সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, কভিড-১৯-এর কারণ সার্স-কোভ-২ ভাইরাস নয়, বরং চৌম্বকীয় অসংগতি। এরপর রীতিমতো উপহাসের বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে এ গবেষণা। এমনকি যে সাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, সেখান থেকে এরই মধ্যে সাময়িকভাবে প্রত্যাহারও করা হয়েছে। গবেষক দলের প্রধান এবং যে জার্নাল এটি প্রকাশ করেছে তাদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে ‘দ্য সায়েন্টিস্ট’কে। গত ৮ অক্টোবর ‘সায়েন্স অব দ্য টোটাল এনভায়রনমেন্ট’ ম্যাগাজিনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় গবেষণাপত্রটি। কিন্তু প্রকাশের পরই এটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। অন্য গবেষকরা অনুরোধ করেন এটি প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য।

জিওবায়োলজিস্ট জো কিরশভিঙ্ক বলেন, এ রকম একটি গবেষণাপত্র, যা কিনা পিয়ার রিভিউড জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, তা এটা অন্য গবেষকদের হাসির পাত্র করে তুলেছে। পাশাপাশি এটা বেশ ক্ষতিকর ব্যাপারও বটে।

এ গবেষণার প্রধান ইউনিভার্সিটি অব পিটাসবার্গের জনস্বাস্থ্য বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর মোসেস বিলিটি। তিনি দ্য সায়েন্টিস্টকে বলেছেন, এ গবেষণার উত্পত্তি গত বছরের শেষ দিকে। যখন ল্যাবে কিছু ইঁদুর অপ্রত্যাশিতভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে, ফলে সেগুলোকে মেরে ফেলতে হয়। তিনি বলেন, আমি স্নাতকে পড়ার সময় থেকেই প্রাণীদের নিয়ে কাজ করে আসছি। এমন কিছু এর আগে কখনই দেখিনি। মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে স্বাস্থ্যবান কিছু প্রাণী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং শ্বাস নিতে পারছিল না।

পরে রহস্য উদ্ধারের জন্য ইঁদুরগুলোর টিস্যু পরীক্ষা করে দেখা হয়। তিনি তখন তাদের ফুসফুস ও কিডনিতে পরিবর্তন দেখতে পান। যার সঙ্গে তিনি কিছুদিন আগে পড়া ই-সিগারেট বা ভেপিংয়ের কারণে মৃত্যুর সঙ্গে মিল খুঁজে পান। (ই-সিগারেটে যে ই-লিকুইড ব্যবহার করা হয় তা অনেক সময় সরাসরি ফুসফুসকে আক্রান্ত করে, যার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে।)

বিলিটি এরপর মানুষের ভেপিং ইনজুরির সঙ্গে ল্যাবের ইঁদুরের মধ্যে সম্পর্ককে সন্দেহ করতে শুরু করেন। উভয় ক্ষেত্রেই তিনি ফুসফুসে জমা হওয়া আইরন অক্সাইড দায়ী বলে ধারণা করেন। তিনি বলেন, আমার যুক্তি ছিল উভয়ের ফুসফুসে (বাষ্প থেকে) জমা হওয়া আইরন অক্সাইডটি কোনো না কোনোভাবে লিথোস্ফোরি চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এর ফলে একটি প্রক্রিয়া চালিত হয় যাকে বলা হয় চুম্বকীয় অনুঘটক। এটি মূলত স্পিন কেমিস্ট্রির সঙ্গে করতে হবে। আর কোনো কারণে  আমাদের প্রাণীদের মধ্যে অনিয়ম ছিল। কারণ তারা ইমিউনোডেফিসিয়েন্ট (অনাক্রম্য) ছিল, তাদের আয়রনে যা একই ধরনের যোগাযোগ ঘটতে দেয়।

এ ধারণা বিলিটি গত বছরের নভেম্বরে রিসার্চগেটে একটি প্রিপ্রিন্ট পোস্ট করেন। জিজ্ঞেস করা হয়, এটিকে ইমিউনোডিফিসিয়েন্সির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল, কিন্তু একই ঘটনা ইমিউনোডিফিসিয়েন্ট মানুষের ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়নি। তিনি বলেন, সব প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই। আমি জানি না, মানুষ কতটা ভালোভাবে খুঁজেছে।

এরপর এ বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে একই প্যাথলজিতে আরো ইঁদুর মারা গেল। বিলিটি সময়কালটিকে সংযুক্ত করেছিলেন, যা বসন্ত বিষুবের নিকটবর্তী। যা তার মতে, চৌম্বকীয় ক্ষেত্রে পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত, যখন যুক্তরাষ্ট্রেও কভিড-১৯-এর সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। গবেষণাপত্রে তিনি ও তার সহযোগীরা বলেন, সার্স-কোভ-২ আগে থেকে বিদ্যমান ছিল। এটি মানব জিনোমের এন্ডেজেনাস ভাইরাস। যা বৈশ্বিক চৌম্বকক্ষেত্রের পরিবর্তনের প্রভাব দ্বারা পুনঃজাগ্রত হয়। তার মতে, চৌম্বকীয় ক্ষেত্র দ্বারা অনুঘটিত হওয়া শরীরের অন্যান্য রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে এ রোগটি সৃষ্টি হয়।

তবে কিরশভিঙ্ক বলেন, এ গবেষণাপত্রে একাধিক মৌলিক ত্রুটি রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য জিওম্যাগনেটিকস গবেষকও গবেষণাপত্রটি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। কভিড-১৯ নিয়ে চলমান গবেষণার ক্ষেত্রেও এমন প্রতিবেদন ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।

দ্য সায়েন্টিস্ট