নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর গত এপ্রিলে ভাইরাস শনাক্তকরণ অ্যাপ ‘আরোগ্য সেতু’র উদ্বোধন করে ভারতীয় সরকার, যা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ডাউনলোড করা ছিল বাধ্যতামূলক।

এই নির্দেশ শিগগিরই বেসরকারি খাতের কর্মীদেরও পালন করতে হয়। এরপর তা যায় কভিড-১৯ জোনে। নয়াদিল্লির পূর্বে নয়ডা শহরে এমনই এক জোনে বসবাস করেন ৫০ বছর বয়সী কেমিস্ট রাজীব ঘোষ।

গত মে মাসে এই অ্যাপটি ডাউনলোড না করলে ছয় মাসের জেল কিংবা ১৫ ডলার জরিমানা গোনার ঝুঁকির মুখে পড়েন তিনি। কিন্তু রাজীব ঘোষ একে পাত্তা দেননি। রাজীবের উদ্বেগের জায়গাটি হলো—এই তথ্য ভবিষ্যতে কীভাবে, কোথায় ব্যবহূত হবে তা নিয়ে। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত নই, সরকার কীভাবে আমার তথ্য ব্যবহার করবে। তারা চাইলে এ অ্যাপের মাধ্যমে আমার অবস্থান সারা জীবন চিহ্নিত করতে পারবে।’

এই অ্যাপ নিয়ে দুশ্চিন্তা শুধু রাজীব ঘোষের একারই নয়। নয়ডা, গ্রেটার নয়ডার বাসিন্দা ও সুশীল সমাজ আরোগ্য অ্যাপের বাধ্যতামূলক ডাউনলোডের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যান। তাতে কাজও হয়। মে মাসের শেষ নাগাদ ওই অঞ্চলে বাধ্যতামূলক ডাউনলোডের নির্দেশটি তুলে নেয়া হয়। রিটকারী নাগরিকদের যুক্তি হলো—২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার যে অধিকার দেয়া হয়েছিল সেই স্বাধীনতা এখন ক্ষুণ্ন করছে আরোগ্য অ্যাপ।

ভারত সরকার বলছে, পরিশেষে সব ব্যক্তিগত ও অবস্থানগত তথ্য মুছে ফেলা হয়। যদিও সমালোচকরা এ কথায় আশ্বস্ত হতে পারছেন না। তাদের যুক্তি হলো ভারতে তথ্য সুরক্ষা আইনের ঘাটতি থাকায় মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা হুমকির মুখে। তাদের ভয়, ব্যক্তিগত তথ্যগুলো বেসরকারি খাতের কোম্পানির কাছে বিক্রি করতে পারে সরকার, কিংবা এই তথ্য করোনা-উত্তর সময়ে ব্যবহার করা হবে। 

সিএনএন