নভেল করোনাভাইরাসের কারণে বিপর্যস্ত এক সময় পার করছে পৃথিবী। যদিও প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলের দেশগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার চেষ্টা করছে। কোনো কোনো দেশ লকডাউনের যেসব বিধিনিষেধ তা-ও শিথিল করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এটা নিশ্চিত যে লকডাউন কাটিয়ে পৃথিবী পুরোপুরি কভিড-১৯-পূর্ববর্তী জীবনে ফিরতে পারবে না। করোনাকালের কিছু অভ্যাস মানুষের জীবনে স্থায়ী হয়ে যাবে। তার মাঝে একটি হচ্ছে ফেস মাস্ক পরার অভ্যাস, যা কিনা জনসাধারণের নিরাপত্তাকেও হুমকিতে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও বলেছেন, মাস্ক মানুষকে সাহায্য করবে। তাদের মাঝে এ আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনবে যে তারা চাইলে এখন বাইরে যেতে পারবে।
কিন্তু এটি এমন একটি নতুন সমাজের কথা বলছে, যেখানে মানুষ একজন আরেকজনের কাছ থেকে নিজের চেহারা আড়াল করবে অপরাধের সুদূরপ্রসারী প্রভাব, নিরাপত্তা ও সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার অংশ হিসেবে।
ইউনিভার্সিটি অব কিংসটনের ক্রিমিনোলজি বিভাগের সিনিয়র লেকচারার ফ্রান্সিস ডডসওর্থ বলেন, মাস্ক পরার মূল সমস্যা হচ্ছে হঠাৎ করেই মানুষ তাদের মুখ ডেকে ফেলছে। এটা এখন সেসব মানুষের জন্য সুযোগ করে দিচ্ছে, যারা খারাপ উদ্দেশ্যে নিজেদের মুখ ঢেকে রাখতে চাইছে এবং কেউ তাদের সন্দেহও করবে না।
অনেক এশীয় দেশ সার্সের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে মাস্ক পরা শুরু করেছে। যেখানে এক দশক ধরে তারা এ চর্চা করছে। কিন্তু এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মুখোশধারীদের অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেস মাস্ক এখন অপরাধের তদন্তকেও জটিল করে তুলছে। যেখানে মুখ দেখে অপরাধীকে চিহ্নিত করা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সাক্ষ্য প্রদান করাও তাই এখন কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সিএনএন





