বদা নতুন নতুন উপায় খুঁজে বের করবেন।’
স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন





